সংকট মোচন হনুমান অষ্টক (Sankat Mochan Hanuman Ashtak in Bengali) হল কবি সাধক গোস্বামী তুলসীদাস রচিত ৮টি অত্যন্ত শক্তিশালী শ্লোক ও সমাপনী দোহার এক অমোঘ স্তোত্র। জীবনের পরম সংকট ও বিপদ কাটাতে শ্রী হনুমানের এই স্তুতি অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
শ্রী সংকট মোচন হনুমান অষ্টক পাঠের প্রধান ২টি অংশ- ১) ৮টি প্রধান পদ শ্লোক এবং ২) সমাপনী দোহা। নিচে সম্পূর্ণ পাঠ তুলে ধরা হলো:
| বাল সময় রবি ভক্ষ লিয়ো তব, তীনহুঁ লোক ভয়ো অঁধিয়ারো । তাহি সোং ত্রাস ভয়ো জগ কো, যহ সংকট কাহু সোং জাত ন টারো । দেবন আনি করী বিনতী তব, ছাড়ি দিয়ো রবি কষ্ট নিবারো । কো নহীং জানত হৈ জগ মেং কপি, সংকটমোচন নাম তিহারো ॥ ১ ॥ |
| বালি কী ত্রাস কপীস বসৈ গিরি, জাত মহাপ্রভু পন্থ নিহারো । চৌড়ে সুগ্রীব বুলায় লিযে প্রভু, আয় মিলায় দিয়ে রঘুনন্দন সো । রাজ দিলায় কিযো উপকার তুম, তা পর তোহিং ন নাম উচারো । কো নহীং জানত হৈ জগ মেং কপি, সংকটমোচন নাম তিহারো ॥ ২ ॥ |
| অঙ্গদ কে সঁগ লেন গয়ে সিয়, খোজ কপীস যহ বৈন উচারো । জীবত না বচিহৌ হম সো জু, বিনা সুধি লায়ে ইঁহা পগু ধারো । হেরি থকে তট সিন্ধু সবৈ তব, লায় সিয়া-সুধি প্রাণ উবারো । কো নহীং জানত হৈ জগ মেং কপি, সংকটমোচন নাম তিহারো ॥ ৩ ॥ |
| রাবন ত্রাস দঈ সিয় কো সব, রাক্ষসি সোং কহি সোক নিবারো । তাহি সময় হনুমান মহাপ্রভু, জায় মহা রজনীচর মারো । চাহত সীয় অশোক সোং আগি সু, দৈ প্রভু মুদ্রিকা শোক নিবারো । কো নহীং জানত হৈ জগ মেং কপি, সংকটমোচন নাম তিহারো ॥ ৪ ॥ |
| বান লগ্যো উর লছিমন কে তব, প্রান তজে সুত রাবন মারো । লৈ গৃহ বৈদ্য সুষেণ সমেত, তবৈ গিরি দ্রোণ সু বীর উপারো । আনি সজীবন হাথ দঈ তব, লছিমন কে তুম প্রান উবারো । কো নহীং জানত হৈ জগ মেং কপি, সংকটমোচন নাম তিহারো ॥ ৫ ॥ |
| রাবন জুদ্ধ অজান কিযো তব, নাগ কি ফাঁস সবৈ সির ডারো । শ্রীরঘুনাথ সমেত সবৈ দল, মোহ ভয়ো যহ সংকট ভারো । আনি খগেস তবৈ হনুমান জী, বন্ধন কাটি সু ত্রাস নিবারো । কো নহীং জানত হৈ জগ মেং কপি, সংকটমোচন নাম তিহারো ॥ ৬ ॥ |
| বন্ধূ সমেত জবৈ অহিরাবন, লৈ রঘুনাথ পতাল সিধারো । দেবিন্হীং পূজি ভলি বিধি সোং বলি, দেউ সবৈ মিলি মন্ত্র বিচারো । জায়ে সহায়ে ভয়ো তব হী, অহিরাবন সৈন্য সমেত সংহারো । কো নহীং জানত হৈ জগ মেং কপি, সংকটমোচন নাম তিহারো ॥ ৭ ॥ |
| কাজ কিএ বড় দেবন কে তুম, বীর মহাপ্রভু দেখি বিচারো । কৌন সো সংকট মোর গরীব কো, জো তুমসে নহিং জাত হৈ টারো । বেগি হরো হনুমান মহাপ্রভু, জো কছু সংকট হোএ হমারো । কো নহীং জানত হৈ জগ মেং কপি, সংকটমোচন নাম তিহারো ॥ ৮ ॥ |
| লাল দেহ লালী লসে, অরু ধরি লাল লঙ্গূর । বজ্র দেহ দানব দলন, জয় জয় জয় কপি সূর ॥ |
সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏
শ্রী সংকট মোচন হনুমান অষ্টকের ৮টি পদ ও দোহার প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ নিচে দেওয়া হলো:
