অনুমোদন দেয়নি রাজ্য সরকার! ED চার্জশিট দিলেও সন্দীপদের বিরুদ্ধে থমকে বিচার

Published:

RG Kar Corruption Case
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, তাই এইমুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ বেশ গরম। আর এই ভোটের আবহে ফের চর্চায় উঠে এল আরজি কর দুর্নীতি মামলা (RG Kar Corruption Case)। কিছুদিন আগেই এই ঘটনায় প্রথম চার্জশিট জমা করেছিল ইডি। সেখানে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ছাড়াও নাম ছিল বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরার। পাশাপাশি সুমন হাজরার সংস্থা হাজরা মেডিক্যালের নামও চার্জশিটে উল্লেখ করেছে ইডি। কিন্তু চার্জশিট পেশ করলেও এখনই সন্দীপ ঘোষ-সহ চার জনের বিরুদ্ধে পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না বলে দাবি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

থমকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া

রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, কলকাতা নগর দায়রা আদালতের ইডির বিশেষ আদালতে উঠেছিল আরজি কর হাসপাতালের দুর্নীতি মামলার শুনানি। সেখানে তদন্তকারী সংস্থা ইডির তরফে জানানো হয়েছে, সন্দীপের চার্জশিটের বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ‘প্রয়োজনীয় স্যাংশন’ অনুমোদন মেলেনি। আসলে কেউ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া এগোনোর জন্য সরকারের অনুমোদনের দরকার হয়। সেক্ষেত্রে সন্দীপ ঘোষের ক্ষেত্রে দরকার লাগবে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের অনুমোদন, যেটা এখনও মেলেনি। এই কারণেই সন্দীপদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ হলেও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না।

পরবর্তী শুনানি কবে?

ইডি সূত্রে খবর, আরজি কর হাসপাতালের দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির দিনও ঠিক করা হয়েছে আগামী ৭ এপ্রিল। উল্লেখ্য, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে প্রথম আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন আরজি করের বিতর্কিত নন মেডিক্যাল ডেপুটি সুপার আখতার আলি। আরজি করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপকে প্রথমে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তিনি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। সিবিআইয়ের সেই মামলায় বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। তার মাঝেই ইডি এই তদন্তভার নেই।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাইয়ে দিতেও কাটমানি! পূর্ব বর্ধমানে বরখাস্ত ৩ সিভিক ভলেন্টিয়ার

প্রসঙ্গত, আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তদন্তের সূত্র ধরেই উঠে এসেছিল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও। অভিযোগ সন্দীপ ঘোষের সময়কালে নাকি বিভিন্ন টেন্ডার দুর্নীতি হয়েছিল। পাশাপাশি হাসপাতালের ভিতরে বেআইনি পার্কিং, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। তখনই নাম উঠে আসে বিপ্লব সিং ও সুমন হাজরার। এখন দেখার পালা এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছয় আদালত।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now