ঘণ্টায় ১২-১৮টি! SIR-র দাবি নিস্পত্তির পরিসংখ্যানে রেকর্ড বাংলায়

Published:

SIR in Bengal

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তবে তার আগে রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR in Bengal) প্রক্রিয়ার নজিরবিহীন পরিসংখ্যান সামনে এল। রাজ্যের প্রায় ৯০০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক মাত্র ২৭ কর্মদিবসের মধ্যেই ৫২ লক্ষ ভোটার আপত্তি বা অভিযোগ নিষ্পত্তি করে রেকর্ড গড়েছেন। আর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে, প্রতিটি মামলার রায় দিতে গিয়ে নাকি আধিকারিকরা গড়ে মাত্র কয়েক মিনিট সময় ব্যবহার করেছেন।

পরিসংখ্যানে রেকর্ড

আসলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সংক্রান্ত মোট ৫২ লক্ষ আবেদনের ফয়সলা করা হয়েছে রাজ্যে। রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলে যে তথ্য উঠে আসছে, তা সত্যিই চমক দেবে। বার এন্ড বেঞ্চের রিপোর্ট বলছে, প্রথমত, প্রতিদিন গড়ে ১.৯২ লক্ষ মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৯০০ জন আধিকারিক যদি কেবলমাত্র কাজের দিনগুলোতে দায়িত্ব পালন করে থাকেন, তাহলেও গড়ে প্রত্যেকদিনে ২১৪টি করে মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এমনকি ১২ ঘণ্টা টানা কাজ করলেও হিসাব বলছে, প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১৮টি করে আপত্তির শুনানি এবং নিষ্পত্তি হয়েছে। আর প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেওয়া হয়েছে মাত্র ৩ থেকে ৪ মিনিট।

এমনকি যদি ধরা হয় আধিকারিকরা ৩৯ দিন টানা সময়সীমার মধ্যে কাজ করেছেন, অর্থাৎ পাঁচটি রবিবার, দুটি শনিবার ও চারটি সরকারি ছুটি সহ তারা কাজ করেছেন, তবুও দৈনিক নিষ্পত্তির হার দাঁড়াচ্ছে ১.৩৩ লক্ষ। আর সেক্ষেত্রে প্রতি ঘণ্টায় ১২টি করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়েছে তাদের। কলকাতা হাইকোর্ট বা জেলা আদালতগুলো সাধারণত এই দিনগুলি ছুটি থাকে। কিন্তু ভোটার তালিকার গুরুত্ব বিচার করে কাজের এই গতি বজায় রাখা হয়েছে বলেই খবর।

আরও পড়ুন: ধোনিহীন CSK-তে ব্যর্থ সঞ্জুও, একাই লড়ছেন টিম ইন্ডিয়ায় ব্রাত্য এই প্লেয়ার

বাকি থাকা কাজ কবে হবে?

পিটিআই এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে অবশিষ্ট প্রায় ৮ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আর সবমিলিয়ে ৪৩ দিনের এই প্রক্রিয়া শেষ হতে চলেছে। নির্বাচনের মুখে নির্ভুল ভোটার তালিকা নিশ্চিত করার জন্যই কমিশনের এই তৎপরতা। যাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা খারিজ করে দিয়েছেন, তাদের জন্য রয়েছে বিকল্প পথ। কারণ, গত ৪ এপ্রিল থেকে ১৯টি ট্রাইবুনাল কাজ শুরু করেছে। হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা এই ট্রাইবুনালগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আর যারা মনে করছেন, তাদের দাবি অন্যায্যভাবে খারিজ করে হয় করা হয়েছে, তারা এখনও পর্যন্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

google button