‘মাত্র ১০ কিমি, তবুও এলেন না মমতা!’ আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিস্ফোরক শুভেন্দু

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর কেটে গিয়েছে চারটে দিন! চারপাশ জুড়ে শুধুই আপনজন হারানোর হাহাকার। শেষ আপডেট অনুযায়ী ওই মোমো কারখানায় ভয়ংকর আগুনের জেরে এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জন। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ২৮ জন। বাতাসে এখনও পোড়া গন্ধ। এবার এই মৃত্যুমিছিলকে ঘিরে নাজিরাবাদে মিছিল করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেখান থেকেই মমতাকে করলেন কটাক্ষ।

ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন শুভেন্দু সহ বিজেপি নেতারা

রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ আনন্দপুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বিজেপি বিধায়কদের প্রতিনিধি দল। সেই দলে রয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া, সৌমেন রায়, নীলাদ্রি দানা, আশীষ বিশ্বাস, সুব্রত ঠাকুর-সহ ১০ জনেরও বেশি বিধায়ক। সেখানেই প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করলেন বিরোধীরা। এখানেই শেষ নয়, “এত মৃত্যু কার স্বার্থে, মমতা প্রশাসন জবাব দাও” স্লোগান তোলেন তাঁরা। এলাকায় রয়েছে পুলিশ। জমায়েত করতে দিচ্ছে না। দুটি স্তরে ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখা হয়েছে ঘটনাস্থল।

মমতার অনুপস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ শুভেন্দুর

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আনা এই মিছিলে শুভেন্দু অধিকারী মমতাকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন এখনও কেন নাজিরাবাদে গেলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী, এদিন কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বলেন, “এখানে মৃত্যুমিছিল। মুখ্যমন্ত্রী আসেননি। ওঁর বাড়ি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। ওঁর আসার উচিত ছিল। রাজ্যের প্রশাসনিক কর্ত্রী উনি, প্রশাসনিক প্রধান। পৌরমন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম এসেছেন, অরূপ বসু এসেছেন। তাও আবার ৩২ ঘণ্টা পর এসেছেন সুজিত বসু।” এছাড়াও, ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “এত বড় দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক কালে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে হয়েছে বলে জানা নেই আমাদের। আগুন লেগেছে মধ্যরাতে। এদিকে দমকল এসেছে ছ’ঘণ্টা পর। কলকাতায় যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বাসন্তী, গোসাবা, ক্যানিং, সাগর, পাথরপ্রতিমা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কী দুরাবস্থা!”

আরও পড়ুন: মোবাইল কিনে না দেওয়ায় করুণ সিদ্ধান্ত মাধ্যমিকের ছাত্রর, শোকের ছায়া পূর্বস্থলীতে

প্রসঙ্গত, গতকাল, বুধবার মধ্যরাত থেকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে আনন্দপুরের ঘটনাস্থলে। ফলে এলাকায় জমায়েত ও যাতায়াতের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আর এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনাস্থলে যাওয়া এবং গড়িয়া শিতলামন্দির থেকে মিছিল করতে চেয়ে আবেদনও জানিয়েছিলেন। অবশেষে সেই আবেদনে সাড়া দিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার শীতলা মন্দির-ঢালাই ব্রিজ- ইএমবাইপাস- নরেন্দ্রপুর থানা রুটে সকাল ১১:৩০ থেকে বিকেল ৩:৩০ পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে। এবং এই রুটে ২০০০ জমায়েতে প্রতিবাদ মিছিল করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট।

google button