নতুন খবর
বাংলা ক্যালেন্ডার আপনার রাশিফল সোনার দাম রুপোর দাম পেট্রোলের দাম ডিজেলের দাম রান্নার গ্যাস আবহাওয়া খবর মন্ত্র ও ভক্তি
হনুমান

শ্রী হনুমান আরতি - Shri Hanuman Aarti in Bengali Lyrics, Meaning, PDF

শ্রী হনুমান আরতি (Shri Hanuman Aarti in Bengali - "আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী, দুষ্ট দলন রঘুনাথ কলা কী") হল সংকটমোচন পরম প্রভু হনুমানজির চরণে নিবেদিত এক অতি মধুর, পুণ্যদায়ী ও পরম অলৌকিক আরাধনা স্তোত্র। বৈদিক সনাতন ঐতিহ্য ও লোক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয়, ভগবান শ্রী হনুমানের আরতি নিবেদন করা মানেই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ এবং পরিবারে মাঙ্গলিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার প্রাতঃকালে কিংবা সায়াহ্নে কর্পূর, খাঁটি ঘৃতপ্রদীপ, লাল পুষ্প ও সুগন্ধি ধূপ প্রজ্জ্বলন করে বিশুদ্ধ চিত্তে এই মহিমাময় আরতি গায়ন বা পাঠ করলে গৃহের সমস্ত অশুভ প্রযোগ, বাস্তুদোষ, অলক্ষ্মী ও চরম পারিবারিক অশান্তি নিমিষে দূরীভূত হয়। বিশেষত যাঁদের কোষ্ঠীতে শনিদেবের সাড়ে সাতি, ঢাইয়া বা রাহু-কেতুর অশুভ প্রযোগ রয়েছে, তাঁরা যদি ভক্তিভরে এই আরতি নিবেদন করেন তবে শনিদেবের কোপ থেকে অমোঘ মুক্তি মেলে। ভক্তশিরোমণি হনুমানজির কৃপায় মনের যাবতীয় ভয়, জটিল শারীরিক ব্যাধি ও মানসিক দুশ্চিন্তা বিনষ্ট হয়ে পরিবারে চিরস্থায়ী সুখ-সমৃদ্ধি, প্রখর আত্মশক্তি ও পরম প্রভু শ্রী সীতারাম জীর অপার কৃপাদৃষ্টি বিরাজ করে।

হনুমান আরতি পাঠ (Hanuman Aarti Lyrics in Bengali)

শ্রী হনুমান আরতি- "আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী" এর সম্পূর্ণ পাঠ নিচে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলো:

॥ শ্রী হনুমান আরতি (আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী) ॥
আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী। দুষ্ট দলন রঘুনাথ কলা কী।।
জাকে বল সে গিরিবর কাঁপৈ। রোগ দোষ জাকে নিকট ন ঝাঁকৈ।।
অঞ্জনি পুত্র মহাবলদায়ী। সন্তান কে প্রভু সদা সহাই।।
দে বীরা রঘুনাথ পাঠায়ে। লঙ্কা জারী সিয়া সুধ লায়ে।।
লঙ্কা সো কোট সমুদ্র সী খাই। জাত পবনসুত বার ন লাই।।
লঙ্কা জারী অসুর সংহারে। সিয়ারামজী কে কাজ সংবারে।।
লক্ষণ মূর্ছিত পড়ে সকারে। আনি সংজীবন প্রাণ উবারে।।
পৈঠী পাতাল তোরি জমকারে। অহিরাবণ কী ভুজা উখাড়ে।।
বাঁয়ে ভুজা অসুর দল মারে। ডাহিনে ভুজা সন্তজন তারে।।
সুর-নর-মুনি জন আরতি উতারে। জয় জয় জয় হনুমান উচারে।।
কাঞ্চন থার কপূর লৌ ছায়ী। আরতি করত অঞ্জনা মায়ী।।
লঙ্কবিধ্বংস কীহ্ন রঘুরায়ী। তুলসীদাস প্রভু কীরতি গায়ী।।

সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏

অক্ষর সাইজ:

হনুমান স্তোত্র, চালিশা ও পাঠসমূহ

হনুমান আরতি বাংলা অনুবাদ (Hanuman Aarti Bengali Meaning)

শ্রী হনুমান আরতির প্রতিটি পংক্তির সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ নিচে ছক আকারে বর্ণনা করা হলো:

