সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ নির্ঘন্ট প্রকাশ না পেলেও বাংলার বিধানসভা ভোট নিয়ে কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই সময়কে কাজে লাগিয়েই এক অঘোষিত রাজনৈতিক প্রচারে নেমে পড়েছে বাম থেকে শুরু করে শাসক দল তৃণমূল, বিজেপি ও অন্যান্যরা। জায়গায় জায়গায় যাচ্ছেন রাজনৈতিক দলীয় নেতৃবৃন্দরা। এদিকে বাংলায় নিজেদের জমি দখল করতে বিজেপিও একের পর এক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এসে ঘুরে গিয়েছেন। এবার বঙ্গ সফরে এলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। সম্প্রতি তিনি হুগলীর শ্রীরামপুর (Serampore) গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন।
বঙ্গ সফরে এসে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রী
বঙ্গ সফরে এসে শ্রীরামপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন নিয়ে বড় ঘোষণা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেইসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য রেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে কত কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে সে বিষয়ে বড় তথ্য দেন তিনি। অশ্বিনী বৈষ্ণব জানালেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বছরের সাধারণ বাজেটে বাংলার রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১৪,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এছাড়াও, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৯৩,০০০ কোটি টাকার বিভিন্ন রেল উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।
স্থানীয়দের তরফে রেলমন্ত্রীর কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণেশ্বর স্টেশন যেমন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে হয়েছে। তেমনই এবার মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের আদলে যেন শ্রীরামপুর স্টেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এমনকি রেলমন্ত্রীর কাছে এদিন হাওড়া লাইনে শ্রীরামপুর থেকে রিষড়ার মধ্যে একটি হল্ট স্টেশন হয় সেই দাবিও জানানো হয়। এই স্টেশনটি হলে মাহেশের রথযাত্রা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অনেক সুবিধা হবে।
সরকারের বিরুদ্ধে গুরতর অভিযোগ রেলমন্ত্রীর
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শনিবার আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে নিশানা করেন। দাবি করেন যে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে বাংলায় হাজার হাজার কোটি টাকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প ঝুলে আছে। এদিন হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় অংশগ্রহণকারী অশ্বিনী বৈষ্ণব সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় অভিযোগ করেন যে রাজ্য সরকার রেল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করছে না। জমি অধিগ্রহণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুনঃ বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন
তিনি বলেন যে, বাংলায় রেল প্রকল্পের জন্য মাত্র ২৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে ৭৩ শতাংশ এখনও অঅধিগ্রহণ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন যে এর ফলে অনেক প্রকল্প আটকে আছে। রেলমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের অব্যাহত অসহযোগিতা সত্ত্বেও, রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রচুর প্রচেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রম করা হচ্ছে। বাংলায় ১০ থেকে ১২টি এমন রেল প্রকল্প রয়েছে যেখানে কাজ করার জন্য সরকার কোনও সাহায্য করছে না। রেলমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের আগের ৪০ বছরে, পূর্ববর্তী সরকারগুলির অধীনে, কলকাতা মেট্রো লাইনের মাত্র ২৭ কিলোমিটার সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। কিন্ত ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১১ বছরে, কলকাতায় ৪৫ কিলোমিটার মেট্রো লাইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI
রেলমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে বাংলা জুড়ে ১০১টি রেলস্টেশন সংস্কার করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই বছরের বাজেটে বাংলার জন্য একটি বুলেট ট্রেনের পাশাপাশি একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর অনুমোদন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে, বুলেট ট্রেনটি শিলিগুড়িকে সংযুক্ত করবে।












