প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের ধর্ষণের অভিযোগ উঠে এল পূর্ব বর্ধমানে (Purba Bardhaman)। জানা গিয়েছে, পারিবারিক উৎসব চলাকালীন ঘরের মধ্যে ঢুকে শাশুড়িকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল জামাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের থানার অন্তর্গত এক গ্রামে। হাতেনাতে পাকড়াও করলেও পালিয়ে যায় অভিযুক্ত। শেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে গ্রেফতার করা হয় জামাইকে। ঘটনা ঘিরে তুমুল শোরগোল এলাকায়।
শাশুড়িকে ধর্ষণ করল জামাই
রিপোর্ট মোতাবেক, গত শনিবার পূর্ব বর্ধমানের মেমারির মণ্ডল গ্রামে নির্যাতিতার পরিবারে একটি অনুষ্ঠান ছিল। তাতে আমন্ত্রিত ছিলেন আত্মীয়স্বজনরা। যেহেতু পারিবারিক ছিল তাই শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন ভাগ্নি জামাই শ্যামল মহালি। তিনি গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা। দিনভর হইহুল্লোড়, আনন্দের পর রাতে ঘটে যায় ভয়ংকর বিপদ। অভিযোগ, খাওয়াদাওয়া করে জামাই বাড়ি চলে গেলেও রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শ্যামল ফের শ্বশুরবাড়ির ছাদের টালি খুলে তার মামিশাশুড়ির ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। মদের ঘোরে বেহুঁশ হয়ে থাকায় চিৎকারে ঘুম ভাঙেনি শ্বশুরের। যদিও কিছুক্ষণ পর সকলের সম্বিৎ ফিরল হাতেনাতে ধরা পড়ে জামাইয়ের কুকীর্তি।
৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ
ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হতেই নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্ত শ্যামল মহালিকে একটি ঘরে জোরজবরদস্তি তালাবন্দি করে রাখে। কিন্তু শেষে সেই ঘরের ছাদের টালি খুলে চম্পট দেয় সে। এরপর পরেরদিন অর্থাৎ রবিবার সকালে নির্যাতিতাকে নিয়ে মেমারি থানায় যান পরিবারের সদস্যরা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপরই অভিযুক্ত জামাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল অর্থাৎ সোমবার তাকে বর্ধমান আদালতে তোলা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে নির্যাতিতা শাশুড়িকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘মাসিক তোলা নেয় পুলিশ, টাকা যায় কালীঘাটে!’ বলে বিপাকে অশোক দিন্দা, দায়ের মামলা
প্রসঙ্গত, পূর্ব বর্ধমানের মেমারির মণ্ডল গ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় রীতিমতো ছিছিক্কার পড়ে গিয়েছে প্রতিবেশীদের মধ্যে। যদিও নির্যাতিতার পরিবারের সকলে জামাইয়ের এমন কীর্তিতে তাজ্জব। নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসে কাণ্ড দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারছেন না কেউ। তাঁদের সকলের দাবি কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দেওয়া হোক অভিযুক্তকে। যদিও এই ঘটনায় অভিযুক্তের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা সেই নিয়েও তদারকি করছে পুলিশ।












