সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ পেয়েছে SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে চূড়ান্ত তালিকা (SIR In Bengal) প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে এই তালিকা প্রকাশ পেতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে সকলের। নাম বাদ পড়েছে কয়েক লক্ষ মানুষের। সাড়ে ৬৩ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে। তবে চাপ নেই, নাম বাদ গেলেও পুনরায় আবেদন কয়রা যাবে বলে খবর। যদিও আজ কথা হবে, এবারের তালিকা থেকে কতজন সংখ্যালঘুর নাম বাদ গেল সে বিষয়ে। তাহলে চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
কতজন সংখ্যালঘুর নাম বাদ গেল?
মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগরওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে এসআইআর-এর পরে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭০,৪৫৯,২৮৪। তিনি আরও জানিয়েছেন যে বাংলায় ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এখনও বিচারাধীন বিভাগে রয়েছেন। তবে, এসআইআর-এর পরে প্রস্তুত ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৬৬ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাইহোক, এদিকে মালদা থেকে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলি বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু এবারে SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বহু জনের নাম বাদ পড়েছে। সেই রিপোর্টই এখন সামনে এসেছে।
রিপোর্টে চাঞ্চল্য
এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মালদায় খসড়া তালিকায় ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৭৩ জনের নাম বাদ গিয়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় সংখ্যাটা ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৩। সেই অনুযায়ী বিচার করলে আরও ১৮ হাজার ২৮০ নাম বাদ গিয়েছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদে খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ৭৮ হাজার জনের। আর চূড়ান্ত তালিকায় বাদ গেল আরও ১৪ হাজার ৯৮৫ নাম, সব মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৯৩ হাজার। জেলায় খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছিল ৭ লক্ষ ৯২ হাজারের উপর। চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেল নাম বাদ গেছে আরও ১ লক্ষ ৪২ হাজার ২৯৭ জনের।
আরও পড়ুনঃ মাসের প্রথম দিনে সোনা, রুপোর দামে মহা পরিবর্তন! আজকের রেট
আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় খসড়া তালিকায় ৮লক্ষ ১৮ হাজার ৪৩২ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল, শনিবারের চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেল ৮৭ হাজার ৫৪৮ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এ নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, “ওরা যতই ফন্দি করুক, অমিত শাহ যতই মুর্শিদাবাদকে ভয় পান, যতই বাঙালি ভোটার কাটুন, বাংলাকে কাটাতে পারবে না। আমরা কেউ অনুপ্রবেশকারী নই, আমরা কেউ রোহিঙ্গা নই।”












