শ্রী বজরং বাণ (Bajrang Baan in Bengali) হল মহাবীর হনুমানজির অত্যন্ত তেজস্বী, অগ্নিসদৃশ প্রভাবাশালী ও অমোঘ এক সিদ্ধ তান্ত্রিক ও বৈদিক পাঠ। বৈদিক সনাতন সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয়, যখন কোনো সাধারণ মন্ত্র বা প্রার্থনায় জীবনের ঘোর সংকট, শত্রুর মারাত্মক ষড়যন্ত্র ও কঠিন রোগবাধা দূর হয় না, তখন স্বয়ং পরম প্রভু রামভদ্র শ্রী হনুমানের দোহাই ও অটুট শপথ দিয়ে বজরং বাণ পাঠ করা হয়। মহাকবি সাধক গোস্বামী তুলসীদাস রচিত এই মহামন্ত্র স্তোত্রটি পূর্ণ নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে পাঠ করলে তান্ত্রিক অশুভ নজর, ভূত-প্রেত ভয়, আইনি জটিলতা, মানসিক উদ্বেগ এবং জীবনের সমস্ত অসাধ্য বাধা নিমিষে ভস্মীভূত হয়ে পরিবারে মাঙ্গলিক কল্যাণ ও অভয় সুরক্ষা প্রতিষ্ঠিত হয়।
শ্রী বজরং বাণ পাঠের প্রধান ৩টি অংশ- ১) প্রাথমিক দোহা, ২) ৩২টি অমোঘ চৌপাঈ এবং ৩) সমাপনী দোহা। নিচে সম্পূর্ণ পাঠ তুলে ধরা হলো:
| নিশ্চয় প্রেম প্রতীতি তে, বিনয় করৈ সনমান । তেহি কে কারজ সকল সুভ, সিদ্ধ করৈ হনুমান ॥ |
| জয় হনুমংত সংত হিতকারী । সুন লীজৈ প্রভু অরজ হমারী ॥ (১) |
| জন কে কাজ বিলংব ন কীজৈ । আতুর দৌরি মহা সুখ দীজৈ ॥ (২) |
| জৈসে কূদি সিংধু মহিপারা । সুরসা বদন পৈঠি বিস্তারা ॥ (৩) |
| আগে জায় লংকিনী রোকা । মারেহু লাত গী সুরলোকা ॥ (৪) |
| জায় বিভীষন কো সুখ দীন্হা । সীতা নিরখি পরমপদ লীন্হা ॥ (৫) |
| বাগ উজারি সিংধু মহং বোরা । অতি আতুর জমকাতর তোরা ॥ (৬) |
| অক্ষয় কুমার মারি সংহারা । লূম লপেটি লংক কো জারা ॥ (৭) |
| লাহ সমান লংক জরি গী । জয় জয় ধুনি সুরপুর নভ ভী ॥ (৮) |
| অব বিলংব কেহি কারন স্বামী । কৃপা করহু উর অংতরয়ামী ॥ (৯) |
| জয় জয় লখন প্রান কে দাতা । আতুর হ্বৈ দুখ করহু নিপাতা ॥ (১০) |
| জৈ হনুমান জযতি বল-সাগর । সুর-সমূহ-সমরথ ভট-নাগর ॥ (১১) |
| ওং হনু হনু হনু হনুমংত হঠীলে । বৈরিহি মারু বজ্র কী কীলে ॥ (১২) |
| ওং হ্নীং হ্নীং হ্নীং হনুমংত কপীসা । ওং হুং হুং হুং হনু অরি উর সীসা ॥ (১৩) |
| জয় অংজনি কুমার বলবংতা । শংকরসুবন বীর হনুমংতা ॥ (১৪) |
| বদন করাল কাল-কুল-ঘালক । রাম সহায় সদা প্রতিপালক ॥ (১৫) |
| ভূত, প্রেত, পিসাচ নিসাচর । অগিন বেতাল কাল মারী মর ॥ (১৬) |
| ইন্হেং মারু, তোহি সপথ রাম কী । রাখু নাথ মরজাদ নাম কী ॥ (১৭) |
