নতুন খবর
⚡
ক্যালেন্ডার রাশিফল আবহাওয়া রেল সোনার দাম রুপোর দাম পেট্রোলের দাম ডিজেলের দাম গ্যাসের দাম জোয়ার ভাটা ভক্তি ও মন্ত্র
হনুমান

শ্রী হনুমান চালিশা - Shri Hanuman Chalisa in Bengali Lyrics, Meaning, PDF

হনুমান চালিসা (Hanuman Chalisa in Bengali) হলো সংকটমোচন মহাবীর ভগবান শ্রী হনুমানজির অপার মহিমা ও শৌর্যে নিবেদিত ৪০টি অত্যন্ত পবিত্র ও সিদ্ধ শ্লোকের এক কালজয়ী মহা স্তোত্র। এখানে আপনি সম্পূর্ণ Hanuman Chalisa in Bengali lyrics, প্রতিটি দোহার সহজ বাংলা অর্থ (meaning), পাঠের সঠিক নিয়ম ও আশ্চর্য উপকারিতা জানতে পারবেন এবং চাইলে Hanuman Chalisa PDF Download করতে পারবেন। ষোড়শ শতাব্দীতে গোস্বামী তুলসীদাস রচিত এই চালিসা প্রতিদিন প্রাতঃকালে বা মঙ্গলবার ও শনিবার ভক্তিভরে পাঠ করলে জীবনের সর্বপ্রকার ভয়, ভূত-প্রেত বাধা, শনিদোষ ও সংকট দূর হয়ে অপার্থিব সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

হনুমান চালিশা পাঠ (Hanuman Chalisa Lyrics in Bengali)

হনুমান চালিশার প্রধান ৪টি অংশ- ১) দোহা, ২) ধ্যানম্, ৩) চৌপাঈ এবং ৪) দোহা। নিচে সম্পূর্ণ পাঠ তুলে ধরা হলো:

দোহা - Doha
শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি ॥
বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দায়ক ফলচারি ॥
বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার ॥
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥
ধ্যানম্ - Dhyanam
গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ ॥
রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ॥
যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ ।
ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ॥
চৌপাঈ - Choupai (৪০টি শ্লোক)
জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর।
জয় কপিস তিহু লোক উজাগর॥১॥
রাম দূত অতুলিত বল ধামা।
অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা॥২॥
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।
কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি॥৩॥
কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা।
কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা॥৪॥
হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ।
কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে॥৫॥
শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন।
তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥৬॥
বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর।
রাম কাজ করিবে কো আতুর॥৭॥
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া।
রামলখন সীতা মন বসিয়া॥৮॥
সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা।
বিকট রূপধরি লংক জরাবা॥৯॥
ভীম রূপধরি অসুর সংহারে।
রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে॥১০॥
লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে।
শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে॥১১॥
রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী।
তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি॥১২॥
সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ।
অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ॥১৩॥
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা।
নারদ শারদ সহিত অহীশা॥১৪॥
য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে॥১৫॥
তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা।
রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা॥১৬॥
তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা।
লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা॥১৭॥
য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ।
লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥১৮॥
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী।
জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী॥১৯॥
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে ।
সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে॥২০॥
রাম দুয়ারে তুম রখবারে।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥২১॥
সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা ।
তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা॥২২॥
আপন তেজ সম্হারো আপৈ।
তিনোং লোক হাংক তে কাংপৈ॥২৩॥
ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ।
মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥২৪॥
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা।
জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥২৫॥
সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥২৬॥
সব পর রাম তপস্বী রাজা।
তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥২৭॥
ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ।
সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ॥২৮॥
চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা।
হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥২৯॥
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে।
অসুর নিকংদন রাম দুলারে॥৩০॥
অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা।
অস বর দীন্ জানকী মাতা॥৩১॥
রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥৩২॥
তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ।
জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥৩৩॥
অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী।
জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী॥৩৪॥
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে।
হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে॥৩৫॥
সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা।
জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা॥৩৬॥
জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী।
কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী॥৩৭॥
যো শত বার পাঠ কর কোয়ী।
ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী॥৩৮॥
জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা।
হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা॥৩৯॥
তুলসীদাস সদা হরি চেরা ।
কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥৪০॥
দোহা - Doha
পবন তনয় সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্ ।
রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ্ ॥

সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏

অক্ষর সাইজ:

হনুমান স্তোত্র, চালিশা ও পাঠসমূহ

হনুমান চালিশা বাংলা অনুবাদ (Hanuman Chalisa Bengali Meaning)

হনুমান চালিশার শ্লোকগুলির সহজ বাংলা অর্থ নিচে ছক আকারে বর্ণনা করা হলো:

দোহার বাংলা অনুবাদ

পবন তনয় সংকট হরণ - মংগল মূরতি রূপ্।
রাম লখন সীতা সহিত - হৃদয় বসহু সুরভূপ্॥
হে আশীর্বাদের মূর্ত প্রতীক, পবন পুত্র, সমস্ত দুঃখ হরণকারী! তোমার রূপ সবথেকে মঙ্গলময় ও ঐশ্বরিক। তুমি আমার হৃদয়ে শ্রীরাম, লক্ষণ ও সীতার সঙ্গে সর্বদা বসবাস করো।

ধ্যানম্ এর বাংলা অনুবাদ

গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্।আমি স্বয়ং বায়ু দেবতার পুত্র অঞ্জনেয়াকে প্রণাম করি। তিনি গরুর পায়ের ছাপের আকারে বিশাল সমুদ্রকে লঙ্ঘন করেছিলেন এবং রাক্ষসদের বিনাশ করেছিলেন।
রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্॥আমি বায়ু দেবতার পুত্রকে প্রণাম করি। তিনি মহাকাব্য রামায়ণের এক অমূল্য উজ্জ্বল রত্ন।
যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্।যেখানেই শ্রীরামের মহিমা গাওয়া হয়, সেখানেই আমি হাতজোড় করে প্রণাম করি।
ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্॥আমি ভগবান হনুমানকে প্রণাম করি, যাঁর চোখ ভক্তিাশ্রুতে পরিপূর্ণ এবং যিনি রাক্ষস বিনাশকারী।

৪০টি চৌপাঈ এর বাংলা অনুবাদ (Choupai Meaning in Bengali)

জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর। জয় কপিস তিহু লোক উজাগর॥১॥জ্ঞান এবং গুণের সাগর হনুমানের মূল জয়। তিন জগতের জাগরণকারী বানর বীরের জয়।।
রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা॥২॥রামের দূত, অতুলনীয় শক্তি আর গতি। অঞ্জনীর পুত্র, বাতাসের বংশ বলেই সবার কাছে পরিচিত।।
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি॥৩॥শক্তিশালী এবং বলিষ্ঠ দেহের সাথে বীর পরাক্রমশালী। বুদ্ধিমত্তা এবং প্রজ্ঞায় কে তোমাকে মেলাবে।।
কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা। কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা॥৪॥সোনালী রং এবং সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত। সঙ্গে এক কানের দুল আর কোঁকড়ানো চুল।।
হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ। কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে॥৫॥হাতে বজ্র এবং পতাকা নিয়ে শোভিত রূপ। কাঁধ এবং কোমড় জুড়ে পরা পবিত্র সুতো।।
শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥৬॥ভগবান শঙ্করের পুত্র এবং কেশরীর আনন্দ। সেই পরাক্রমশালী, যার মহিমা গোটা বিশ্বেই প্রশংসিত হয়।।
বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর॥৭॥কে জ্ঞানী, কে গুণী, কে অতি চতুর। কে রামের কাজ করতে হবে না ব্যাকুল।।
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। রামলখন সীতা মন বসিয়া॥৮॥যে ভক্তির সাথে ভগবান রামের দিব্য কাহিনী শ্রবণ করে। তাদের মন রাম, লক্ষণ এবং সীতার প্রেমময়ে হয় পরিপূর্ণ।।
সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা। বিকট রূপধরি লংক জরাবা॥৯॥তুমি ক্ষুদ্র রূপ ধারণ করে উপস্থিত হয়েছ সীতার সামনে। আবার ভয়ংকর রূপ ধারণ করে পুড়িয়ে দিয়েছ লঙ্কা নগরীকে।।
ভীম রূপধরি অসুর সংহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে॥১০॥ভীমের ন্যায় বিশাল রূপে অসুরকে নাশ করো তুমি। ভগবান রামের সব কাজ তুমিই পারো একমাত্র করতে।।
লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে। শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে॥১১॥সঞ্জীবনী এনে তুমি জীবন দিয়েছে লক্ষণকে। ভগবান রামের হৃদয় পূর্ণ করেছ সুখে।।
রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী। তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি॥১২॥রঘুপতি (ভগবান রাম) ভরতকে খুব প্রশংসা করেছিলেন। তুমি ভরতেরই মতো তেনার পরম প্রিয় ভ্রাতা।।
সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ। অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ॥১৩॥হাজার মুখ তোমার মহিমা গাইবার জন্য যথেষ্ট নয়। এই বলে প্রভু রাম তোমাকে আলিঙ্গন করেন।।
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা। নারদ শারদ সহিত অহীশা॥১৪॥স্রষ্টা ব্রহ্মা সনকা, মুনি নারদ সকলে। তোমার যথাযথ মহিমা বর্ননা করতে ব্যর্থ।।
য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে॥১৫॥কবি এবং পণ্ডিতরা ইত্যাদি এমনকি যমরাজ, কুবের।  এবংদিগপালের মতো দেবতারাও হনুমানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে ব্যর্থ।।
তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা। রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা॥১৬॥তুমি সুগ্রীবের একটি মহান উপকার করেছো, তাকে শ্রী রামের।। সাথে একত্রিত করে রাজকীয় সিংহাসনে স্থাপন করেছ।।
তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা॥১৭॥তোমার ভগবান রামের উপদেশ বিভীষণ মানে। লঙ্কার অধীশ্বরের (রাবণ) ভয় সম্পর্কে সমস্ত বিশ্ব জানে।।
য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥১৮॥সহস্র যোজন উর্দ্ধে সূর্য্যদেবকে দেখে। ভুল করে তারে মিষ্টি ফল ভেবে গ্রাস করেছিলে।।
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী। জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী॥১৯॥প্রভু রামের আংটি মুখে নিয়ে তুমি নির্দ্বিধায়। সমস্ত বাঁধাকে তুচ্ছ করে সাগর পারি দিয়ে ছিলে।।
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে । সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে॥২০॥দুর্গম কাজ যা পৃথিবীতে কেউ সম্পন্ন করতে পারেনা। তা তোমার অনুগ্রহে সহজ সরল হয়ে যায়।।
রাম দুয়ারে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥২১॥প্রভু রামের দুয়ারে তুমি চিরকালের রক্ষী। তোমার আজ্ঞা ছাড়া কেহ না প্রবেশ করতে পারে।।
সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা । তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা॥২২॥তোমার কৃপায় আমি সর্বসুখ লাভ করি। তুমি যেথা রক্ষী, সেথা আর কারে ডরি।।
আপন তেজ সম্হারো আপৈ। তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ॥২৩॥নিজের তেজ, তুমি নিজেই করো সম্বরণ। তোমার হুঙ্কারে দেখো কাঁপে ত্রিভুবন।।
ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥২৪॥ভুত, প্রেত, পিশাচ কভু কাছে না আসে। মহাবীর নাম তবে যে স্মরণ করে।।
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥২৫॥রোগ, কষ্ট ও দুর্দশা সব দূর হয়। যে জন তোমার নাম জপ করে।।
সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥২৬॥বিপদ ও সংকটে একমাত্র মহাবীর হনূমান উদ্ধার করে। যে তার নাম (হনুমান ) চিরকাল ধ্যান করে।।
সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥২৭॥যে মহাপ্রভু রামের ধ্যান তপস্যা করে।। তুমি তাদের সমস্ত কঠিন কাজকে সহজ করো।
ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ। সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ॥২৮॥তোমার চরণে যে অন্তরের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে সমর্পণ করে। তবে সে জীবনের সীমাহীন ফল লাভ করে।।
চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা। হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥২৯॥তোমার নামের খ্যাতি ছড়াবে চার যুগে। তোমার মহিমাতে আলোকিত হবে জগৎ জুড়ে।।
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকংদন রাম দুলারে॥৩০॥হে হনুমান, তুমি রক্ষা করো সাধু সন্ত। অসুর সংহার করে তুমি শ্রী রামের প্রিয় ভক্ত।।
অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা। অস বর দীন্ জানকী মাতা॥৩১॥তুমি অষ্ট সিদ্ধি ও নব নিধির শক্তি দান করতে পারো। যা তুমি বরদান রূপে পেয়েছো, জানকি মাতার থেকে।।
রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥৩২॥হে হনুমান, তুমি রাম নামের অমৃতের অধিকারী। সর্বদা ভগবান রঘুপতির সেবক হয়ে থাকো।।
তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥৩৩॥তোমার আরাধনা করে, কেউ ভগবান রামের ভক্তি লাভ করতে পারে। এবং তা করে জন্ম জন্মের সমস্ত কষ্ট থেকে মুক্ত হতে পারে।।
অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী। জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী॥৩৪॥রঘুপতি রামের সেবায়, যে জীবন নিবেদন করে। তিনি প্রতি জন্মে হরি (ভগবান বিষ্ণুর) ভক্ত হবে।।
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে। হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে॥৩৫॥অপর কোন দেবতার প্রতি চিত্ত নিবিষ্ট না করেও কেবল।। হনুমানের সেবা করেই সর্বফল লাভ করা যেতে পারে।।
সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা॥৩৬॥রোগের সমস্ত বিপদ থেকে মুক্তি পায় সে। যে মহাবলী বীর্যবীর হনুমান কে স্মরণ করে।।
জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী। কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী॥৩৭॥হে প্রভু হনুমানজি, তোমার জয় হোক, জয় হোক, জয় হোক। তোমার গুরুদেবের মতোই তুমি আমাকে কৃপা করো।।
যো শত বার পাঠ কর কোয়ী। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী॥৩৮॥এই হনুমান চালিশা যে শত বার পাঠ করবে, সে পার্থিব বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে প্রভুত্ব সুখ ও সৌভাগ্য লাভ করবে
জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা। হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা॥৩৯॥যিনি এই হনুমান চালিশা ভক্তি সহকারে পাঠ করেন। স্বয়ং ভগবান শিব সাক্ষী, তিনি অবশ্যই সিদ্ধি লাভ করেন।।
তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা॥৪০॥তুলসীদাস (নিজ নাম) সদা প্রভু হরির ভক্ত। এই বিশ্বাস করে হৃদয়ে স্থান দাও।।

