২০ টাকার চা পাতা ৫ টাকায়! বঞ্চনার অভিযোগে ময়নাগুড়িতে রাস্তা অবরোধ চাষিদের

Published:

Tea Farmers Blocked Roads

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে ক্ষেপে উঠল উত্তরবঙ্গের (North Bengal) চা চাষিরা। কাঁচা চা-পাতার দাম দিনের পর দিন কমে যাওয়ায় এবার রণমূর্তি ধারণ করলেন চাষিরা (Tea Farmers)। হাড়ভাঙা খাটুনির পর উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না মেলার প্রতিবাদে এবং অধিকার আদায়ের দাবিতে সরাসরি পথ অবরোধে (Tea Farmers Blocked Roads) নামলেন উত্তরবঙ্গের কয়েকশো ক্ষুদ্র চা চাষি। ডুয়ার্স থেকে তরাই সর্বত্রই এখন আন্দোলনের আঁচ।

পথ অবরোধ জলপাইগুড়িতে

রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ বুধবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলার লাইফ-লাইন বলে পরিচিত ময়নাগুড়িতে কয়েকশো ক্ষুদ্র চা চাষি পথ অবরোধ করেছিল। তাঁদের অভিযোগ, বড় চা বাগান বা ‘বটলিফ’ কারখানাগুলি তাঁদের উৎপাদিত কাঁচা পাতার সঠিক দাম দিচ্ছে না। তাই রামশাই চা পাতা ব্যবসায়ী সমিতি এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র চা চাষিদের যৌথ উদ্যোগে ময়নাগুড়ি-রামশাই সড়ক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়েছিল। যার ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। তাঁদের দাবি কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার কেউই এই সমস্যার সমাধানে নীরব।

কাঁচা পাতার দাম কমে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ চাষিরা

শুধু জলপাইগুড়ি জেলা নয়, উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ৷ ক্ষুদ্র চা-চাষিদের সংগঠনের অভিযোগ, এর পিছনে রয়েছে ফ্যাক্টরি মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফা আয়ের প্রবণতা। প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ চাষি সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছিলেন, “আমরা রক্ত জল করে চা ফলাই, অথচ আমাদের পাতার দাম নির্ধারণ করে অন্যরা। সব খরচ মেটানোর পর হাতে কিছুই থাকছে না। আর এই যন্ত্রণা সহ্য করা যাচ্ছে না। খুব শীঘ্রই আমাদের এই সমস্যা সমাধান করতে হবে প্রশাসনকে।” জানা গিয়েছে, সার, তেল এবং শ্রমিকের মজুরি হু-হু করে বাড়লেও কাঁচা পাতার দাম রাখা হয়েছে নামমাত্র।

আরও পড়ুন: খেল দেখাবে আবহাওয়া! কিছুক্ষণেই কলকাতা সহ ৭ জেলায় ধেয়ে আসছে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি

আন্দোলনরত ক্ষুদ্র চা চাষি নরেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছিলেন, সকালে যখন বাগান থেকে পাতা তোলা হয়, তখন দাম থাকে প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা। কিন্তু সেই পাতা যখন ফ্যাক্টরিতে পৌঁছয় তখন সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দাম কমিয়ে ৫-১০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। কারখানা মালিকদের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে সরব হয়েছিল সারা ভারত কৃষক সভা। এদিকে গতকাল আন্দোলন যখন বড় আকার ধারণ করতে থাকে তখনই পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসে কয়েক ঘণ্টা পর অবরোধ উঠে যায়। তবে চাষিদের হুঁশিয়ারি, স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।