প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু করেছে শিক্ষা সংসদ (WBCHSE)। আর এই বছরই শেষ বারের মতো উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পুরনো পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শেষ হয়েছে। আর তাই এই নয়া পরীক্ষা ব্যবস্থায় এ বছর আমূল পরিবর্তন হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে। বাংলা, ইংরেজি পাঠ্যক্রমেও বেশ কিছু নতুন গদ্য এবং পদ্য যুক্ত হয়েছে, যা পুরনো পাঠ্যক্রমে ছিল না। তাই সবটাই যেমন শিক্ষকদের কাছে নতুন ঠিক তেমনই পড়ুয়াদের কাছেও বেশ নতুন। তবে এবার শিক্ষা সংসদ আরও এক জটিল সমস্যার সমাধান বের করল।
টেস্ট নিয়ে নয়া বিজ্ঞপ্তি শিক্ষা সাংসদের
যেহেতু নয়া সেমেস্টার পদ্ধতি শুরু হচ্ছে তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল যে যারা এ বার টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারল না, তারা তো সেমেস্টার পদ্ধতিতে পড়াশোনা করেনি। তাদের কি আবার নতুন সেমেস্টার পদ্ধতিতে পড়াশোনা করে উচ্চ মাধ্যমিক দিতে হবে? আর এবার সেই সমস্যার সমাধান বের করল শিক্ষা সাংসদ। গতকাল অর্থাৎ বুধবার এই সংক্রান্ত এক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সেই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে সকল পড়ুয়ারা পুরনো পরীক্ষার পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা উত্তীর্ণ হবে, কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করবে, তারা তবুও সেমিস্টার পদ্ধতিতে নথিভুক্তিকরণ করার ক্ষেত্রে যোগ্য হবে। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে এই সমস্ত পড়ুয়ারা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সেমিস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়ার জন্য পড়াশুনা করতে পারবেন। তার জন্য দরকার এই অপশন ফর্ম। এই ফর্ম পূরণ করে জমা দিলেই, উচ্চ মাধ্যমিক সংসদের ২০২৪ সালের নিয়ম অনুযায়ী সেমিস্টার সিস্টেমের আওতায় চলে আসবেন পড়ুয়ারা।
অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা জারি
এছাড়াও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানা গিয়েছে এই সমস্ত পড়ুয়ারা সেমিস্টার ৩ এবং সেমিস্টার ৪-এর জন্য নথিভুক্তিকরণ করতে পারবেন। যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর এবং ২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি এই পরীক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণির প্রজেক্ট এবং প্র্যাকটিকালের নম্বর কাউন্সিলের পোর্টালে তোলা হবে। তবে এই ‘অপশন ফর্ম’ পূরণের সময় পুরনো যে বিষয়ের কমবিনেশন নিয়ে পড়ছিল পড়ুয়া তার মধ্যে যদি কোনও বিষয় দিতে হয় তবে সেই বিষয়ের পরিবর্তে অন্য কোনও বিষয় বাছাই করতে হবে প্রার্থীদের। অর্থাৎ সেই সাবজেক্ট কম্বিনেশন আর বৈধ থাকবে না।
এই প্রসঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ‘‘এটা সম্পূর্ণ পড়ুয়াদের উপর নির্ভর করছে। তারা চাইলে নিজেরাই সেমেস্টার পদ্ধতিতে ‘মাইগ্রেট’ করতে পারবে, আবার নাও পারে। পুরো প্রক্রিয়াই অনলাইনে করতে পারবে পড়ুয়া নিজেই।’’ জানা গিয়েছে ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনলাইনে এই আবেদন জানাতে পারবে পড়ুয়ারা। অর্থাৎ প্রায় এক মাস সুযোগ পাবে পড়ুয়ারা।
আরও পড়ুনঃ ছিলেন ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্কে, ১০ বছরে প্রথম মহিলা ডেপুটি গভর্নর RBI-তে! কে এই পুনম?
প্রসঙ্গত, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এদিকে এখনও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাঠ্যপুস্তক স্কুলে এসে পৌঁছয়নি। এই নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকরা। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা, কিন্তু বই এখনও স্কুলে এসে পৌঁছল না। যদিও অনেক আগে থেকে সংসদ সভাপতিকে আমরা জানিয়েছি। সংসদের তরফে যথাসময়ে বই পৌঁছে যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও তা না-পৌঁছনোয়, খুব সমস্যা হচ্ছে। সেজন্য দ্রুত পাঠ্য বই স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুনরায় দাবি জানিয়েছি।’
গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য | Join Group |
চাকরির খবরের জন্য | Join Hood Jobs |
রাশিফলের জন্য | Join Hood Rashifal |
খেলার খবরের জন্য | Join Whatsapp |