| সত্য় হোহু হরি সপথ পাই কৈ । রাম দূত ধরু মারু ধাই কৈ ॥ (১৮) |
| জয় জয় জয় হনুমংত অগাধা । দুখ পাবত জন কেহি অপরাধা ॥ (১৯) |
| পূজা জপ তপ নেম অচারা । নহিং জানত কছু দাস তুম্হারা ॥ (২০) |
| বন উপবন মগ গিরি গৃহ মাহীম্ । তুম্হরে বল হৌং ডরপত নাহীম্ ॥ (২১) |
| জনকসুতা হরি দাস কহাবৌ । তাকী সপথ বিলংব ন লাবৌ ॥ (২২) |
| জৈ জৈ জৈ ধুনি হোত অকাসা । সুমিরত হোয় দুসহ দুখ নাসা ॥ (২৩) |
| চরন পকরি, কর জোরি মনাবৌম্ । যহি ঔসর অব কেহি গোহরাবৌম্ ॥ (২৪) |
| উঠু, উঠু, চলু, তোহি রাম দুহাঈ । পায়ং পরৌং, কর জোরি মনাঈ ॥ (২৫) |
| ওং চং চং চং চং চপল চলংতা । ওং হনু হনু হনু হনু হনুমংতা ॥ (২৬) |
| ওং সং সং সহমি পরানে খল-দল । ওং হং হং হাংক দেত কপি চংচল ॥ (২৭) |
| অপনে জন কো তুরত উবারৌ । সুমিরত হোয় আনংদ হমারৌ ॥ (২৮) |
| যহ বজরংগ-বাণ জেহি মারৈ । তাহি কহৌ ফিরি কবন উবারৈ ॥ (২৯) ... |
| পাঠ করৈ বজরংগ-বাণ কী । হনুমত রক্ষা করৈ প্রান কী ॥ (৩০) |
| যহ বজরংগ বাণ জো জাপৈম্ । তাসোং ভূত-প্রেত সব কাপৈম্ ॥ (৩১) |
| ধূপ দেয় জো জপৈ হমেসা । তাকে তন নহিং রহৈ কলেসা ॥ (৩২) |
| ুর প্রতীতি দৃঢ়, সরন হ্বৈ, পাঠ করৈ ধরি ধ্য়ান । বাধা সব হর, করৈং সব কাম সফল হনুমান ॥ |
সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏
শ্রী বজরং বাণের শ্লোকগুলির সরল ও প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ নিচে দেওয়া হলো:
| নিশ্চয় প্রেম প্রতীতি তে, বিনয় করৈ সনমান। তেহি কে কারজ সকল সুভ, সিদ্ধ করৈ হনুমান॥ |
যে ব্যক্তি পূর্ণ প্রেম, অটুট বিশ্বাস এবং বিনয়ের সাথে হনুমানজীর সম্মান করে প্রার্থনা করেন, হনুমানজী তাঁর সকল কাজ শুভ ও সফল করে দেন। |
| ১. জয় হনুমংত সংত হিতকারী । সুন লীজৈ প্রভু অরজ হমারী ॥ | সন্তদের কল্যাণকারী হে হনুমানজী, আপনার জয় হোক! হে প্রভু, দয়া করে আমাদের বিনীত প্রার্থনা শুনুন। |
| ২. জন কে কাজ বিলংব ন কীজৈ । আতুর দৌরি মহা সুখ দীজৈ ॥ | আপনার ভক্তের কাজ সম্পূর্ণ করতে একটুও দেরি করবেন না। হে নাথ, তাড়াতাড়ি ছুটে আসুন এবং আমাদের মহাসুখ প্রদান করুন। |
| ৩. জৈসে কূদি সিংধু মহিপারা । সুরসা বদন পৈঠি বিস্তারা ॥ | যেভাবে আপনি এক লাফে বিশাল সমুদ্র পার হয়েছিলেন এবং সুরসার মুখের ভেতর ঢুকে নিজের রূপ বড় করেছিলেন। |
