আসানসোলে মোদীর সভায় ৪৫০ মোবাইল চুরি! পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

Published:

Asansol narendra modi's rally

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এলাকা জুড়ে। দিকে দিকে জনসংযোগ বৃদ্ধির জন্য সভা করে চলেছে মমতা মোদি। এমতাবস্থায় মোদির (Narendra Modi) আসানসোলের (Asansol) সভায় নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ উঠে এল। জানা গিয়েছে, কর্মীদের প্রায় ৪৫০ মোবাইল চুরি হয়ে গিয়েছে। সঙ্গে অন্যান্য সামগ্রীও চুরি হয়েছে। আর সেই ঘটনায় তদন্তের দাবি তুলেছেন কর্মীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান এক বিশেষ গ্যাং ভিড়ের সুযোগ নিয়েই হাত সাফাই করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডে নির্বাচনী সভায় সভা করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সেখানেই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ঘটে যায় বড় বিপদ। জানা গিয়েছে, সভায় আসা প্রায় সাড়ে চারশো বিজেপি কর্মীর মোবাইল চুরি হয়ে গিয়েছে। শুধু মোবাইল নয়, মানিব্যাগ, সোনার গয়না পর্যন্তও চুরি হয়ে গিয়েছে অনেকেরই। আর এই চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকা জুড়ে, বিক্ষোভ শুরু করেন কর্মীরা। মোবাইল উদ্ধারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হিরাপুর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করে বিজেপি কর্মীরা।

বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ

কুলটি থানা এলাকার বাসিন্দা ঝুলন মাঝি বলেন, ‘আমার মোবাইল চুরি হয়ে গিয়েছে মোদীজীর সভা থেকে। থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছিলাম। পুলিশ বলছে মোবাইলের কাগজপত্র নিয়ে আসতে হবে। শেষে বাড়ি থেকে কাগজপত্র নিয়ে আসার পর অভিযোগ নিয়েছে পুলিশ।’ এদিকে এই চুরির বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা সোমনাথ মণ্ডল বলেন, ‘বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে সভায় ঢোকানো হয়েছে। পুলিশ সাভায় আসা মানুষদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। প্রায় সাড়ে চারশো মোবাইল-সহ মানিব্যাগ সোনার গয়না চুরি হয়েছে। আমরা তদন্ত চাই।’

চুরি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা

মোবাইল চুরির অভিযোগ পেয়েই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করেছে হীরাপুর থানার পুলিশ। আটক করা হয়েছে কয়েকজন যুবক ও একজন নাবালককে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কোথা থেকে এসেছে তারা, শুরু হয়েছে তদন্ত। এদিকে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি। মোবাইল চুরির ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। যদিও এটাকে তৃণমূলের চক্রান্ত বলে তোপ দেগেছে গেরুয়া শিবির।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের প্রাক্কালে নন্দীগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার শুভেন্দু অধিকারীর! লাভ বিজেপির

প্রসঙ্গত, এর আগেও দুর্গাপুর ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলে বিজোপির একাধিক সভায় মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছিল। কিছুদিন আগে দুর্গাপুরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সভায় এসে বিজেপি বর্ধমান জেলা সাংগঠনিক সভাপতি অভিজিৎ তায়ের মোবাইল চুরি হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর আলুওয়ালিয়ার মোবাইল চুরি হয় নির্বাচনী সভায়। তখনও পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি তোলা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জানা গিয়েছিল ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।