হনুমান চালিশার ইতিহাস | Hanuman Chalisa History

হিন্দু ইতিহাস অনুযায়ী কথিত রয়েছে, তুলসীদাস কারাগার থেকেই ৪০ দিন ধরে হনুমান চালিশা গেয়েছিলেন। আর এটি মন্ত্রের ৪০টি শ্লোককেই মূলত নির্দেশ করে। এমনকি এর শেষে আকবরের দরবারে বানরের একটি বাহিনী নিয়মিত জীবনকে ব্যাহত করার জন্য উপস্থিত হয়েছিল। এর ফলে অবশেষে তুলসীদাস মুক্তি পেয়েছিলেন এবং তিনি শক্তিশালী শ্লোকগুলিকে আরও শক্তি দিয়ে প্রচার করেন।

বলাই বাহুল্য, এই মন্ত্রের শ্লোকগুলি ভগবান রামের প্রতি হনুমানের গভীর ভক্তি আর আত্মসমর্পণের প্রকাশ ঘটায়। তিনি ভগবানের সেবা করার ক্ষেত্রে দৃঢ় উপাসনায় বিশ্বাস করতেন। আর তাঁর বেশ কয়েকটি নিঃস্বার্থ সেবামূলক কাজের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হনুমান যখন লক্ষণকে সেবা করার জন্য সঞ্জীবনীবুতি নামক একটি ভেষজ পর্বত বহন করে আনেন, সেই সময়টি। এমনকি তিনি সেটার জন্য ভগবানের একটি প্রতীক রেখে যাওয়ার জন্য সমুদ্রের ওপারে ভ্রমণ করেছিলেন। আর এই সমস্ত সাহসিকতা ও নিঃস্বার্থতার কাজই শ্লোকে বর্ণিত রয়েছে।

হনুমান চালিশা পাঠের নিয়ম ও সময় | Hanuman Chalisa and Time

হনুমান চালিশা পড়ার কোনওরকম নির্দিষ্ট নিয়ম বা বাধ্যতামূলক কিছু নেই। তবে এমন কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে হয়, যাতে ভক্তদের আরও ভগবান হনুমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি ফুটে ওঠে। এমনকি সেগুলি পালন করে হনুমান চালিশা পাঠ করা শুরু করলে ভক্তদের মনে বিশুদ্ধতা এবং ভগবানের শক্তির অস্তিত্ব নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেগুলি হল-

তবে সময় নিয়ে যদি কথা বলি, তাহলে হনুমান চালিশা আপনি যে কোনও দিন যে কোনও সময় পড়তে পারেন। তবে এটি মঙ্গলবার বা শনিবার পাঠ করলে অশেষ আশীর্বাদ বর্ষণ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

হনুমান চালিশা পাঠের উপকারিতা | Hanuman Chalisa Benifits

যদি ভক্তিভরে এবং আন্তরিকতার সাথে হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন বা আবৃত্তি করেন, তাহলে জীবনে প্রচুর উপকৃত হওয়া যায় বলেই বিশ্বাস করা হয়। হনুমান চালিশা পড়লে মূলত যে উপকারগুলি পাওয়া যায় সেগুলি হল-

  1. যেকোনও বাধা অতিক্রম করা: আপনি যদি নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করেন, তাহলে জীবনে আসা যে কোনও বাধা ও অসুবিধাগুলি খুব সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন। বিশ্বাস করা হয় যে, নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায় এবং সাফল্য অর্জন করা যায়।
  2. স্বাস্থ্যের প্রবল উন্নতি: বিশ্বাস করা হয় যে, যদি নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করা হয়, তাহলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে। এমনকি স্বাভাবিকভাবে শারীরিক ও মানসিক শক্তির বৃদ্ধি হয়। ছোটখাটো অসুস্থতা ও রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।
  3. সুরক্ষা এবং আশীর্বাদ: যদি নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করেন, তাহলে নেতিবাচক শক্তি এবং অশুভ আত্মা ভেতর থেকে বেরিয়ে যাবে। এমনটাই বিশ্বাস করা হয়। আর এটি শক্তি, সাহস এবং ভগবান হনুমানের কাছ থেকে আশীর্বাদ পাওয়ার কাজ করে।
  4. আধ্যাত্মিক উন্নতি: নিয়মিত হনুমান চালিশা পাঠ করলে আধ্যাত্মিক শক্তিরও বিকাশ হয়। এমনকি মহাশক্তির সঙ্গে ঐশ্বরিক সংযোগ স্থাপন হয়। এতে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা দূর হয় এবং আবেগ কাটিয়ে ওঠা যায়। পাশাপাশি ভক্তি, নম্রতা ও কৃতজ্ঞতার মতো ইতিবাচক গুণগুলি বাড়ে ও কর্মক্ষেত্রে সফলতা আসে।

