সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের রেল অবকাঠামোয় এবার বিরাট পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল সংসদে। জানানো হয়েছে, ভারতের প্রায় ৮১% রেলপথ এখন ঘন্টায় ১১০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রস্তুত, যা কিনা ২০১৪ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আর এই তথ্য সামনে আসতেই স্পষ্ট হল যে, নীরবে কিন্তু পরিকল্পিতভাবেই বিশাল নেটওয়ার্ক জুড়ে গতি বাড়ানোর কাজ চালিয়েছে ভারতীয় রেলওয়ে (Indian Railways)।
কতটা ট্র্যাক আপগ্রেড হল?
সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতবর্ষে মোট রেল নেটওয়ার্ক প্রায় ১.১ লক্ষ কিলোমিটার। আর এর মধ্যে ৮৪,৮৮৮ কিলোমিটার ট্র্যাক এখন ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বা তার বেশি গতির জন্য উপযোগী। আর ২৩,৪৭৭ কিলোমিটার ট্র্যাকে ট্রেন চলতে পারে ১৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বা তারও বেশি গতিতে।
আরও পড়ুনঃ তৈরি হবে নতুন টানেল, ব্রিজ! আরও কম সময়ে হাওড়া থেকে মুম্বই, বড় পদক্ষেপ রেলের
প্রসঙ্গত, এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে রেল ভবিষ্যতে যে আরও দ্রুতগতির ট্রেন চালাতে পারবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেমন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, অমৃত ভারতে এক্সপ্রেস, বুলেট ট্রেন, চেয়ার-কার ও স্লিপার ভেরিয়েন্টের নতুন প্রজন্মের ট্রেন। আর এটি উচ্চগতি ধরে রাখতে সক্ষম হবে। ফলে যাত্রার সময় আরও কমবে এবং যাত্রী সুবিধা বাড়বে।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের কৌশল অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, চিন, জাপান, ফ্রান্স যেখানে আলাদা হাই-স্পিড যাত্রী করিডর তৈরি করে গতি বাড়াচ্ছে, সেখানে ভারত বিদ্যমান ট্র্যাকগুলিকে আপগ্রেড করছে, আর একই লাইনে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চালাচ্ছে। এমনকি চলমান পরিষেবা বন্ধ না করেই উন্নয়ন করছে। ফলে কাজ অনেক বেশি জটিল আর প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
আরও পড়ুন: ভূমিহীন ক্ষেতমজুররাও পাবে কৃষক বন্ধুর ৪০০০ টাকা, সঙ্গে রাখুন এই ডকুমেন্টগুলি
রেলের সূত্র মারফৎ খবর, গতি বাড়াতে এবার ট্র্যাক শক্তিশালীকরণ, আধুনিক সিগন্যালিংক, সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়ন, সুরক্ষা ব্যবস্থা উন্নতিকরণ সহ একাধিক প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে। আর রেল মন্ত্রকের কৌশল অনুযায়ী, ট্র্যাকগুলি মূলত ১১০ কিলোমিটার থেকে ১৩০ কিলোমিটার, এবং তারপর ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতি পাবে। রেল আধিকারিকদের দাবি,ভারতের পরিস্থিতি বিশ্বের মধ্যে সবথেকে অনন্য। কারণ, প্রতিদিন ২.৫ কোটির বেশি যাত্রী রেলের মাধ্যমে চলাচল করে, আর বিশ্বের দীর্ঘতম মালবাহী ট্রেন চলাচল করে ভারতেই। এক কথায়, বিশ্বমঞ্চে খেল দেখাচ্ছ ভারতীয় রেল।