| ১. বাল সময় রবি ভক্ষ লিয়ো তব, তীনহুঁ লোক ভয়ো অঁধিয়ারো... | হে হনুমানজী! বাল্যকালে আপনি সূর্যকে ফল মনে করে গিলে ফেলেছিলেন, যার ফলে ত্রিভুবনে অন্ধকার নেমে এসেছিল। সারা বিশ্বে হাহাকার শুরু হয়েছিল এবং এই সঙ্কট কেউ এড়াতে পারছিল না। তখন দেবতারা এসে আপনার কাছে প্রার্থনা করেন এবং আপনি সূর্যকে মুক্ত করে সকলের কষ্ট দূর করেন। হে কপিরাজ! এই পৃথিবীতে এমন কে আছে যে আপনার 'সঙ্কটমোচন' নাম জানে না? |
| ২. বালি কী ত্রাস কপীস বসৈ গিরি, জাত মহাপ্রভু পন্থ নিহারো... | বালির ভয়ে সুগ্রীব ঋষ্যমূক পর্বতে থাকতেন এবং পথ চেয়ে বসে থাকতেন। হে প্রভু! আপনিই সুগ্রীবকে ডেকে ভগবান রামের সাথে মিলিয়েছিলেন। আপনি তাকে রাজত্ব ফিরিয়ে দিয়ে মহান উপকার করেছিলেন। হে কপিরাজ! এই পৃথিবীতে এমন কে আছে যে আপনার 'সঙ্কটমোচন' নাম জানে না? |
| ৩. অঙ্গদ কে সঁগ লেন গয়ে সিয়, খোজ কপীস যহ বৈন উচারো... | যখন আপনি অঙ্গদের সাথে মাতা সীতার সন্ধানে গিয়েছিলেন, তখন সুগ্রীব বলেছিলেন যে সীতার খবর না নিয়ে ফিরলে কাউকে তিনি জীবিত ছাড়বেন না। সমুদ্রের তীরে সমস্ত বানর যখন ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছিল, তখন আপনিই সীতা মাতার খোঁজ এনে সবার প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। হে কপিরাজ! এই পৃথিবীতে এমন কে আছে যে আপনার 'সঙ্কটমোচন' নাম জানে না? |
| ৪. রাবন ত্রাস দঈ সিয় কো সব, রাক্ষসি সোং কহি সোক নিবারো... | রাবণ মাতা সীতাকে অশোক বাটিকায় রাক্ষসীদের মাঝে রেখে ভয়ংকর কষ্ট দিয়েছিল। সেই সময়ে হে মহাপ্রভু! আপনি সেখানে গিয়ে বিশাল রাক্ষসদের বধ করেছিলেন। সীতা মাতা দুঃখে যখন অশোক গাছের কাছে আগুন চাইছিলেন, তখন আপনি রামজীর আংটি দিয়ে তাঁর শোক দূর করেছিলেন। হে কপিরাজ! এই পৃথিবীতে এমন কে আছে যে আপনার 'সঙ্কটমোচন' নাম জানে না? |
| ৫. বান লগ্যো উর লছিমন কে তব, প্রান তজে সুত রাবন মারো... | যখন মেঘনাদের বাণে লক্ষ্মণজী মূর্ছিত হয়েছিলেন এবং তাঁর প্রাণ সঙ্কটে পড়েছিল, তখন আপনি সুষেণ বৈদ্যকে তাঁর বাড়ি সমেত তুলে এনেছিলেন। এরপর সঞ্জীবনি বুটি আনার জন্য আপনি পুরো দ্রোণগিরি পর্বত উপড়ে এনে লক্ষ্মণজীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। হে কপিরাজ! এই পৃথিবীতে এমন কে আছে যে আপনার 'সঙ্কটমোচন' নাম জানে না? |
| ৬. রাবন জুদ্ধ অজান কিযো তব, নাগ কি ফাঁস সবৈ সির ডারো... | যুদ্ধের সময় রাবণ ও মেঘনাদ ভগবান রামের সেনার ওপর নাগপাশ নিক্ষেপ করেছিল। এর ফলে পুরো সেনা মোহপাশে বাঁধা পড়ে এবং এক বড় সঙ্কট দেখা দেয়। তখন আপনি গরুড়জীকে ডেকে নাগপাশের বাঁধন কাটিয়ে সকলের কষ্ট দূর করেছিলেন। হে কপিরাজ! এই পৃথিবীতে এমন কে আছে যে আপনার 'সঙ্কটমোচন' নাম জানে না? |
| ৭. বন্ধূ সমেত জবৈ অহিরাবন, লৈ রঘুনাথ পতাল সিধারো... | অহিরাবণ যখন রাম ও লক্ষ্মণকে হরণ করে পাতাল লোকে নিয়ে গিয়েছিল এবং দেবীর পূজা করে তাঁদের বলি দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছিল। তখন আপনি সেখানে পৌঁছে অহিরাবণ এবং তার পুরো সেনাকে সংহার করে প্রভুর রক্ষা করেছিলেন। হে কপিরাজ! এই পৃথিবীতে এমন কে আছে যে আপনার 'সঙ্কটমোচন' নাম জানে না? |
