মোথাবাড়ি কাণ্ডে প্রথম গ্রেফতারি NIA-র, পাকড়াও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য

Published:

Mothabari Incident

সৌভিক মুখার্জী, মোথাবাড়ি: সম্প্রতি মালদার (Malda) মোথাবাড়িতে বিচারকদের উপর হামলার অভিযোগকে (Mothabari Incident) ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। আর সেই নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় প্রথম সাফল্য পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। হ্যাঁ, এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে গোলাম রব্বানি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে ফেলল তদন্তকারীরা। জানা যাচ্ছে, ধৃত ব্যক্তি মোথাবাড়ি এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য তথা আইএসএফ কর্মী।

কেন গ্রেফতার করা হল তাঁকে?

এনআইএ সূত্রে খবর, গোলাম রব্বানিকে গ্রেফতারের পেছনে মূলত দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, গত ১ এপ্রিল মোথাবাড়িতে বিচারকদের উপর হামলা, তাঁদের দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে রাখা এবং রাতে উদ্ধারের সময় গাড়ি তাড়া করা আর রাস্তায় গাছ ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। আর সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই তাঁকে চিহ্নিত করা গিয়েছিল। এমনকি ঘটনার দিন ওই এলাকায় বিপুল জমায়েত কারা করেছিল এবং নেপথ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কিনা তা জানার জন্য রব্বানিকে দীর্ঘক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর তাঁর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য মেলায় তদন্তকারীরা তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বলে দিই, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ পর্যবেক্ষণের জন্য সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বা জুডিশিয়াল অফিসার মালদার মোথাবাড়িতে গিয়েছিলেন। এমনকি তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা বিচারকও ছিলেন। অভিযোগ ওঠে, ১ এপ্রিল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁদের একটি জায়গায় আটকে রাখা হয় আর নজরবিহীনভাবে হেনস্থা করা হয়। এমনকি রাত্রিবেলা কেন্দ্র বাহিনী গিয়ে তাঁদেরকে উদ্ধার করে। কিন্তু সেই সময় বিচারকদের গাড়ি লক্ষ্য করে ধাওয়া করা হয়। আর রাস্তায় বাঁশ ফেলে আটকানোর চেষ্টা করা হয়।

আরও পড়ুন: “আজ মধ্যরাত থেকে অপারেশন শুরু হবে!” কী বোঝাতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

দেশের বিচারকদের উপর এরকম হামলায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয় সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে সর্বোচ্চ আদালত এই মামলার তদন্তভার সরাসরি এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। এমনকি সেখানে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি তদারকিতে তদন্ত চলছে। আর এনআইএ-কে মামলার রিপোর্ট সরাসরি আদালতকে জমা দিতে বলা হয়েছে।