হনুমান চালিশা PDF ডাউনলোড | Hanuman Chalisa in Bengali pdf Download

যদি হনুমান চালিশার পিডিএফ ডাউনলোড করতে চান, তাহলে নীচে লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি এক ক্লিকেই ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

Hanuman Chalisa in Bengali PDF
হনুমান চালিশা বাংলা PDF ডাউনলোড (Download Now)

হনুমান চালিশা পাঠ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্র. দিনে কতবার হনুমান চালিশা পাঠ করা সবচেয়ে শুভ?
উ. প্রতিদিন অন্তত ১ বার একাগ্র চিত্তে হনুমান চালিশা পাঠ করা উত্তম। তবে বিশেষ কোনো সংকট বা ভয় কাটাতে চালিশার ৩৮তম চৌপাঈ অনুযায়ী দিনে ৭ বার বা ১০০ বার (শত বার) পাঠ করার সংকল্প নেওয়া হয়।
প্র. হনুমান চালিশা পাঠের সেরা দিন ও সময় কোনটি?
উ. সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শনিবার হনুমান চালিশা পাঠের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রাতঃকালে স্নান সেরে সূর্যোদয়ের সময়ে এবং সন্ধ্যায় আরতির পর বা রাতে ঘুমানোর পূর্বে পাঠ করা সবচেয়ে লাভদায়ক।
প্র. রাতে ঘুমানোর আগে হনুমান চালিশা পাঠ করলে কী উপকার পাওয়া যায়?
উ. ২৪তম চৌপাঈ ("ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ") অনুযায়ী রাতে হনুমান চালিশা পাঠ করে ঘুমালে দুঃস্বপ্ন, অনিদ্রা, অহেতুক মানসিক ভয় ও নেতিবাচক শক্তির প্রভাব পুরোপুরি কেটে যায়।
প্র. হনুমান চালিশা পাঠ করার সময় কোন দিকে মুখ করে বসা উচিত?
উ. পাঠের সময় সর্বদা পূর্ব বা উত্তর দিক মুখ করে লাল রঙের আসনে বসুন। লাল বস্ত্র পরিধান করে দীপ জ্বালিয়ে পাঠ শুরু করলে হনুমানজির বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয়।
প্র. মহিলারা কি হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন?
উ. হ্যাঁ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই শ্রদ্ধা ও শুদ্ধ মনে হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারেন। মহাবীর হনুমানজি সবার সংকট হরণ করেন।
প্র. শনির সাড়ে সাতি বা ধাইয়ার দশা কাটাতে কি হনুমান চালিশা কাজ করে?
উ. হ্যাঁ, শনিদেব ভগবান হনুমানের ভক্তদের কখনো পীড়া দেন না বলে বর দিয়েছিলেন। তাই শনির সাড়ে সাতি বা মহাদশার প্রভাব কাটাতে প্রতি শনিবারে হনুমান চালিশা পাঠ পরম অমোঘ প্রতিকার।

অন্যান্য দেব-দেবী দর্শন

শিব

শিব

9 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা দুর্গা

মা দুর্গা

11 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা লক্ষ্মী

মা লক্ষ্মী

20 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
গণেশ

গণেশ

25 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী কৃষ্ণ

শ্রী কৃষ্ণ

30 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী রাম

শ্রী রাম

18 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা কালী

মা কালী

22 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী বিষ্ণু

শ্রী বিষ্ণু

19 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা সরস্বতী

মা সরস্বতী

15 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শনি দেব

শনি দেব

21 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সূর্য দেব

সূর্য দেব

14 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সাই বাবা

সাই বাবা

16 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
জগন্নাথ

জগন্নাথ

17 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
নবগ্রহ

নবগ্রহ

26 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন