সহেলি মিত্র, কলকাতা: রেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রেশন (Rationing) ব্যবস্থায় যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে সেই বার্তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। এরইসঙ্গে মাথা পিছু ৭ কেজি চাল দেওয়ার ঘোষণাও (West Bengal Government) করেছেন তিনি।
রেশন নিয়ে বড় ঘোষণা সরকারের
অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY)-এর আওতায় এবার থেকে প্রতি পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে মাথাপিছু ৭ কেজি চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার কথা। পাশাপাশি রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি রুখতে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। ধান সংগ্রহে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা নির্মূল করতে এবং কৃষকরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত ফসলের সম্পূর্ণ মূল্য পান, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগ প্রচেষ্টা জোরদার করছে। খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া সোমবার রাজ্যজুড়ে প্রায় ৫০০ চালকল মালিকের সঙ্গে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং তাঁদের গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রেড করা ও উন্নত মানের চাল সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ জানান।
মন্ত্রী জানান, “পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে রেশনিং ব্যবস্থায় দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। আমাদের সরকারের অবস্থান দ্ব্যর্থহীন। যদি কোনো চালকল মালিক, পরিবেশক বা এমনকি কোনো বিভাগীয় কর্মকর্তাকেও অনিয়মে জড়িত পাওয়া যায়, তাহলে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুবিধাভোগীদের সরবরাহ করা খাদ্যশস্যের মানের ব্যাপারে কোনো আপোস করা হবে না।’
দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা মন্ত্রীর
তিনি আরও বলেন যে, সভায় কিছু চালকল মালিক অভিযোগ করেছেন যে মাত্র ৩০ শতাংশ কৃষক লাভবান হয়েছেন এবং লাভের ৭০ শতাংশ মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে গেছে। “কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ধান সংগ্রহের দর প্রতি কুইন্টাল ২৪৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের রাজ্য সরকার ২৬৪১ টাকা দিচ্ছে। আমরা চাই আরও বেশি সংখ্যক কৃষক রাজ্য সরকারের কাছে তাদের ধান বিক্রি করুক, যাতে তারা ন্যায্য মূল্য পান,” বলেছেন অশোক কীর্তনিয়া। তিনি জানান, কোনও ডিস্ট্রিবিউটর বা ডিলার দুর্নীতিতে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী চালকল মালিকদের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলের বিদ্যমান চালের মজুত শীঘ্রই বিভাগে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, ‘রেশন দোকানগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ডিলারদের নিম্নমানের চাল বা গম গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি তাঁরা নিম্নমানের খাদ্যশস্য পান, তবে তা পরিবেশকের কাছে ফেরত দিতে হবে। তাঁদেরকে সরাসরি ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে আমাকে জানাতেও বলা হয়েছে, যার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’










