মানবিকতার রায় নিয়ে প্রশ্ন! ৩২০০০ চাকরি বহালের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ সুপ্রিম কোর্টে

Published:

Primary Teachers Job Case
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে তুমুল ব্যস্ততা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। প্রচারকার্যে ত্রুটি রাখছে না কোনো রাজনৈতিক দল। এমতাবস্থায় ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল প্রাথমিকে ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলা (Primary Teachers Job Case)। যেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মানবিকতার যুক্তিতে সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে খারিজ করে দিয়েছিল এবার সেই মামলা নিয়ে পুনরায় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করল চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ।

মামলার প্রেক্ষাপট

২০১৪ সালের ‘টেট’-র ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রাথমিকে প্রায় ৪২৫০০ শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। কিন্তু সেই নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও বেনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা উঠেছিল। আর সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১২ মে হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সরাসরি ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। হুলুস্থুল কাণ্ড শুরু হয় গোটা রাজ্যে। এমনকি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেয়। তখন এই রায়কে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায়। সেখানে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। তবে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেয়।

মানবিকতার খাতিরে মামলা খারিজ হাইকোর্টের

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির এর মামলা এতটাই জটিল পর্যায়ে পৌঁছয় যে মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। এরপর ওই মামলা আসে ফের হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে। চাকরি বাতিলের রায় খারিজ করে বিচারপতি জানান, “যাঁরা ৯ বছর ধরে কাজ করছেন, তাঁদের পরিবারের কথাও ভাবতে হবে। যাঁরা সফল হননি তাঁদের জন্য সব ড্যামেজ করা যায় না।” অর্থাৎ শুধু মানবিকতার যুক্তিতে ওই চাকরি বজায় রেখেছে বেঞ্চ। কিন্তু কিছুতেই মানতে পারছে না কেউ এই রায়। তাই ফের এই মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ।

আরও পড়ুন: পিলখানা কাণ্ডে ‘তৃণমূল যোগ’ মূল অভিযুক্তের! প্রকাশ্যে এল ভাইরাল ভিডিও

রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি বাতিল মামলা খারিজ করার আড়াই মাস পড়ে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন। জানা গিয়েছে শীর্ষ আদালতে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্নীতি করে পাওয়া চাকরি শুধুমাত্র মানবিকতার অজুহাতে বজায় রেখেছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ, যা অন্য একাংশের কাছে অবিচার এবং বেআইনি। আশা করা যাচ্ছে আগামী সপ্তাহে শীর্ষ আদালতে মামলা ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।