ছাত্রীদের জন্য সুখবর, পূর্ব বর্ধমানে ১০০ স্কুলে বসছে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন

Published:

Sanitary Vending Machines
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, শহর ও গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ছাত্রীদের বায়ো ডিগ্রেডেবল স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে দিতে হবে। এছাড়াও শৌচালয়ে অথবা নিকটবর্তী স্থানে ভেন্ডিং মেশিন রাখতে হবে। কিন্তু তবুও সিংহভাগ স্কুলে ভেন্ডিং মেশিন বসানোই হয়নি। এমতাবস্থায় স্কুলে ছাত্রীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দিতে পূর্ব বর্ধমানের ১০০টি স্কুলে বসানো হচ্ছে অটোমেটিক স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন (Sanitary Vending Machines)। সেক্ষেত্রে বরাদ্দ করা হয়েছে ৬০ লক্ষ টাকা।

বসানো হচ্ছে স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন

ঋতুস্রাবের সময়ে ছাত্রীরা যাতে কোনও ধরনের শারীরিক সমস্যা ছাড়াই নির্দ্বিধায় এবং স্বাভাবিক ভাবে স্কুলে আসতে পারে, তার জন্য পূর্ব বর্ধমানের প্রায় ১০০টি সরকারি স্কুলে বসানো হচ্ছে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন। এই মেশিনের মাধ্যমে মেয়েরা নিখরচায় মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলির জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন পেতে চলেছে। একইসঙ্গে থাকবে স্যানিটারি ইনসিনেটর মেশিনও। যার মাধ্যমে ব্যবহৃত ন্যাপকিন নষ্ট করা হবে অন্য আরেক বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে। সর্বশিক্ষা মিশন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া ও বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার ৫৩টি স্কুলে এবং বর্ধমান সদর দক্ষিণ ও কালনা মহকুমার ৪৭টি স্কুলে এই আধুনিক যন্ত্র বসানো হবে।

৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ বিশেষ খাতে

বর্ধমান শহরের মিউনিসিপ্যাল গার্লস হাইস্কুল, বর্ধমান হরিসভা হিন্দু গার্লস হাইস্কুল, ইছলাবাদ বিবেকানন্দ বালিকা বিদ্যালয় সহ ১৬টি স্কুলে এই মেশিন বসানো হবে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও কালনা মহকুমার ২৪টি, কাটোয়া মহকুমার ১৭টি, বর্ধমান সদর উত্তর মহকুমার ৩৬টি ও সদর দক্ষিণ মহকুমার ২৩টি স্কুলে এই আধুনিক যন্ত্র বসানো হবে। জানা গিয়েছে, এরজন্য জেলার সর্বশিক্ষা মিশন দপ্তর এই খাতে ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। আশা করা যাচ্ছে মাস দেড়েকের মধ্যেই এই মেশিন বসানোর কাজ শেষ করা হবে।

আরও পড়ুন: জলপাইগুড়িতে ফ্লাইওভার থেকে পড়ে মৃত্যু পুলিশকর্মীর ছেলের

প্রসঙ্গত, ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সর্বশিক্ষা মিশন দপ্তর প্রতিটি স্কুলে একটি করে অটোমেটিক স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন ও স্যানিটারি ইনসিনেটর মেশিন বসাচ্ছে। সরকারি এই উদ্যোগে খুশি ছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষিকারা। এই প্রসঙ্গে এক ছাত্রী জানিয়েছে, “ সরকারি এই উদ্যোগে আমরা বেশ খুশি। আসলে সবসময় ব্যাগে ক্যারি করা সম্ভব নয়। তাইতো স্কুলে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় সঙ্গে স্যানিটারি ন্যাপকিন না থাকায়। এখন থেকে স্কুলে মেশিনের মাধ্যমে ন্যাপকিন পাওয়া যাবে। এবং বিশেষ পদ্ধতিতে ব্যবহার করা ন্যাপকিন নষ্টও করে দেওয়া যাবে।”।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now