প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সময় যত এগোচ্ছে রাজ্যে (West Bengal) বেপরোয়া চাকার দৌরাত্ম্য যেন ক্রমেই বাড়ছে। যার ফলে গত কয়েক বছরে রাজ্যে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে বেলাগাম চাকার শিকার হচ্ছেন পুলিশকর্মীরাও। যদিও দুর্ঘটনা রুখতে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েই চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এমতাবস্থায় দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় ‘পথবন্ধু’ (Pathbandhu) নিয়োগের পরিকল্পনা নিতে চলেছে নবান্ন, প্রতি স্থানে ৭ জন করে নিয়োগ করা হবে পথবন্ধু ভলেন্টিয়ার।
বেড়েই চলছে শহরে দুর্ঘটনার পরিমাণ
লালবাজারের তথ্য বলছে, কলকাতায় পথ দুর্ঘটনায় ২০২৩–এ মারা গিয়েছিলেন ১৫৯ জন। সেখানে ২০২৪ সালে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯১ জনে। ২০২৫ এ সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত কয়েক বছরে রাজ্যে পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়েছে। এছাড়াও দুশ্চিন্তার বিষয় হল দুর্ঘটনার পর দ্রুত সহায়তা না পাওয়ার কারণে বহু ক্ষেত্রে আহতদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। সেই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক পরিকল্পনা করে আসছে। এবার তাই প্রশিক্ষিত পথবন্ধু নিয়োগ করা হতে চলেছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যের বিভিন্ন জাতীয় ও রাজ্য সড়কে চিহ্নিত প্রায় এক হাজারের বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নতুন করে ‘পথবন্ধু’ নিয়োগ করা হতে পারে।
দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নিয়োগ করা হবে পথবন্ধু
রাতের বেলায় দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি না হয় এবং দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা এবং উদ্ধার করার পরিষেবা বাড়াতে ‘পথবন্ধু’ নিয়োগ বাড়ানোয় মনোযোগ দিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রতিটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নির্দিষ্ট ভাবে সাত জন করে পথবন্ধু নিয়োগ করা হতে পারে। তাঁদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক ফার্স্ট এড বক্স দেওয়ার কথাও ভাবা হয়েছে। যাতে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ব্যান্ডেজ করা, রক্তপাত বন্ধ করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা করা যায়। তবে তার আগে সবটাই তাঁদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব’ বকেয়া DA কাণ্ডে বড় ঘোষণা, ঘুরে যাবে খেলা? জল্পনা তুঙ্গে
প্রসঙ্গত, ‘পথবন্ধু’রা ভলান্টিয়ার হিসেবেই কাজ করেন বেশিরভাগ সময়। কিন্তু প্রশিক্ষণের অভাবে নানা রকম সমস্যা তৈরি হয়। তাই রাজ্য সরকার এই উদ্যোগ নিচ্ছে। অন্যদিকে ‘পথবন্ধু’দের কাজ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ চিন্তা ভাবনা করেছে প্রশাসন। পথবন্ধুদের মাধ্যমেই বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার সময় মানুষ দ্রুত তাঁদের সাহায্য নিতে পারেন।












