সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গ্রীষ্মের আগেই সন্ত্রাসের দেশকে (Pakistan) জল যন্ত্রণায় মারবে ভারত! রাভি নদীর অতিরিক্ত জলপ্রবাহ বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নয়াদিল্লি। হ্যাঁ, বহু প্রতীক্ষিত শাহপুর কান্দি ব্যারেজ প্রকল্পের (Shahpurkandi Dam Project) কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই হয়তো এই ব্যারেজ নির্মাণ সম্পন্ন হবে। তবে একবার এটি চালু হলে রাভি নদীর অতিরিক্ত জল এতদিন ব্যবহার না হয়ে যা পাকিস্তানে চলে যেত, তা সীমান্ত পেরোবে না। ফলে জল সংকটে ভুগবে সন্ত্রাসীরা।
উল্লেখ্য, এর আগে রাভি নদীর জল এতদিন পাঞ্জাবের মাধোপুর অঞ্চল থেকে সরাসরি পাকিস্তানে যেত। আর সেই জলের একটি বৃহৎ অংশ ভারতের অভ্যন্তরে ব্যবহারই হতো না। তবে এবার এই ব্যারেজ চালু হলে অতিরিক্ত জল সংরক্ষণ করা যাবে আর সেচ প্রকল্প ব্যবহার বাড়বে। পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে জল অপচয় কমবে এবং শুষ্ক অঞ্চলে কৃষিকাজ উন্নত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন এলাকায় সরাসরি সুবিধা মিলবে?
সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের জল সম্পদ মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল সীমান্তবর্তী শুষ্ক অঞ্চলগুলিকে সেচের আওতায় নিয়ে আসা এবং কৃষিকাজ উন্নত করা। বিশেষ করে কথুয়া জেলা এবং সাম্বা জেলা এতে উপকৃত হবে। কারণ, এই দুই জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই পর্যাপ্ত পরিমাণে সেচ ব্যবস্থার অভাব ছিল। আর ব্যারেজ চালু হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলেই আশা করছে প্রশাসন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া যে করে হোক বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে আর কোনও বাড়তি জল ওদিকে প্রবাহিত হতে দেওয়াই যাবে না। পাকিস্তানের উপর এর প্রভাব প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানিয়েছেন, ভারত নিজের প্রয়োজনেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এদিকে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী রাভি, বেয়াস এবং শতদ্রু নদী ছিল ভারতের আওতায় এবং সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব ছিল পাকিস্তানের আওতায়। কিন্তু বাস্তবে পূর্বাঞ্চলের নদীগুলির অতিরিক্ত জল এতদিন পাকিস্তানে প্রবাহিত হয়ে আসছিল, যা এখন বন্ধ করার জন্য বদ্ধপরিকর ভারত।
আরও পড়ুন: মিলবে ৩০০০, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ! জানুন যোগ্যশ্রী প্রকল্পে আবেদন প্রক্রিয়া ও ডকুমেন্ট
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের প্রায় ৮০% কৃষিকাজ নির্ভর করে সিন্ধু নদীর অববাহিকার উপরেই। আর নদীর জলপ্রবাহ যদি কমে, তাহলে কৃষি থেকে শুরু করে খাদ্য উৎপাদনের উপর প্রভাব পড়বে। এমনকি জল সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আর এই আবহে রাভি নদীর অতিরিক্ত জল বন্ধ হলে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে জল সংকট বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ ওয়াকিবহাল মহলের।












