ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হবে ভারতীয় রুপি! মোক্ষম পদক্ষেপ RBI-র

Published:

Indian Rupee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার (Indian Rupee) শক্তি ফেরাতে এবার বিরাট পদক্ষেপ ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (Reserve Bank of India)। দেশের ভিতরে বিদেশি মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানো আর টাকাকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নিল বিশেষ উদ্যোগ। দেশের বড় বড় সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে এবার নতুন করে বিদেশি তহবিল সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আরবিআই-র ডেপুটি গভর্নর রোহিত জৈন দেশের একাধিক ব্যাঙ্কের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আর সেখানে বিশেষভাবে FCNR(B) ডিপোজিটের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বড় পদক্ষেপ আরবিআই-র

আসলে গত কয়েক মাস ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার কারণে ভারতীয় টাকার উপর চাপ বাড়ছে। একসময় ডলারের তুলনায় টাকার মূল্য তো প্রায় ৯৭ টাকার কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল। যদিও পিছু পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় মুদ্রা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার কমে যাওয়ার কারণে আরবিআই-র উদ্বেগ যথেষ্ট বাড়ছে। কয়েক মাস আগেও ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার একবারে রেকর্ড উচ্চতায় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তাই এখন ডলার দেশে ফেরানো কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রধান উদ্দেশ্য।

FCNR(B) স্কিমের সুবিধা কি?

জানিয়ে রাখি, FCNR(B) বা ফরেন কারেন্সি নন রেসিডেন্ট ডিপোজিট হলো এমন একটি স্কিম, যেখানে বিদেশে থাকা ভারতীয়রা ডলার বা অন্যান্য বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে ভারতীয় টাকা জমা রাখতে পারেন। এই স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যাঙ্কগুলো সুদের হার বাড়াতে শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, বর্তমানে তিন থেকে পাঁচ বছরের আমানতে আনুমানিক ৫.৫% থেকে ৭.১% পর্যন্ত সুদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সবথেকে বড় বিষয়, এই স্কিমের হেজিং খরচের বড় অংশই বহন করছে আরবিআই। যার ফলে ব্যাঙ্কগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ কমছে এবং তারা আরও বেশি পরিমাণ বিদেশি তহবিল সংগ্রহ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

অর্থনৈতিক মহলের অনুমান, আরবিআই-র এই উদ্যোগের ফলে আগামী দিন হয়তো বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা দেশে ফিরতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত ভারতে আসতে পারে। এমনকি আবার কিছু রিপোর্টে এই পরিমাণ ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা দেশে যদি আসে, তাহলে ভারতীয় টাকার অবস্থান হয়তো আরও শক্তিশালী হতে পারে বলেই মত অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: স্মার্ট মিটার লাগানোর আগে এটি অবশ্যই করতে হবে, ১ অগাস্ট থেকে কার্যকর হবে নিয়ম

এদিকে আরবিআই যে শুধুমাত্র সুদের হার বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে এমনটা নয়। পাশাপাশি কিছু নিয়মও সহজ করছে। এখন এই ধরনের ডিপোজিটের ভিত্তিতে ব্যাঙ্কগুলি সহজে গ্যারান্টি বা লেটার অফ ক্রেডিট ইস্যু করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপ আরও বাড়বে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।