৯২-এ চিরবিদায় ‘চৌরঙ্গী’র স্রষ্টা শংকরের, শোকপ্রকাশ মমতার

Published:

Mani Sankar Mukherjee
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলা সাহিত্যজগতে বড় নক্ষত্রপতন…. ৯২ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (Mani Sankar Mukherjee)। আজ পিয়ারলেস হাসপাতালে দুপুর ১২টা ৪৫ নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অন্ধকার নেমে আসে সাহিত্য দুনিয়ায়। এ যেন এক যুগের অবসান। তাঁর এই মৃত্যুসংবাদে শোকস্তব্ধ গোটা বাঙালি জাতি। শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

না ফেরার দেশে চলে গেলেন শংকর

মাস খানেক আগে প্রবীণ সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায়, শারীরিক কিছু অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সুস্থ হয়েছিলেন কিছুটা। তবে, শরীরে বড় ধরণের টিউমার ধরা পড়ে। কিন্তু, বয়সের কারণে, অপারেশনের থেকে সরে আসেন চিকিৎসকরা। ধীরে ধীরে আরও ভেঙে পরে শরীর। চিকিৎসাধীন ছিলেন বেশ কয়েকদিন, কিন্তু শেষপর্যন্ত সকলকে নিরাশা করে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। শংকরের কলমে ফুটে উঠত মহানগরীর জীবনযাত্রা আর সাধারণ মানুষের সংগ্রামের গল্প। তাঁর একাধিক উপন্যাসকে রুপোলি পর্দায় অমর করে রেখেছেন সত্যজিৎ রায়। সহজ-সরল ভাষায় সাধারণ মানুষের অকথিত গল্প শোনানোর জাদুকরী ক্ষমতা ছিল তাঁর।

শোকাহত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণি শঙ্কর মুখোপাধ্যায় ওরফে শংকর-এর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি প্রয়াত সাহিত্যিকের চিরবিদায় নিয়ে লিখেছেন, “আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর প্রয়াণে বাংলা সাহিত্য জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতন হল। ‘চৌরঙ্গী’ থেকে ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’ থেকে ‘জনঅরণ্য’-তাঁর কালজয়ী সৃষ্টিগুলি প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি পাঠককে মুগ্ধ করেছে। তাঁর লেখনীর আধারে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের না-বলা কথা। বিশেষ করে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে তাঁর সুগভীর গবেষণা ও গ্রন্থসমূহ আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ।”

আরও পড়ুন: এখনও কেস ডায়েরি দেয়নি রাজ্য সরকার! বেলডাঙার ঘটনা নিয়ে এবার হাইকোর্টে NIA

ভাষা দিবসের প্রাক্কালে মণি শঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুসংবাদে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত ভট্টাচার্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, “বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় সাহিত্যিক মণিশংকর মুখোপাধ্যায় (শংকর)-এর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর সৃষ্ট অসামান্য সাহিত্যকীর্তি – চৌরঙ্গী, জনঅরণ্য, সীমাবদ্ধ প্রভৃতি বাংলার পাঠকসমাজকে সমৃদ্ধ করেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর সাহিত্যকর্ম আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ হয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now