| ৪. আগে জায় লংকিনী রোকা । মারেহু লাত গী সুরলোকা ॥ | লঙ্কার দরজায় যখন লঙ্কিনী আপনাকে বাধা দিয়েছিল, তখন আপনি তাকে লাথি মেরে দেবলোকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। |
| ৫. জায় বিভীষন কো সুখ দীন্হা । সীতা নিরখি পরমপদ লীন্হা ॥ | আপনি বিভীষণকে সুখ প্রদান করেছিলেন এবং মাতা সীতার দর্শন করে পরম পদ লাভ করেছিলেন। |
| ৬. বাগ উজারি সিংধু মহং বোরা । অতি আতুর জমকাতর তোরা ॥ | আপনি অশোক কানন ধ্বংস করে রাক্ষসদের সমুদ্রে ডুবিয়েছিলেন এবং অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে ভয়ঙ্কর রাক্ষসদের সংহার করেছিলেন। |
| ৭. অক্ষয় কুমার মারি সংহারা । লূম লপেটি লংক কো জারা ॥ | আপনি রাবণের পুত্র অক্ষয়কুমারকে সংহার করেছিলেন এবং লেজে আগুন লাগিয়ে পুরো লঙ্কাপুরী ভস্মীভূত করেছিলেন। |
| ৮. লাহ সমান লংক জরি গী । জয় জয় ধুনি সুরপুর নভ ভী ॥ | মোমের মতো লঙ্কাপুরী পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল, আর স্বর্গে ও আকাশে আপনার জয়ের জয়ধ্বনি ধ্বনিত হয়েছিল। |
| ৯. অব বিলংব কেহি কারন স্বামী । কৃপা করহু উর অংতরয়ামী ॥ | হে অন্তর্যামী স্বামী! এখন আর কীসের জন্য দেরি করছেন? আমাদের ওপর কৃপা দৃষ্টি বর্ষণ করুন। |
| ১০. জয় জয় লখন প্রান কে দাতা । আতুর হ্বৈ দুখ করহু নিপাতা ॥ | লক্ষণজীর প্রাণ রক্ষাকারী হে মহাবীর, আপনার জয় হোক! শীঘ্র এসে আমাদের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর করুন। |
| ১১. জৈ হনুমান জযতি বল-সাগর । সুর-সমূহ-সমরথ ভট-নাগর ॥ | বলের সাগর হে হনুমানজী, আপনার জয় হোক! আপনি দেবতাগণের রক্ষক ও পরম শক্তিশালী বীর। |
| ১২. ওং হনু হনু হনু হনুমংত হঠীলে । বৈরিহি মারু বজ্র কী কীলে ॥ | হে পরাক্রমশালী হনুমানজী! আপনার শক্তির দ্বারা শত্রুদের বজ্রের মতো আঘাত করে বিনাশ করুন। |
| ১৩. ওং হ্নীং হ্নীং হ্নীং হনুমংত কপীসা । ওং হুং হুং হুং হনু অরি উর সীসা ॥ | হে বানররাজ হনুমান! হুঙ্কার দিয়ে শত্রুদের হৃদয়ে ও মাথায় প্রহার করুন। |
| ১৪. জয় অংজনি কুমার বলবংতা । শংকরসুবন বীর হনুমংতা ॥ | অঞ্জনীনন্দন পরম বলশালী শ্রী হনুমান, শিবের অবতার মহাবীর আপনার জয় হোক! |
| ১৫. বদন করাল কাল-কুল-ঘালক । রাম সহায় সদা প্রতিপালক ॥ | আপনার ভয়ঙ্কর মুখ কাল ও শত্রুকুলকে সংহার করে। আপনি শ্রীরামের সহায় এবং ভক্তদের পরম প্রতিপালক। |
| ১৬. ভূত, প্রেত, পিসাচ নিসাচর । অগিন বেতাল কাল মারী মর ॥ | ভূত, প্রেত, পিশাচ, নিশাচর, অগ্নি-বেতাল ও মহামারী রূপী সমস্ত অশুভ শক্তি- |
