প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! অভিযোগ কাটমানি নিয়ে নাকি ৩০ যুবতীকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) টাকা পাইয়ে দিয়েছেন ৩ সিভিক ভলেন্টিয়ার। অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানে। এবার এই বেআইনি কাজে নাম জড়ানোর অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করল অভিযুক্তদের। জানা গিয়েছে, তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ না-হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে যোগ দিতে পারবেন না।
লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা থেকেও কাটমানি!
রাজ্যের মহিলাদেরকে যাতে স্বামী-সন্তানদের কাছে হাত খরচের জন্য টাকা চাইতে না হয়, সেই কারণে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের জন্য চালু করেছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প। কিন্তু সেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা থেকেও কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা। কিন্তু আউশগ্রাম-১ ব্লকের দারিয়াপুর এলাকার ২৫ বছরের কমবয়সি ৮-১০ জন উপভোক্তাকে অনুদান পাইয়ে দিল আউশগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও অফিসের এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। জানা গিয়েছে, এই দূর্নীতিমূলক কাজে সাহায্য করেছে আউশগ্রাম থানার তিন সিভিক ভলেন্টিয়ার।
আরও পড়ুনঃ ‘রাস্তা বন্ধ, বিরাট আইনি জালে ফেঁসেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার!’ DA মামলায় বড় আপডেট
বরখাস্ত করা হল তিন সিভিক ভলেন্টিয়ারকে
রিপোর্ট মোতাবেক আউশগ্রাম-১ ব্লকের প্রায় ৩০ জন যুবতীর বয়স ২৫ পেরোয়নি,এদিকে তাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান পাইয়ে দিয়েছেন বলে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই কারচুপির ‘মাথা’ আউশগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও অফিসের এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। এমনকি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আউশগ্রাম থানার তিন সিভিক ভলেন্টিয়ার। জানা যাচ্ছে, এক সিভিক ভলান্টিয়ার নাকি কাটমানির বিনিময়ে বেআইনি ভাবে এই সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ইতিমধ্যে ওই তিন সিভিক ভলেন্টিয়ারকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ না-হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে যোগ দিতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাগুইআটিতে ১১ বছরের নাবালিকাকে গণধর্ষণ! গ্রেফতার ৫ প্রতিবেশী কিশোর
প্রসঙ্গত, জনপ্রিয় সরকারি প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে কাটমানি নেওয়ার ঘটনা শুধুমাত্র আউশগ্রামে নয় তদন্তে উঠে এসেছে এড়াল এলাকাতেও হয়েছে। সেখানেও একই ভাবে অনিয়ম হয়েছে। ভুয়ো তথ্য দিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় বিডিও অফিসের এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তাই গোটা এলাকায় এইমুহূর্তে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












