৬৮ লক্ষ টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগ সোহমের বিরুদ্ধে! হাইকোর্টে দায়ের মামলা

Published:

Soham Chakraborty
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিতর্কের শিরোনামে উঠল সোহম চক্রবর্তীর (Soham Chakraborty) নাম! সময় মত ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠে এল তাঁর বিরুদ্ধে। কিছুদিন আগে ৯ কোটির ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে শেষ পর্যন্ত তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন জনপ্রিয় বলিউডের কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে বেশ উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। আর এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঋণ বিতর্কে জড়ালেন অভিনেতা তথা তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী। তাঁর বিরুদ্ধে ৬৮ লক্ষ টাকার ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেতা প্রযোজক শাহিদ ইমাম।

৬৮ লক্ষ টাকা ধার নেন সোহম

সংবাদ প্রতিদিনের রিপোর্ট মোতাবেক, সোহম চক্রবর্তীর সঙ্গে অভিনেতা প্রযোজক শাহিদ ইমামের পরিচয় দীর্ঘ দিনের। সেই সুবাদে তিনি ২০২১ সালে অভিনেতা-প্রযোজক সোহমকে ৬৮ লক্ষ টাকা ধার দেন। কিন্তু পরে শাহিদ ওরফে ‘শুভম’ একাধিক বার পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানালেও তাতে নাকি কর্ণপাত করেননি সোহম। অভিযোগ, ঋণের সামান্য অংশ ফেরত দিয়ে নীরব অভিযুক্ত অভিনেতা-বিধায়ক। বদলে শাহিদকে নাকি হুমকি দিচ্ছেন সোহম। শেষে থানায় লিখিত অভিযোগের পর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন শাহিদ ইমাম। তিনি জানান, “২০২৩ সালে এসএসসিকাণ্ডে যখন তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সময় আমি টাকা ফেরত চাইতে পারিনি। এরপর জামিন পাওয়ার পর সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে যোগাযোগ করি সোহমের সঙ্গে। তখন মোট ২৫ লক্ষ টাকা তাঁকে ফেরত দিয়েছিলেন কিন্তু তার পরেই তিনি নীরব।”

হাই কোর্টে মামলা দায়ের সোহমের বিরুদ্ধে

জানা গিয়েছে, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার অভিনেতা তথা তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী এর বিরুদ্ধে শাহিদ ইমাম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন চারু মার্কেট থানায়। এরপরই হাই কোর্টে ঋণখেলাপির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। এদিকে ঋণ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেননি সোহম। তিনি জানিয়েছেন, ‘২০২১ সালে ‘পাকা দেখা’ ছবির জন্যই ওই টাকা ধার নিয়েছিলেন। ৬৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু শাহিদের আরও কিছু টাকা দেওয়ার কথা ছিল, পরে সেটা দেননি। তখন অন্য জায়গা থেকে বাকি টাকা জোগাড় করি। টাকা ফেরত দেব একাধিকবার জানিয়েছি।”

হুমকির অভিযোগ অস্বীকার সোহমের

হুমকির বিষয় নিয়ে যে ভয়ংকর অভিযোগ তুলেছিলেন শাহিদ ইমাম সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সোহম চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই ২৫ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৪৩ লক্ষ টাকাও মিটিয়ে দেব বলে আমি বারবার জানিয়েছেন। তবে কয়েকটি ছবি আটকে থাকায় আর্থিক সমস্যার কারণে পুরো টাকা একসঙ্গে শোধ করা সম্ভব হয়নি। আসলে এই সব কিছুই নির্বাচনের আগে আমায় কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ এছাড়াও আইনি নোটিশ নিয়ে জানান, “হাইকোর্টের আইনি নোটিস পেয়েছি। আমার আইনজীবী বিষয়টি দেখছেন। ওঁরা আইনি পথে হাঁটলে আমিও বাধ্য হব আইনি পদক্ষেপ নিতে।”

আরও পড়ুন: ভোটের আগেই রণক্ষেত্র বর্ধমান! বিজেপির প্রচারে বাধা দিতে গিয়ে ধোলাই খেল তৃণমূল

প্রসঙ্গত, সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। এই অবস্থায় যেখানে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে উঠে পরে লেগেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূল বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর এইরূপ ঋণ পরিশোধ না করার মত অভিযোগ নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে গোটা দল। বিরোধীদের কটাক্ষও উঠে আসছে। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now