| ১৭. ইন্হেং মারু, তোহি সপথ রাম কী । রাখু নাথ মরজাদ নাম কী ॥ | এদের বিনাশ করুন! আপনাকে শ্রীরামের শপথ, আপনার নামের মর্যাদা ও ভক্তের প্রাণ রক্ষা করুন। |
| ১৮. সত্য় হোহু হরি সপথ পাই কৈ । রাম দূত ধরু মারু ধাই কৈ ॥ | শ্রীহরির শপথ সত্য প্রমাণিত হোক! হে রামদূত, ধেয়ে এসে অশুভ শক্তিদের ধরে সংহার করুন। |
| ১৯. জয় জয় জয় হনুমংত অগাধা । দুখ পাবত জন কেহি অপরাধা ॥ | অসীম ক্ষমতাধর হনুমানজী! আপনার ভক্ত কোন্ অপরাধে কষ্ট পাচ্ছে? দয়া করে তাকে রক্ষা করুন। |
| ২০. পূজা জপ তপ নেম অচারা । নহিং জানত কছু দাস তুম্হারা ॥ | আপনার এই দাস পূজা, জপ, তপ বা সঠিক নিয়ম-আচার কিছুই জানে না, শুধু আপনার শরণাগত। |
| ২১. বন উপবন মগ গিরি গৃহ মাহীম্ । তুম্হরে বল হৌং ডরপত নাহীম্ ॥ | বনে-উপবনে, পর্বতে বা ঘরে-আপনার বলের আশ্রয়ে আমি কোথাও কোনো ভয় পাই না। |
| ২২. জনকসুতা হরি দাস কহাবৌ । তাকী সপথ বিলংব ন লাবৌ ॥ | আপনি তো মাতা সীতা ও শ্রীহরির প্রিয় দাস, মাতা সীতার শপথ-আর এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। |
| ২৩. জৈ জৈ জৈ ধুনি হোত অকাসা । সুমিরত হোয় দুসহ দুখ নাসা ॥ | আকাশে আপনার জয়ধ্বনি ধ্বনিত হয়; আপনাকে স্মরণ করলেই দুঃসহ দুঃখ-কষ্ট নাশ পায়। |
| ২৪. চরন পকরি, কর জোরি মনাবৌম্ । যহি ঔসর অব কেহি গোহরাবৌম্ ॥ | আমি আপনার চরণ ধরে, হাত জোড় করে বিনতি করছি; এই বিপদের সময়ে আর কার কাছে গিয়ে সাহায্য চাইব? |
| ২৫. উঠু, উঠু, চলু, তোহি রাম দুহাঈ । পায়ং পরৌং, কর জোরি মনাঈ ॥ | উঠুন, চলুন, আপনাকে শ্রীরামের দোহাই! আমি আপনার পায়ে পড়ে হাত জোড় করে প্রার্থনা করছি। |
| ২৬. ওং চং চং চং চং চপল চলংতা । ওং হনু হনু হনু হনু হনুমংতা ॥ | চঞ্চল গতিতে ধেয়ে আসুন হে হনুমানজী! শক্তির প্রকাশ ঘটান। |
| ২৭. ওং সং সং সহমি পরানে খল-দল । ওং হং হং হাংক দেত কপি চংচল ॥ | আপনার হুঙ্কারে দুর্জনের দল ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়, হে চঞ্চল বানররাজ! |
| ২৮. অপনে জন কো তুরত উবারৌ । সুমিরত হোয় আনংদ হমারৌ ॥ | নিজের ভক্তকে অবিলম্বে উদ্ধার করুন, আপনাকে স্মরণ করলেই আমাদের মন আনন্দে ভরে ওঠে। |
| ২৯. যহ বজরংগ-বাণ জেহি মারৈ । তাহি কহৌ ফিরি কবন উবারৈ ॥ | যার ওপর এই অমোঘ বজরং বাণ চালিত হয় (যার জন্য এ পাঠ করা হয়), তাকে রক্ষা করার সাধ্য আর কারও নেই। |
