শ্রী হনুমান বন্দনা (Shree Hanuman Vandana in Bengali - চরণ শরণ মেং আই কে, ধরূং তিহারা ধ্যান) হল কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী হরিহরণের সুমধুর কণ্ঠে নিবেদিত শ্রী হনুমানের এক পরম জনপ্রিয়, হৃদয়স্পর্শী ও সর্বজনপ্রিয় ভক্তিগীতি বন্দনা। মহাবীর হনুমানজির শ্রীচরণে নিঃশর্ত ও অহংকারহীন আত্মসমর্পণের এই মধুর আরাধনা পাঠ করলে জীবনের কঠিনতম ও দুর্গম কাজসমূহ অত্যন্ত সহজে সুসম্পন্ন হয়। নিয়মিত প্রাতঃকালে বা সন্ধ্যা আরতির সময় এই বন্দনা স্মরণে পরম প্রভু শ্রী রামচন্দ্র ও পবনপুত্র হনুমানের অক্ষয় কৃপাদৃষ্টি লাভ হয়।
প্রসিদ্ধ শ্রী হনুমান বন্দনা- "চরণ শরণ মেং আই কে" এর সম্পূর্ণ বাংলা উচ্চারণ ও পাঠ নিচে তুলে ধরা হলো:
|
চরণ শরণ মেং আই কে, ধরূং তিহারা ধ্যান। সংকট সে রক্ষা করো, সংকট সে রক্ষা করো, পবন পুত্র হনুমান॥ |
|
দুর্গম কাজ বানায় কে, কীন্হে ভক্ত নিহাল। অব মোরী বিনতী শুনো, অব মোরী বিনতী শুনো, হে অঞ্জনী কে লাল॥ |
|
হাথ জোড় বিনতী করূং, শুনো বীর হনুমান। কষ্টোং সে রক্ষা করো, কষ্টোং সে রক্ষা করো, রাম ভক্তি দেহূং দান, পবনপুত্র হনুমান॥ |
সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏
শ্রী হনুমান বন্দনার প্রতিটি পংক্তির সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| ১. চরণ শরণ মেং আই কে, ধরূং তিহারা ধ্যান... | হে পবনপুত্র হনুমান! আমি আপনার শ্রীচরণে শরণাপন্ন হয়ে একাগ্রচিত্তে আপনার ধ্যান করছি। আপনি আমাকে জীবনের সমস্ত সংকট ও বিপদ থেকে রক্ষা করুন। |
| ২. দুর্গম কাজ বানায় কে, কীন্হে ভক্ত নিহাল... | হে অঞ্জনীনন্দন! আপনি ভক্তদের অসম্ভব ও দুর্গম কাজসমূহ সুসম্পন্ন করে তাঁদের কৃপাধন্য ও আনন্দিত করেছেন। এবার আমার কাতর প্রার্থনা শ্রবণ করুন। |
| ৩. হাথ জোড় বিনতী করূং, শুনো বীর হনুমান... | হে মহাবীর হনুমান! আমি দু'হাত জোর করে বিনতি জানাচ্ছি, আমার সকল কষ্ট থেকে রক্ষা করুন এবং আমাকে নিষ্কাম শ্রীরাম ভক্তির অমূল্য দান প্রদান করুন। |
সনাতন হিন্দু ভক্তি ভাবধারায় শ্রী হনুমান বন্দনা (চরণ শরণ মেং আই কে, ধরূং তিহারা ধ্যান) হলো শ্রী হনুমানজির শ্রীচরণে ভক্তের পরম আত্মনিবেদন, বিনম্র শরণাগতি ও আকুল প্রার্থনার এক অতীব হৃদয়স্পর্শী স্তুতি। কিংবদন্তি সঙ্গীতসাধক ও গায়ক হরিহরণ (Hariharan)-এর পরম ভক্তিপূর্ণ কণ্ঠমাধুর্যে নিবেদিত এই ঐতিহ্যবাহী ভক্তিগীতি বন্দনাটি আধুনিক সনাতন ভক্তসমাজে কোটি কোটি মানুষের প্রাত্যহিক প্রার্থনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
সনাতন ভক্তি ব্যাকরণে বলা হয়, শ্রী হনুমান হলেন অহংকারহীন দাস্যভক্তি ও নিঃস্বার্থ সেবার মূর্ত প্রতীক। যখন সাধক নিজের সমস্ত পার্থিব অহংকার ও অভিমান বিসর্জন দিয়ে কেবল "চরণ শরণ মেং আই কে" (হে প্রভু, আপনার চরণকমলে আশ্রয় নিয়েছি) বলে সানুনয়ে প্রার্থনা করেন, তখন সংকটমোচন হনুমানজির অলৌকিক কৃপাধারা অবিলম্বে নেমে আসে। রামায়ণের যুগে সুগ্রীব ও বিভীষণ যেভাবে হনুমানজির মধ্যস্থতায় প্রভু শ্রী রামচন্দ্রের শরণ পেয়েছিলেন, এই বন্দনার মাধ্যমেও ভক্তগণ শ্রী রামচন্দ্র ও হনুমানজির অভয় চরণে স্থান লাভ করেন।
শ্রী হনুমান বন্দনা নিবেদন করার শুভ সময় ও বৈদিক প্রার্থনাবিধি নিচে সবিস্তারে দেওয়া হলো:
নিয়মিত ও পবিত্র মনে শ্রী হনুমান বন্দনা গায়ন বা শ্রবণ করার প্রধান অসামান্য সুফলগুলি নিম্নরূপ: