লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মামলায় বড় নির্দেশ হাইকোর্টের

Published:

Lakshmir Bhandar

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের মহিলাদেরকে যাতে স্বামী-সন্তানদের কাছে হাত খরচের জন্য টাকা চাইতে না হয়, সেই কারণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের জন্য চালু করেছিলেন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প (Lakshmir Bhandar) যা একপ্রকার শাসকদলের ভোট প্রচারের এক মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কিন্তু এবার এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে উঠে এল এক গুরুতর অভিযোগ। ৬ মাস ধরে বন্ধ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছেন না সাত হাজারের বেশি উপভোক্তা। তাই এবার এই নিয়ে হাইকোর্টে উঠল মামলা।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মামলা হাইকোর্টে

স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক বিগত কয়েক মাস ধরে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার অন্তর্গত বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মহিলারা পাচ্ছেন না লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা। আর এমন গ্রাহকের সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ হাজার ২০০ মহিলা৷ তাঁদের অভিযোগ, বিজেপির সদস্য হওয়ার জন্যই সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। তাঁরা এই নিয়ে একাধিক বার জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেও তাতেও সুরাহা হয়নি। তাই এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য।

বিশেষ নির্দেশ হাইকোর্টের

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলা প্রসঙ্গে মামলাকারী সুনীতা মণ্ডল সাহু দাবি করেন যে, রাজ্যের সর্বত্র মহিলারা লক্ষীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। কিন্তু যেহেতু বাগচা গ্রাম পঞ্চায়েত ও গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে তাই সেখানকার মহিলা নাগরিকরা পাচ্ছে না কোনো সরকারি প্রকল্পের টাকা। আর এই দ্বিচারিতার কারণে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের এজলাসে মামলা করা হয়। আর সেই মামলায় এবার হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার কারনে যেন আইননানুযায়ী এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া বন্ধ না হয়।

আরও পড়ুন: আশাকর্মীদের বেতন বৃদ্ধি সহ বেকারদের মাসিক ভাতা, বড় ঘোষণা সরকারের

প্রসঙ্গত, শাসকদলের কাছে ভোটে জেতার তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে, এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। অথচ, ভোটের মুখে সেই প্রকল্পেই বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি বলে অভিযোগ। জানুয়ারি শেষ হতে চললেও এখনও সেই টাকা না পেয়ে মহিলাদের অনেকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা বলেন, “আমরা জেলাশাসক ও বিডিও অফিসে স্মারকলিপিও জমা দিয়েছিলাম। সমস্ত নথি জমা করা হয়েছিল। কিন্তু ৬ মাস ধরে ওই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতেই মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পাচ্ছেন না।”

google button