এখনই ছাড় নয়! মোফাক্কেরুল ইসলামকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত মালদা আদালতের

Published:

Mofakkarul Islam

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হওয়ার আগেই রাজ্য জুড়ে SIR নিয়ে একাধিক বিশৃঙ্খলামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও নাম না ওঠায় প্রতিবাদ মিছিল হচ্ছে তো কোথাও আবার SIR-এর জন্য আত্মহত্যার মত ঘটনাও ঘটছে। এই অবস্থায় ফের খবরের শিরোনামে এল মোথাবাড়ির ঘটনা (Mothabari)। জানা গিয়েছে SIR নিয়ে তাণ্ডব এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করার জন্য মোফাক্কেরুল ইসলামকে (Mofakkerul Islam) ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার, SIR এর প্রতিবাদে রীতিমত বিশৃঙ্খলামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মালদার মোথাবাড়িতে। ৭ জুডিশিয়াল অফিসারদের আটক করে বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছিল। অভিযোগ, ওইদিন পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম নাকি সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিয়েছেন SIR এর প্রতিবাদ করার জন্য। তাঁকে ওইদিন একটি গাড়ির বনেটে উঠে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছিল, যেটি উস্কানিমূলক ছিল। শুধু তাই নয়, একটি ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ছুড়তেও দেখা গিয়েছিল। পরে অবশ্য বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মোফাক্কেরুল ও গাড়ির চালককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ

সূত্রের খবর, কমিশন মোথাবাড়ির ঘটনায় NIA- তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে মোট ১২টি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছে NIA। এর মধ্যে ৮টি মামলা মোথাবাড়ি থানায় এবং বাকি ৪টি কালিয়াচক থানায় দায়ের হয়েছে। কালিয়াচক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তিনটি মামলা রুজু করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ ADG কে. জয়রামন জানিয়েছেন, NIA তদন্তভার নিলেও রাজ্য পুলিশ সমান্তরালভাবে খতিয়ে দেখবে এই ঘটনা সুপরিকল্পিত ছিল কি না। এমতাবস্থায় এই কাণ্ডে ধৃত মোফাক্কেরুল ইসলামকে মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এবং আগামী ১৭ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

তদন্তে সহযোগিতা করার আশ্বাস মোফাক্কেরুলের

জানা গিয়েছে, মালদহ জেলা আদালতে মোফাক্কেরুল ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য NIA কোনও আবেদন করেনি। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলী কাদরী-সহ মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মোফাক্কেরুল ইসলাম-সহ অন্যান্য ধৃতদের আদালতে আনা হয়। আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোফাক্কেরুল ইসলাম দাবি করেন ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং তিনি যে কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে আইনের সহযোগিতা করবেন।

আরও পড়ুন: নথিতে গড়মিল, রাজন্যা হালদার সহ ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

আদালত থেকে বেরোনোর সময় ধৃত মোফাক্কেরুল ইসলাম জোর গলায় জানিয়েছেন তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর দাবি ওইদিন তিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এদিকে মোফাক্কেরুলের পক্ষের আইনজীবী সন্টু মিঞা জানান, মোফাক্কেরুলকে ভিন্ন একটি মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তের কেস ডায়েরি আদালতে পেশ না হওয়ায় বিচারক তাঁকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এখন দেখার এই মামলার ভবিষ্যৎ পরিণতি কী হয়।

google button