আরতির পংক্তি ও বাংলা অনুবাদ

আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী।দুষ্ট দলন রঘুনাথ কলা কী।।ভগবান শ্রীরামের কলা-স্বরূপ এবং দুষ্টদের সংহারকারী শিশু হনুমান জীর আরতি করুন।
জাকে বল সে গিরিবর কাঁপৈ।রোগ দোষ জাকে নিকট ন ঝাঁকৈ।।যাঁর অপার বল ও পরাক্রমে বিশাল পর্বতও কেঁপে ওঠে এবং যাঁর নিকটে এলে সমস্ত রোগ, দোষ ও নেতিবাচক শক্তি দূরে পালিয়ে যায়।
অঞ্জনি পুত্র মহাবলদায়ী।সন্তান কে প্রভু সদা সহাই।।মা অঞ্জনীর পুত্র হনুমান জী অত্যন্ত বলশালী। তিনি তাঁর ভক্ত ও সন্তানদের কষ্টে সর্বদা সাহায্য করেন।
দে বীরা রঘুনাথ পাঠায়ে।লঙ্কা জারী সিয়া সুধ লায়ে।।যখন ভগবান শ্রীরাম তাঁকে দায়িত্ব (বীড়া) দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি সমুদ্র পার হয়ে লঙ্কা দহন করেন এবং মা সীতার খোঁজ নিয়ে আসেন।
লঙ্কা সো কোট সমুদ্র সী খাই।জাত পবনসুত বার ন লাই।।লঙ্কার মতো শক্তিশালী দুর্গ এবং সমুদ্রের মতো গভীর পরিখা থাকা সত্ত্বেও পবনপুত্র হনুমান জীর সেখানে পৌঁছাতে সামান্যতম বিলম্ব হয়নি।
লঙ্কা জারী অসুর সংহারে।সিয়ারামজী কে কাজ সংবারে।।তিনি সমগ্র লঙ্কা ভস্ম করে দেন, দুষ্ট অসুরদের সংহার করেন এবং ভগবান শ্রী সীতারাম জীর সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন করেন।
লক্ষণ মূর্ছিত পড়ে সকারে।আনি সংজীবন প্রাণ উবারে।।যুদ্ধে লক্ষ্মণ জী মূর্ছিত হয়ে পড়লে হনুমান জী দ্রোণাচল পর্বত থেকে সঞ্জীবনী বুটি নিয়ে এসে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন।
পৈঠী পাতাল তোরি জমকারে।অহিরাবণ কী ভুজা উখাড়ে।।যখন অহিরাবণ রাম-লক্ষ্মণকে পাতাল পুরীতে নিয়ে যায়, তখন হনুমান জী পাতালে প্রবেশ করে যমদূতদের পরাজিত করেন এবং অহিরাবণকে বধ করেন।
বাঁয়ে ভুজা অসুর দল মারে।ডাহিনে ভুজা সন্তজন তারে।।হনুমান জী তাঁর বাম বাহু দিয়ে দুষ্ট অসুর দলকে বিনাশ করেন এবং দক্ষিণ বাহু দিয়ে সাধু ও ভক্তদের উদ্ধার করেন।
১০সুর-নর-মুনি জন আরতি উতারে।জয় জয় জয় হনুমান উচারে।।দেবতা, মানব এবং মুনিগণ সকলে মিলে হনুমান জীর আরতি করেন এবং 'জয় জয় জয় হনুমান' ধ্বনি দেন।
১১কাঞ্চন থার কপূর লৌ ছায়ী।আরতি করত অঞ্জনা মায়ী।।সোনার থালে কর্পূরের উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালিয়ে স্বয়ং মা অঞ্জনা তাঁর মহান পুত্র হনুমান জীর আরতি করছেন।
১২লঙ্কবিধ্বংস কীহ্ন রঘুরায়ী।তুলসীদাস প্রভু কীরতি গায়ী।।ভগবান শ্রীরামের কৃপায় হনুমান জী লঙ্কা ধ্বংস করেছিলেন। গোস্বামী তুলসীদাস জী প্রভু হনুমান জীর এই মহিমা গান করেন।
১৩জো হনুমানজী কী আরতি গাবৈ।বসী বৈকুণ্ঠ পরমপদ পাবৈ।।যিনি ভক্তিভরে হনুমান জীর এই আরতি গান করেন, তিনি বৈকুণ্ঠ ধামে বাস করেন এবং পরমপদ (মুক্তি) লাভ করেন।

হনুমান আরতির অলৌকিক ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক মহাত্ম্য | Hanuman Aarti History

সনাতন হিন্দু ধর্মে শ্রী হনুমান আরতি (আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী) হলো ভারতের প্রতি গৃহে ও মন্দিরে গীত হওয়া পরম পবিত্র প্রাত্যহিক আরাধনা সঙ্গীত। বৈদিক ঐতিহ্য অনুযায়ী, গোস্বামী তুলসীদাস এবং পরবর্তী যুগের মহান রামভক্ত সাধকগণ পবনপুত্র হনুমানজির অসীম বীরত্ব, আনুগত্য ও ভক্তবৎসল রূপের স্মরণে এই অপূর্ব আরতি রচনা করেছিলেন। 'আরতি' শব্দের অর্থ হলো সমস্ত অশুভ দূর করে শুভ আলোকে ভগবানকে আবাহন করা।