| ৩০. পাঠ করৈ বজরংগ-বাণ কী । হনুমত রক্ষা করৈ প্রান কী ॥ | যে ভক্ত ভক্তিভরে এই বজরং বাণ পাঠ করে, হনুমানজী নিজে তার প্রাণ রক্ষা করেন। |
| ৩১. যহ বজরংগ বাণ জো জাপৈম্ । তাসোং ভূত-প্রেত সব কাপৈম্ ॥ | যে ব্যক্তি নিয়মিত বজরং বাণ জপ করে, তার ভয়ে সমস্ত ভূত-প্রেত ও অশুভ শক্তি থরথর করে কাঁপে। |
| ৩২. ধূপ দেয় জো জপৈ হমেসা । তাকে তন নহিং রহৈ কলেসা ॥ | যে ব্যক্তি ধূপ-প্রদীপ জ্বালিয়ে নিষ্ঠার সাথে জপ করে, তার শরীরে কোনো রোগ বা মানসিক কষ্ট থাকে না। |
| উর প্রতীতি দৃঢ়, সরন হ্বৈ, পাঠ করৈ ধরি ধ্য়ান। বাধা সব হর, করৈং সব কাম সফল হনুমান॥ |
যে ব্যক্তি হৃদয়ে সুদৃঢ় বিশ্বাস রেখে, শ্রী হনুমানের শরণাগত হয়ে ধ্যানমগ্ন হয়ে পাঠ করে-হনুমানজী তার জীবনের সমস্ত সংকট দূর করেন এবং সর্বকার্য সফল করেন। |
সনাতন হিন্দু ধর্মে শ্রী বজরং বাণ (Bajrang Baan) কেবল একটি সাধারণ স্তোত্র বা স্তুতি নয়, এটি হলো চরম বিপদের মুহূর্তে পবনপুত্র শ্রী হনুমানজিকে জাগ্রত করার এক অমোঘ মহাশস্ত্র। মহাকবি সাধক গোস্বামী তুলসীদাসজির দ্বারা রচিত এই রচনায় রামভদ্র শ্রী হনুমানকে পরম প্রভু শ্রী রামচন্দ্র ও মাতা জনকসূতার পবিত্র শপথ দেওয়া হয়েছে। বৈদিক সংস্কৃতিতে শ্রী হনুমান হলেন চিরসঞ্জীবী এবং ভক্তের কাতর আহ্বানে সাড়া দেওয়া পরম করুণাময় দেবতা। যখন সাধক গভীর সংকটে পড়ে অন্য কোনো উপায়ে নিস্তার পান না, তখন বজরং বাণ পাঠের মাধ্যমে হনুমানজির অজেয় শক্তিকে জাগ্রত করা হয়।
রামচরিতমানস ও বৈদিক পৌরাণিক ইতিহাস অনুযায়ী, হনুমানজি হলেন শ্রীরামের পরম দাস ও ভক্তরক্ষক। বজরং বাণে ব্যবহৃত তান্ত্রিক বীজাক্ষর (যেমন 'ওঁ হ্রাং হ্রীং', 'ওঁ হুং হুং হুং') এবং শপথসূচক শ্লোকগুলো সাধকের চারপাশে এক অলঙ্ঘনীয় ঐশ্বরিক সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলে। বৈদিক গুণীজন ও সাধকগণের মতে, বজরং বাণ হলো ভক্তের সেই আক্ষরিক 'বাণ' বা তীর, যা নির্গত হলে লক্ষ্যভেদ না করে এবং অশুভ শক্তিকে সংহার না করে কখনোই ফিরে আসে না।
বজরং বাণ অত্যন্ত তেজস্বী ও অগ্নিসদৃশ শক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এটি পাঠ করার ক্ষেত্রে পরম পবিত্রতা ও বৈদিক নিয়ম কানুন মেনে চলা অবশ্য কর্তব্য:
শুদ্ধ চিত্তে ও অটল বিশ্বাস নিয়ে শ্রী বজরং বাণ নিয়মিত জপ বা শ্রবণ করলে সাধক জীবনে নিম্নলিখিত অসামান্য সুফল প্রাপ্ত হন: