সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিরাট সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার। কেরালার নাম পরিবর্তন করে কেরলম করার প্রস্তাবে শিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা। রাজ্য বিধানসভার সর্বসম্মত প্রস্তাবের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তবে এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবে নতুন করে সামনে আসছে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) নাম পরিবর্তনের দীর্ঘদিনের প্রস্তাব। কিন্তু এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও স্পষ্ট কোনও মন্তব্য করেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাহলে কি এবার পরিবর্তন হবে বাংলার নাম?
কী বলেছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব?
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, কেরলের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্ন একাধিক বার উঠলেও তিনি তা এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, আজ মন্ত্রীসভায় যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেইটুকুই জানাতে এসেছি। এদিকে এই মন্তব্য থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাব নিয়ে কি আপাতত তাহলে কোনও পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেই?
#WATCH | Delhi: Union Minister Ashwini Vaishnaw says, “Among the important decisions taken by the cabinet today, the first decision is to change the name of Kerala to Keralam. Another is to double the Gondia-Jabalpur railway line. The third and fourth railway lines from… pic.twitter.com/1IGmxD96Yf
— ANI (@ANI) February 24, 2026
কী প্রস্তাব পাঠিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ?
২০১৬ সালে রাজ্যের শাসকদল প্রথমবার বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছিল। আর সেই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, বাংলায় ‘বাংলা’ ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বাঙাল’ করা হোক। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানায়, তিনটি ভাষায় তিনটি আলাদা নাম না রেখে একক নাম নির্ধারণ করা উচিত। আর সেই পরামর্শ মেনেই ২০১৮ সালে আবার বিধানসভায় প্রস্তাব গৃহীত হয় যে, সমস্ত ভাষাতেই রাজ্যের নাম হবে বাংলা। এরপর সেই সংশোধিত প্রস্তাবও কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়। তবে তারপর থেকে বিষয়টি স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তি দিয়েছিল যে, ভারতের সংবিধানের প্রথম তপশিলে একটি রাজ্যের একটি নির্দিষ্ট নাম থাকে। আর ভাষাভেদে আলাদা আলাদা নাম রাখা হলে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাংলা নামটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে ‘Bengal’ করা হলে একই যুক্তিতে অন্য রাজ্যের নামও অনুবাদ করা যেতে পারে। যেমন উত্তরপ্রদেশকে ‘North Pradesh’ বলা যেতে পারে। তাদের মত ছিল, অনুবাদের বদলে মূল উচ্চারণ অনুযায়ী একটি নামই নির্ধারণ করা উচিত। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে, ওড়িশার নাম পরিবর্তনের কথা। আগে ইংরেজিতে ‘Orissa’ লেখা হলেও পরে উচ্চারণ অনুযায়ী তা ‘Odisha’ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: প্যারাস্যুটে করে পৌঁছে যাবে যুদ্ধযান, সামরিক সরঞ্জাম.. হেভি ড্রপ সিস্টেম পেল ভারতীয় সেনা!
তবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও কেন্দ্র সরকার এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। আর কেরলের প্রস্তাবে দ্রুত সারা মিললেও পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাব নিয়ে নীরবতা যে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়াচ্ছে তাও নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন হয় কিনা।