এই আরতির প্রতিটি পংক্তিতে রামায়ণের অতি অলৌকিক ঘটনাপ্রবাহ সুরের ছন্দে ফুটে উঠেছে। মহাবীর হনুমানজির শৌর্যগাথা-যেমন সমুদ্র অতিক্রম করে লঙ্কা দহন করা, অশোক কাননে মাতা সীতার অন্বেষণ করা, যুদ্ধক্ষেত্রে মহাবীর লক্ষ্মণ মূর্ছিত হলে দ্রোণগিরি পর্বত কাঁধে তুলে নিয়ে সঞ্জীবনী বুটি নিয়ে আসা, এবং পাতালে রাবণের ভাই অহিরাবণকে বধ করে প্রভু রাম-লক্ষ্মণকে উদ্ধার করার ইতিহাস পরম ভক্তিতে স্মরণ করা হয়। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, যে ঘরে নিয়ম করে কপূর ও ঘৃতপ্রদীপ জ্বেলে হনুমান আরতি গীত হয়, সেখানে কোনো অশুভ শক্তি, দারিদ্র্য বা কুপরামর্শ প্রবেশ করতে পারে না।

হনুমান আরতি নিবেদনের বৈদিক নিয়ম ও সময় | Hanuman Aarti Rules and Time

শ্রী হনুমানজির আরতি নিবেদন করার পরম শুভ সময় ও সঠিক বৈদিক নিয়মাবলী নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো:

হনুমান আরতি পাঠের বিশেষ সুফল ও আশীর্বাদ | Hanuman Aarti Benefits

নিয়মিত শ্রদ্ধার সাথে শ্রী হনুমান আরতি গাইবার ও শ্রবণ করার প্রধান অলৌকিক সুফলগুলি নিম্নরূপ:

  1. গৃহের অলক্ষ্মী ও বাস্তুদোষ বিনাশ: কপূর ও ঘৃতপ্রদীপের আরতির জ্যোতিতে ঘরের সর্বপ্রকার বাস্তুদোষ, নেতিবাচক শক্তি এবং অলক্ষ্মী দূর হয়ে সুখ ও সমৃদ্ধি ফিরে আসে।
  2. অজানা ভয় ও মানসিক অশান্তি দূর: যাদের রাতের বেলা দুঃস্বপ্ন দেখা বা অহেতুক ভয় পাওয়ার প্রবণতা থাকে, নিয়মিত আরতি পাঠে তাদের মনে অভয় ও অদম্য আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হয়।
  3. সুস্বাস্থ্য ও জটিল ব্যাধি থেকে মুক্তি: হনুমানজির আরতি নিয়মিত পরিবেশন করলে রোগ-ব্যাধির প্রাদুর্ভাব কমে এবং পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা বজায় থাকে।
  4. শনির সাড়ে সাতি ও গ্রহদোষ নিবারণ: শনিদেবের অশুভ প্রভাব বা ঢৈয়ার কষ্টে ভুগতে থাকা ব্যক্তিরা হনুমান আরতি নিবেদন করলে অতি দ্রুত শনিদেবের কোপ থেকে শান্তি লাভ করেন।
  5. শ্রী রামচন্দ্র ও হনুমানজির অভয় কৃপা: ভক্তের সমস্ত নিষ্কাম মনোবাসনা পূর্ণ হয় এবং জীবনের অন্তিমকালে মোক্ষ তথা পরমপদ প্রাপ্তি ঘটে।

হনুমান আরতি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্র. হনুমান আরতি (আরতি কিজে হনুমান ললা কি) এর রচয়িতা কে?
উ. এই পরম প্রসিদ্ধ ও মধুর আরতিটি রামানন্দি সম্প্রদায়ের মহান প্রবর্তক ও সাধক শ্রী স্বামী রামানন্দ আচার্যজি রচনা করেছিলেন।
প্র. হনুমানজির আরতিতে কি চামেলি তেল বা কপূর ব্যবহার করা শ্রেয়?
উ. হনুমানজি চামেলির তেল ও সিঁদুর অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই আরতিতে চামেলি তেল অথবা বিশুদ্ধ ভীমসেনী কপূরের প্রদীপ প্রজ্জ্বলন পরম শুভপ্রদ।
প্র. সন্ধ্যার আরতির পর কি প্রসাদ বিতরণ বাধ্যতামূলক?
উ. আরতি শেষে প্রসাদ (যেমন বুন্দির লাড্ডু, গুড়-ছোলা বা কলা) ভগবানের শ্রীচরণে নিবেদন করে ভক্ত ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা মাঙ্গলিক প্রথা।

অন্যান্য দেব-দেবী দর্শন

শিব

শিব

9 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা দুর্গা

মা দুর্গা

28 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা লক্ষ্মী

মা লক্ষ্মী

20 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
গণেশ

গণেশ

25 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী কৃষ্ণ

শ্রী কৃষ্ণ

30 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী রাম

শ্রী রাম

18 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা কালী

মা কালী

22 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী বিষ্ণু

শ্রী বিষ্ণু

19 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা সরস্বতী

মা সরস্বতী

15 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শনি দেব

শনি দেব

21 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সূর্য দেব

সূর্য দেব

14 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সাই বাবা

সাই বাবা

16 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
জগন্নাথ

জগন্নাথ

17 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
নবগ্রহ

নবগ্রহ

26 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন