পাঠ্যক্রমে এবার যুক্ত হবে সঙ্গীত-নৃত্য, বার্ষিক পরীক্ষায় মিলবে নম্বরও, উদ্যোগ শিক্ষা দফতরের

Published:

Subject List Of Students
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সময় যত এগোচ্ছে ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা ব্যবস্থা ততটাই পরিবর্তন হচ্ছে। যদিও একটা সময়ে শুধুমাত্র পাঠ্যক্রম বই ছিল শিক্ষা অর্জনের মূল স্তম্ভ। অর্থাৎ পড়ুয়ারা শুধু পুঁথিগত শিক্ষা অর্জন করেই তাদের বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করত। এবং সঙ্গীত চর্চা, খেলাধুলা, আঁকা, সমাজসেবামূলক কাজকে তখন পাঠ্যক্রম বহির্ভূত অর্থাত্‍ এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি হিসাবে ধরা হত। তখন মূল পড়াশোনা বাদ দিয়ে এই সব চর্চা করায় ছিল খানিক নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এবার সেই সব পরিবর্তন হতে চলেছে। জানা গিয়েছে পাঠ্যক্রমে (Subject List Of Students) যুক্ত হতে চলেছে নাচ-গান।

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হবে নাচ গান

আধুনিক জগতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রমের ধারা ধীরে ধীরে অনেকটাই পরিবর্তন হচ্ছে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে কর্ম ও ব্যক্তিজীবন গড়ে তোলার সহযোগী উপকরণগুলি ছাত্রছাত্রীদের এই পাঠ্যক্রমের সামিল করানো হচ্ছে। এতদিন যেখানে নাচ, গানকে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছিল এখন সেগুলি হয়ে উঠতে চলেছে কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি। সম্প্রতি স্কুল শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বছর থেকেই প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, আবৃত্তি বা রকমারি কাগজ দিয়ে নানা আকৃতি তৈরি করার প্রশিক্ষণ অর্থাৎ অরিগ্যামি।

বার্ষিক মূল্যায়নে যুক্ত হবে নম্বর

সব স্কুলে আউটডোর গেম বা ইনডোর গেমের ব্যবস্থা থাকে না। তবে স্কুলপড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি এবং কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। যা বাচ্চাদের সামাজিক দক্ষতা এবং শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই স্কুল শিক্ষা দফতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, আবৃত্তি পাঠক্রমে যুক্ত করবে। এমনকি বার্ষিক মূল্যায়নে যুক্ত হবে এই কো-কারিকুলাম-এর নম্বরও। আর এই উদ্যোগে বেশ খুশি শিক্ষক শিক্ষিকারাও। তাঁদের মতে, পাঠ্যক্রম নির্ভর পড়াশোনার ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয় পড়ুয়াদের। সেক্ষেত্রে কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, তেমনই তাদের মধ্যে আত্মশ্রদ্ধা, আত্মনির্ভরতা, আত্মসংযমের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন: সার্ভিক্যাল ক্যানসার রুখতে বিশেষ উদ্যোগ কেন্দ্রের! দেওয়া হবে ফ্রি HPV টিকা

তবে প্রশ্ন উঠছে, পড়ুয়াদের এই সমস্ত বিষয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো শিক্ষক বা শিক্ষিকা নিয়োগ কীভাবে হবে? এই প্রশ্নের জবাবে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, “ডিএলএড বা বিএড-এর সময় শিক্ষকেরা এই বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে প্রশিক্ষণ নেন। তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন।” উল্লেখ্য, বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের বেসরকারি স্কুলে ইতিমধ্যেই এই সমস্ত বিষয়ের পৃথক ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই সেক্ষেত্রে আশা করা যাচ্ছে স্কুল এই সকল বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে চর্চা করলে কার কোন দিকে আগ্রহ রয়েছে সেটা বোঝা যাবে। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের সৃজনশীলতার বিকাশ যেমন ঘটবে তেমনই শৃঙ্খলা মেনে চলার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।