প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় চলে এসেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। এমতাবস্থায় প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক–শিক্ষিকা নিয়োগের ইন্টারভিউ (Primary Teachers Recruitment) আপাতত স্থগিত করা হল পর্ষদের তরফে। অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে দশম দফার ইন্টারভিউ ও অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। ইন্টারভিউয়ের নতুন সূচি পরে জানানো হবে। এদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া জারি রাখার আবেদন জানাল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board Of Primary Education)। ইতিমধ্যে এই মর্মে স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে পর্ষদের তরফে পাঠানো হল চিঠি।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ফের বাধা!
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ বুধবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ স্থগিত করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সচিব রঞ্জনকুমার ঝা। ওই বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনও কারণের উল্লেখ করা হয়নি। প্রাথমিক ভাবে পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছিল, হাজার হাজার প্রার্থী এই ভোটের সময়ে তাঁদের ইন্টারভিউয়ের সূচি পিছানোর জন্য আবেদন করেছেন, আসলে ওই সময়ে যাতায়াতের অসুবিধা হতে পারে। তাই তাঁদের কথা ভেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে পর্ষদের তরফে। এদিকে গত সোমবারই পর্ষদের নিজস্ব বৈঠকে স্থির হয়েছিল যে ভোট সত্ত্বেও ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু আচমকাই সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়।
কী বলছেন পর্ষদ সভাপতি?
আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলছে তার বিজ্ঞপ্তি নির্বাচন ঘোষণার আগেই করা হয়েছে এবং যে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে তা-ও নির্বাচনের পরেই হবে। এতে নির্বাচনী আদর্শ বিধি কোথাও লঙ্ঘিত হচ্ছে না। গৌতমবাবুর ব্যাখ্যা, এইসময়ের মধ্যেই হাজার দুয়েক আবেদন জমা পড়েছে ইন্টারভিউ স্থগিত রাখার জন্য। কোনো কারণে যদি প্রার্থীরা উপস্থিত না-হন, তাহলে তাঁদের চাকরির সম্ভাবনা শেষ তো হবেই, পর্ষদও শূন্যপদ পূরণ করতে না পেরে বিপদে পড়বে। সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত।
কমিশনের উপরই দায় ঠেলছে পর্ষদ
পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বৈঠকে জানান, “গত ২৭ মার্চ নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে স্কুল শিক্ষা দফতরকে চিঠি দেয়। ৩০ মার্চ সেই চিঠি পৌঁছয় পর্ষদে। পর্ষদ এই ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।” ফলে ইন্টারভিউ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাইছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, স্কুল শিক্ষা দফতর থেকেও ইতিমধ্যেই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এদিকে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, কার্যত নির্বাচন কমিশনের উপরই দায় ঠেলে দিয়েছে পর্ষদ।
আরও পড়ুন: রাজ্য জুড়ে মুরগির দোকানে তালা! আর মিলবে না চিকেন, স্ট্রাইক ব্যবসায়ীদের
প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্ষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পঞ্চম থেকে দশম দফায় নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার ইন্টারভিউ শুরু হয়। গত ১৯ মার্চ পঞ্চম পর্যায়ে নদিয়া জেলার ইন্টারভিউ সম্পন্ন হয়েছে। ষষ্ঠ পর্যায়ে গত ২৩ মার্চ পুরুলিয়া জেলার জন্য ইন্টারভিউ শুরু হয়। কিন্তু তত দিনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, দশম পর্যায়ের ইন্টারভিউ আগামী ২৯ মে পর্যন্ত ধরা হয়েছিল। এদিকে, ষষ্ঠ থেকে দশম পর্যায়ের টানা একমাসের ইন্টারভিউ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা।












