কূর্ম দ্বাদশী পালন এবং তার মাহাত্ম্য

Published:

Follow

ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনিই একমাত্র তত্ত্ব-

“তত্ত্বং বিজ্ঞাসমানানাং হেতুভিঃ সৰ্ব্বতোমুখৈঃ।
তত্ত্বমেকো মহাযোগী হরিনারায়ণঃ প্রভুঃ।।”
সেই তাঁরই দ্বিতীয় অবতার হিসেবে বন্দিত ‘কূর্ম’ অর্থাৎ কচ্ছপ রূপ :
“ক্ষিতিরিহ বিপুলতরে তব তিষ্ঠতি পৃষ্ঠে ধরণিধরকিণ-চক্রগরিষ্ঠে।।
কেশব ধৃত-কচ্ছপরূপ জয় জগদীশ হরে।।”
এই রূপের প্রতি নিবেদিত পবিত্র উৎসবই কূর্ম দ্বাদশী।

পৌষ মাসের শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে এই পরম পবিত্র কূর্ম দ্বাদশী (Kurma Dwadashi 2025) উৎসব পালন করা হয়। ভক্তরা উপবাস রাখেন। বলা হয় – এই তিথিতে ভগবান বিষ্ণু কূর্ম অর্থাৎ কচ্ছপের রূপ ধারণ করেছিলেন। এই রূপে অবতীর্ণ হয়েই তিনি পৃথিবীকে পৃষ্ঠে ধারণ করেন। তারপরই সম্পন্ন হয় সমুদ্র মন্থন।

কূর্ম দ্বাদশীতে উপবাস রাখার সাথে সাথে ভগবান বিষ্ণুর কূর্ম রূপের পুজো করা হয়। সমুদ্রমন্থনের কারণে পৃথিবীর ভারসাম্য যাতে বিনষ্ট না হয় – তাই পৃথিবীকে নিজ পৃষ্ঠে ধারণ করেছিলেন তিনি। লোক বিশ্বাস – সেই ভার তিনি এখনও নামাননি তাই আজও পৃথিবী স্থির রয়েছে। এই কারণেই এদিন ভক্তরা প্রার্থনা করেন তিনি যেন ভক্তদের সংসারের সমস্ত ভার বহন করার ক্ষমতা দেন এবং ভক্তি প্রদান করেন।

ব্রতের দিন রাত্রে হরি কথা শ্রবণ – কীর্তন ও রাত্রি জাগরণ এবং পুজোর পর দানের রীতি প্রচলিত। এক্ষেত্রে দ্বাদশীর পারণও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারণ না করলে ব্রতের ফল ক্ষীণ হয় বলে মনে করা হয়।

এই ব্রত পালনের সময় বিষ্ণু সহস্রনাম, নারায়ণ স্তোত্র পাঠ, কূর্ম অবতারের মাহাত্ম্য বা কাহিনি পাঠ এবং ধ্যানও বহুল প্রচলিত।

সনাতন ধর্মে এই কূর্ম দ্বাদশী পালনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বলা হয় – এই ব্রত পালনে বিষ্ণু কৃপা লাভ হয়। জীবনে সুখ, শান্তি, সৌভাগ্য আসে। ভগবান বিষ্ণুর এই রূপ যেহেতু ধৈর্য এবং স্থায়িত্বের প্রতীক তাই এই ব্রত পালনের মাধ্যমে মানসিক স্থিরতা আসে। ভগবান বিষ্ণুর এই রূপের পুজো করলে ভক্ত মোক্ষও লাভ করেন।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now