বিদ্যুৎ খরচ ৭৫% কম, মাত্র ৮০০০ টাকায় মিনি এসি বানিয়ে ফেলল বাঁকুড়ার পড়ুয়ারা

Published:

Mini AC

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রতিভা যে গ্রামের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে তা আবারও প্রমাণ করল লাল মাটির জেলা বাঁকুড়ার (Bankura) তরুণ প্রজন্ম। তীব্র গরমের মাঝে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে ফেলল বাঁকুড়ার রায়পুর গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের একদল পড়ুয়া। হ্যাঁ, নিজেদের ফাইনাল ইয়ারের প্রজেক্ট হিসেবে তারা তৈরি করে ফেলেছে এক পকেট বান্ধব মিনি এসি (Mini AC), যেটি সাধারণ মধ্যবিত্ত বা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষকে অনায়াসে গরম থেকে মুক্তি দেবে। তাঁদের দাবি, এই এসি তৈরি করতে মাত্র ৮০০০ থেকে ৮৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। এমনকি বাজারে প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনের তুলনায় এটি চালাতে বিদ্যুতের খরচ প্রায় ৭৫ শতাংশ কম হবে।

কীভাবে এই অসাধ্য সাধন?

সাধারণত বাজারে যে সমস্ত এসি পাওয়া যায় সেগুলির দাম বেশি এবং অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিলের ভয়ে অনেকেই তা কিনতে চান না। তবে রায়পুর পলিটেকনিক কলেজের মেডিকেল বিভাগের ছাত্র কুন্তল মুখার্জী, লালন মহন্ত, বিবেক কুম্ভকার, কৌশিক মন্ডল, শুভম ব্যানার্জী, সুদীপ্ত কোনার, সৌরভ দত্ত সহ বেশ কিছু ছাত্ররা অধ্যাপকদের গাইডেন্সে এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করেছে।

আসলে এই মিনি এসির প্রধান ম্যাজিক লুকিয়ে রয়েছে এর ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। এখানে এমন একটি বিশেষ কম্প্রেসার ব্যবহার করা হয়েছে, যার বিদ্যুৎ টানার ক্ষমতা সাধারণ এসির থেকে অনেকটাই কম। ফলে এটি চালালেও বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কম আসবে। পাশাপাশি খরচ আরও কমাতে ছাত্ররা এই যন্ত্রের বাইরের কাঠামো বা বডি তৈরিতে শক্ত কাগজের পিচবোর্ড ব্যবহার করেছে। আর এর ভেতরে সমস্ত টেকনিক্যাল যন্ত্রের অংশ নিখুঁতভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: বার্ধক্য ভাতা, ফ্রি চিকিৎসা সবই এক ছাদের তলায়! জন ভাগীদারি অভিযান রাজ্য সরকারের

কী কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে এই এসি-টিতে?

আসলে কোনও রকম কর্পোরেট ল্যাবরেটরি ছাড়াই কলেজের ওয়ার্কশপে সাধারণ এসি তৈরির মূল জিনিসগুলোকে কাজে লাগিয়ে এই মিনি এসি বানানো হয়েছে বলে খবর। এর ভেতরে রয়েছে একটি কম ওয়াটের কম্প্রেসার, কনডেন্সার, এভাপরেটর, এক্সপ্যানশন ভালভ, কুলিং কয়েল ও এক্সহস্ট ফ্যান। আর এইগুলির সমন্বয়ে এসিটি একেবারে সাধারণ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির বাজেটের মধ্যেই তৈরি হয়েছে, যা ব্যবহার করলেও মাস শেষে বিদ্যুতের বিল নিয়ে কোনও রকম চিন্তা করার দরকার পড়বে না।