প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচনেই রাজনৈতিক পালাবদল, প্রথমবার বাংলায় সরকার গঠন গড়ল বিজেপি। বর্তমানে কেন্দ্র এবং রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন বিজেপি সরকার চলছে। আর এই আবহে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) নিয়ে বড় আপডেট দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জানিয়ে দিলেন যে, কলকাতা পুরসভার ক্ষমতায় এখনও তৃণমূলই (All India Trinamool Congress) রয়েছে। তাই সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে কোনও ভাবেই পুর পরিষেবা পেতে সমস্যার মুখে না-পড়েন, সে বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের নজরদারির বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বিশেষ বার্তা মমতার
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, সোমবার কালীঘাটের বাসভবনে কলকাতা পুরসভার মেয়র ও মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখার উপর আলোচনা করা হয়েছিল। পুর এলাকার পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তা সংস্কার, বর্জ্য অপসারণ-সহ একাধিক নাগরিক পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সাধারণ মানুষ যাতে কোনও ভাবেই পুর পরিষেবা পেতে সমস্যার মুখে না-পড়ে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ বার্তাও দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
কলকাতা পুরসভার ক্ষমতা এখনো তৃণমূলের হাতে?
তৃণমূল সূত্রের খবর, দলীয় বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যদি কোনো সমস্যা থাকে তা যেন দ্রুত সমাধান করা হয়। এছাড়াও তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কলকাতা পুরসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কাজকর্মে কোনও ঢিলেমি করা যাবে না। অর্থাৎ কলকাতা পুরসভার ক্ষমতায় যে এখনও তৃণমূল আছে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। সেই জয়ের সুবাদে দ্বিতীয় বারের জন্য কলকাতার মেয়রের দায়িত্ব পেয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম।
আরও পড়ুন: সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে ED তদন্তের অনুমতি, আরজি কর কাণ্ডে ফের বড় পদক্ষেপ
জানা গিয়েছে, এতদিন কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে বিরোধী দলগুলি প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা না পাওয়ায় পুরসভায় কোনও স্বীকৃত বিরোধী দল গড়ে উঠতে পারেনি। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতা পুরসভার অন্দরের সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এই অবস্থায় ডিসেম্বর পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া যাতে তৈরি না হয়, সেই নিয়েই আগাম সতর্কবার্তা দিলেন মমতা।










