সহেলি মিত্র, বর্ধমানঃ মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করলো প্রশাসন। এবার রাস্তাঘাটে যদি কোনও দুষ্কৃতী আপনাকে উত্যক্ত করে তাহলে এখন অনায়াসেই অভিযোগ জানাতে পারবেন। এখন থেকে এক ক্লিকেই মিলবে ‘সাথী’র মাধ্যমে সমস্ত পরিষেবা। শুধুমাত্র শ্লীলতাহানি কিংবা ইভটিজিং এর মতো ঘটনার জন্যই নয়, আরও অন্যান্য পরিষেবার সাহায্য পেতে আপনি আপনার ফোনে রাখুন সাথী অ্যাপ (Sathi App)। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
মহিলাদের জন্য ‘সাথী’ অ্যাপ চালু প্রশাসনের
জানা গিয়েছে, মূলত মহিলাদের সমস্যা, চাহিদার কথা মাথায় রেখে সাথী অ্যাপ এনেছে। এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে এই সাথী অ্যাপ কাজ করবে, কী কী পরিষেবা মিলবে, কেই বা এই উদ্যোগ নিয়েছে? তাহলে জানিয়ে এই বিশেষ উদ্যোগটি নিয়ে সকলকে চমকে দিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ১ ব্লকের গুসকরা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত। ডিজিটাল সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
কী কী সুবিধা মিলবে?
এবার জেনে নেওয়া যাক এই অ্যাপের মাধ্যমে কী কী পরিষেবা পাবেন মহিলারা। ধরুন কেউ হেনস্থার শিকার হয়েছে, কোনও গর্ভবতী মহিলার প্রসববেদনায় কাতরাচ্ছেন। বাড়ির লোকজন কোনও দিশা দেখতে পাচ্ছেন না। বাড়িতে বসেই স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপে নির্দিষ্ট অপশনে একবার টাচ করে নিজের মোবাইল নম্বর জানিয়ে দিলেই হবে। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। পাশাপাশি একইভাবে এলাকার দুর্ঘটনাগ্রস্থ কোনও ব্যক্তি মুহূর্তের মধ্যে পরিষেবা পেয়ে যাবেন ‘সাথী’ নামে অ্যাপের মাধ্যমে।
আরও পড়ুনঃ ইভটিজিং থেকে জরুরি চিকিৎসা, হবে সব মুশকিল আসান! রাজ্যে চালু হল ‘সাথী’ অ্যাপ
এই বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন আউশগ্রাম ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার মহিলা বা ছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এই ধরনের পরিষেবা চালু করা হয়েছে। পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধানরা এলাকার স্কুলগুলিতে এই অ্যাপের ব্যবহার পদ্ধতি বুঝিয়ে দেবেন। পাসওয়ার্ড দিয়ে দেবেন। যাতে এলাকার ছাত্রছাত্রীরা থেকে সাধারণ মহিলারা দ্রুত নিরাপত্তা ও পরিষেবা পান সেই উদ্দেশ্যেই এই সাথী অ্যাপ চালু করা হয়েছে।”
কীভাবে কাজ করবে সাথী?
সূত্রের খবর, সাথী অ্যাপে রয়েছে আপাতত চারটি অপশন। প্রথমত ইভটিজিংয়ের অভিযোগ সংক্রান্ত, দ্বিতীয়ত দুর্ঘটনাজনিত, তৃতীয়ত মহিলাদের গর্ভকালীন অবস্থায় চিকিৎসা পরিষেবার প্রয়োজনে। এছাড়া অন্যান্য কারণেও অ্যাপের মাধ্যমে পরিষেবা পেতে পারেন নাগরিকরা। এই অ্যাপের অ্যাডমিন হিসাবে রয়েছেন প্রধান উপপ্রধানরা। তাঁদের কাছেই প্রথম নোটিফিকেশন আসবে। এরপরেই ইউজারের লোকেশন ট্র্যাক করে তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা। এরপর পুলিশ বা স্বাস্থ্য বিভাগ অথবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে দ্রত যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেবে পঞ্চায়েত।












