সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের সাধারণ মানুষদের কথা মাথায় রেখে একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করে রেখেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ঠিক তেমনই কৃষকদের জন্য চালু করা সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প কৃষক বন্ধু (Krishak Bandhu Scheme)। তবে এবার এই প্রকল্পে ভূমিহীন খেত মজুদদেরও আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছে নবান্নের তরফ থেকে। হ্যাঁ, রবি এবং খারিফ দুই মরসুমে ২০০০ টাকা করে মোট ৪০০০ টাকা বছরে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে। রবিবার থেকে এই প্রকল্পের ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে। তবে যারা সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করবেন, তাদের নিয়ে সন্ধিহান সরকার।
ভূমিহীন ক্ষেতমজুররা আদৌ কর্মহীন কিনা তা যাচাই করার জন্য এবার সরকারি স্তরে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মিলছে না। সেই কারণে আবেদনপত্রের সঙ্গে থাকা স্ব-ঘোষণাপত্রের উপর নির্ভর করেই ক্ষেত মজুরদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তার সঙ্গে আবেদনকারীর আধার কার্ড, আধার সংযুক্ত মোবাইল নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের জেরক্স আর ভোটার কার্ড দিতেও বলা হয়েছে। ভূমিহীন কৃষকদের ক্ষেত্রে মূলত অন্যের জমির উপর নির্ভরশীলতাকেই যোগ্যতা হিসেবে ধরবে কৃষি দফতর, এমনটাই জানানো হয়েছে নবান্নের তরফ থেকে। এমনকি সেই কৃষক ভাগচাষী নন বা নিজের নামে কোনও জমি নেই তাও জানাতে হবে। তথ্যে কোনও ভুল থাকলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে সরকারের তরফ থেকে।
থেকে যাচ্ছে বড়সড় প্রশ্ন…
তবে এক্ষেত্রে উঠছে প্রশ্ন। কারণ, যাদের জমি রয়েছে অথচ কৃষক বন্ধু পান না, কিন্তু আবার অন্যের জমিতে ক্ষেতমজুর হিসেবে কাজ করেন, তারা কি এই কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় আসবে? পাশাপাশি ভূমিহীন হলেও বাস্তবে যারা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করে, তাদের আবেদন করলেও কি সমস্যা হবে? তবে প্রশাসন মনে করছে, এই কারচুপি ধরা সত্যিই কঠিন। সহজে বুঝে ওঠা যাবে না। কারণ, সমস্ত প্রকল্পের উপভোক্তার তথ্য রাজ্যের কাছে নেই। আর সেক্ষেত্রে ধরে ধরে যাচাই করতে হলে তা যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হবে। আর সরকারের নির্দেশে বলা হয়েছে, আবেদনের পরে কৃষি দফতরের আধিকারিকরাই তা যাচাই করবে।
আরও পড়ুন: ইউনূস যাওয়াতে বাংলাদেশের সব ভিসাকেন্দ্র চালুর পথে ভারত
এ বিষয়ে সিপিএমের খেতমজুর সংগঠনের নেতা মিজানুর রহমান স্পষ্ট বলেছেন যে, আমাদের ধারণা মোট খেতমজুরের অন্তত ১৫ থেকে ২০% ভূমিহীন। ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে ৪০০০ টাকায় ভূমিহীনদের কী উন্নতি করতে চাইছে সরকার? সবই ভোটের আগে চমক। পাশাপাশি বিজেপির কিষান মোর্চার রাজ্য সভাপতি রাজীব ভৌমিক বলেছেন, এই সমস্ত চমক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করতে চাইছেন। যে হারে ধার করে প্রকল্পগুলি চালানো হচ্ছে, তাতে আবেদনকারীরাও জানেন যে ভোটের পরে এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও তৃণমূলের কৃষি কর্মদক্ষ মেহেবুব মণ্ডল জানিয়েছেন যে, কৃষক বন্ধু প্রকল্প চালুর সময় বিরোধীরা সমালোচনা করেছিল। আর এখন খেতমজুরদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমালোচনা করছে। তবে রাজ্যের কৃষক পরিবাররা জানেন যে, মুখ্যমন্ত্রী তাদের পাশে কীভাবে রয়েছেন।












