প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই, তাই জোর কদমে চলছে ভোট প্রচারের প্রস্তুতি। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ার অন্তিম পর্বে ফের বড়সড় বিতর্ক (SIR Hearing Crisis) শুরু হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে শুনানি পর্ব শেষ হয়েছে কিন্তু অভিযোগ এখনও কয়েক লক্ষ ভোটারের নথি আপলোড বাকি। আর তাই নিয়ে শুরু হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি আবেদনকারীর নথি নাকি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিস্টেমে তোলাই সম্ভব হয়নি।
১ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নথি আপলোড হয়নি
রিপোর্ট মোতাবেক গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতেই শেষ হয়েছিল SIR শুনানির প্রক্রিয়া। তার পর নির্ধারিত সময়সীমা মেনে ওইদিনই ঠিক রাত ১২টার পর থেকেই নথি আপলোডের সুযোগ বন্ধ করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপরই চলছে ‘ফাইনাল ডিসপোসল’ বা চূড়ান্ত নাম বাছাইয়ের পর্ব। কিন্তু অভিযোগ শেষ দিনের শুনানিতে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন সকলেই প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিলেও নাকি ১ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নথি সিস্টেমে আপলোড করাই হয়নি। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই হইহই শুরু হয়ে গিয়েছে সাধারণের মধ্যে। এমনকি এ ব্যাপারে কমিশনের সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন একাংশ জেলা শাসক। শেষে এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
কমিশনের সিস্টেমে বিভ্রাট
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সিইও দফতরের কাছে গোটা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। সেই রিপোর্টে ঠিক কত জন ভোটারের নথি আপলোড হয়নি, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জানতে চাওয়া হয়েছে নথি আপলোড না করার অন্যতম কারণ কি শুধু নিছক সময়ের অভাব নাকি গাফিলতি সবটাই জানাতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ উঠছে সোমবার রাত থেকেই নাকি কমিশনের সার্ভার বা সিস্টেমে বারবার বিভ্রাট দেখা দিচ্ছে। এমনকি মঙ্গলবার সকাল থেকেও সিস্টেম ডাউন থাকায় ‘ফাইনাল ডিসপোসল’ বা চূড়ান্ত নাম বাছাইয়ের কাজ কার্যত থমকে গিয়েছে। তাই সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ জটিল।
আরও পড়ুন: পূর্ব বর্ধমানে টালির চাল ফাঁক করে ঘরে ঢুকে শাশুড়িকে ধর্ষণ জামাইয়ের
প্রসঙ্গত, SIR শুনানির সময় আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বা সংখ্যালঘু প্রধান অঞ্চলে নাম নথিভুক্ত করার সময় সিস্টেমে বারবার অতিরিক্ত ‘ভেরিফিকেশন’ বা সতর্কতা দেখাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে কেন নির্দিষ্ট কিছু নামের ক্ষেত্রে এই আলাদা নিয়ম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে ভোটার তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।