| ৮. কাজ কিএ বড় দেবন কে তুম, বীর মহাপ্রভু দেখি বিচারো... | হে বীর মহাপ্রভু! আপনি দেবতাদের এত বড় বড় কাজ সাধন করেছেন, ভেবে দেখুন তো, আমার মতো গরিবের এমন কী সঙ্কট আছে যা আপনি দূর করতে পারেন না? হে হনুমান মহাপ্রভু! আমার যে কোনো কষ্ট বা সঙ্কট থাকুক না কেন, তা শীঘ্র দূর করুন। হে কপিরাজ! এই পৃথিবীতে এমন কে আছে যে আপনার 'সঙ্কটমোচন' নাম জানে না? |
| লাল দেহ লালী লসে, অরু ধরি লাল লঙ্গূর। বজ্র দেহ দানব দলন, জয় জয় জয় কপি সূর॥ |
যাঁর শরীর লাল, যিনি লাল রঙে শোভাময় এবং লাল লেজ ধারণ করেছেন। যাঁর শরীর বজ্রের মতো কঠোর ও দানবদের সংহারকারী, এমন বীর হনুমানজীর জয় হোক, জয় হোক, জয় হোক! |
গোস্বামী তুলসীদাস রচিত সংকট মোচন হনুমান অষ্টক (Sankat Mochan Hanuman Ashtak) সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরম বিশ্বস্ত এক সংকটনাশক স্তোত্র। এই ৮টি পদে শ্রী হনুমানের ৮টি অসম্ভব ও বীরত্বপূর্ণ কাজের কথা স্মরণ করানো হয়েছে—যেমন সূর্যদেবকে গ্রাস থেকে মুক্তি, সুগ্রীবের রাজত্ব পুনঃপ্রাপ্তি, সমুদ্র পার হয়ে সীতা মাতার সন্ধান, লক্ষ্মণজীর প্রাণরক্ষা এবং পাতালপুরীতে অহিরাবণ বধ। বিশ্বাস করা হয়, ভক্ত যখন এই বীরত্বপূর্ণ কাজগুলির স্মরণে হনুমানজীকে ডাকেন, তখন হনুমানজী ভক্তের জীবনের সমস্ত ঘোর বিপদ তুড়িতে দূর করে দেন।
হনুমান অষ্টক পাঠ করার সঠিক ও শুভ নিয়মসমূহ:
দেবাধিদেব মহাদেব শিবের মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, স্তোত্র, ব্রত ও আরাধনার নিয়ম।
দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার মন্ত্র, মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র ও চণ্ডী পাঠের মাহাত্ম্য।
ধন, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী মা লক্ষ্মীর ব্রতকথা, মন্ত্র ও আরতি।
সিদ্ধিদাতা ও বিঘ্নহর্তা গণপতির আরাধনা, গণেশ স্তোত্র ও সিদ্ধিমন্ত্র।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী, কৃষ্ণাষ্টকম ও মধুর স্মারকাবলী।
মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী রামের রামরক্ষা স্তোত্র, রামচন্দ্র আরতি ও জীবনকথা।
কালীপুজো, আদ্যাস্তোত্র, শ্যামাসঙ্গীত ও মা কালীর সিদ্ধ বীজমন্ত্রাবলী।
বিষ্ণু সহস্রনাম, সত্যনারায়ণ ব্রতকথা ও শ্রী হরির সহস্র অবতার কথা।
বিদ্যা, জ্ঞান ও চারুকলার দেবী মা সরস্বতীর পুষ্পাঞ্জলি ও স্তোত্র।
শনিদেবের সাড়ে সাতি প্রতিকার, শনি চালিশা ও শনি স্তোত্রাবলী।
আদিত্য হৃদয় স্তোত্র, সূর্য অর্ঘ্য দান বিধি ও গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ।
শিরডির সাই বাবার কাকড় আরতি, মন্ত্র ও শ্রদ্ধা-সবুরি বাণী।
রথযাত্রা, পুরীর জগন্নাথ ধাম, জগন্নাথাষ্টকম ও মহাপ্রসাদ মাহাত্ম্য।
রবি থেকে কেতু-৯টি গ্রহের বীজমন্ত্র, নবগ্রহ পীড়াহর স্তোত্র ও প্রতিকার।