খামেনিকে কটূক্তি! ইউটিউবার বিষাক্ত ছেলের শাস্তির দাবিতে বসিরহাট থানায় তুলকালাম

Published:

Prahlad Maity
Follow

সৌভিক মুখার্জী, বসিরহাট: ইজরাইল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে একাধিক দেশের একাধিক জায়গায় কর্মসূচির আয়োজন করেছে আমজনতা। সেই মতোই উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে তা নিয়ে সরব হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার প্রহ্লাদ মাইতি (Prahlad Maity) ওরফে ‘বিষাক্ত ছেলে’ একটি ভিডিও বানিয়েছিল। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই বসিরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হল।

ভিডিওতে কী বলেছিল বিষাক্ত ছেলে?

সম্প্রতি প্রহ্লাদ মাইতি যে ভিডিওটি পোস্ট করেছিল সেখানে তিনি বলেন, কোথায় ৪০০০ থেকে ৫০০০ কিলোমিটার দূরে ইরান একটি দেশ। সেখানকার এক ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনিকে ইজরায়েল আর আমেরিকা মিলে মেরে দিয়েছে। আর খামেনি মহিলাদের উপর অত্যাচার করত এবং ইতিহাসের সবথেকে জঘন্যতম মানুষ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদেই বাংলার মুসলিমরা পথে নেমেছে। যখন কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা হয়েছিল তখন সবাই মুখে কুলুপ এঁটে ছিল। এমনকি আরজি কর ঘটনার সময়ও কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। তবে জঘন্যতম এক মুসলিম নেতার মৃত্যুর প্রতিবাদে বাংলার মানুষ এইভাবে ধর্নায় নামছে যা সত্যিই কুরুচিকর।

তাঁর এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই একদিকে যেমন সমালোচনার ঢেউ বয়ে যায়, অন্যদিকে অনেকে প্রশংসাও করতে থাকে। কিন্তু প্রতিবাদকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে গিয়েই বসিরহাট থানায় গতকাল প্রহ্লাদ মাইতি ওরফে বিষাক্ত ছেলের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় খামেনিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছে বিষাক্ত ছেলে। হ্যাঁ, তাদের স্পষ্ট দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল আলি খামিনিকে নিয়ে জঘন্যতম মন্তব্য করা হয়েছে। সেই প্রতিবাদেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে নেট নাগরিকরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, এটা কোনও ইসলামিক দেশ নয়। এখানকার মানুষদের দেখছি ইরানের প্রতি দরদ উতলে উঠেছে।

আরও পড়ুন: বাড়বে DA থেকে পেনশন, বাংলায় ৭ পে কমিশন গঠনের দিন ঘোষণা, তবে রয়েছে শর্ত

বলাই বাহুল্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১ মার্চ মার্কিন এবং ইজরায়েল যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এমনকি সেই ঘটনার পর ইরান সরকার ৪০ দিনে জাতীয় শোক আর ৭ দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মিলেছে ইজরায়েল এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফ থেকে। আর এ নিয়ে এখন মধ্যপ্রাচ্ছে সংঘাত তুঙ্গে। ইরান একে একে আমেরিকা থেকে শুরু করে দুবাই, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান, ইয়ামেন, ইজরায়েলের উপর হামলা চালাচ্ছে। এমনকি অনেকেই এই পরিস্থিতিকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলেও আখ্যা দিচ্ছে।