শ্রী হনুমান আরতি (Hanuman Aarti in Bengali - আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী) হল ভগবান হনুমানের পরম পবিত্র প্রার্থনামূলক আরতি। প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার সন্ধ্যাকালে ধূপ-দীপে এই আরতি পাঠ করলে ঘর থেকে সমস্ত অলক্ষ্মী, রোগবাধা ও নেতিবাচক শক্তি দূর হয়।
শ্রী হনুমান আরতি— "আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী" এর সম্পূর্ণ পাঠ নিচে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলো:
|
আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী। দুষ্ট দলন রঘুনাথ কলা কী।। জাকে বল সে গিরিবর কাঁপৈ। রোগ দোষ জাকে নিকট ন ঝাঁকৈ।। |
|
অঞ্জনি পুত্র মহাবলদায়ী। সন্তান কে প্রভু সদা সহাই।। দে বীরা রঘুনাথ পাঠায়ে। লঙ্কা জারী সিয়া সুধ লায়ে।। |
|
লঙ্কা সো কোট সমুদ্র সী খাই। জাত পবনসুত বার ন লাই।। লঙ্কা জারী অসুর সংহারে। সিয়ারামজী কে কাজ সংবারে।। |
|
লক্ষণ মূর্ছিত পড়ে সকারে। আনি সংজীবন প্রাণ উবারে।। পৈঠী পাতাল তোরি জমকারে। অহিরাবণ কী ভুজা উখাড়ে।। |
|
বাঁয়ে ভুজা অসুর দল মারে। ডাহিনে ভুজা সন্তজন তারে।। সুর-নর-মুনি জন আরতি উতারে। জয় জয় জয় হনুমান উচারে।। |
|
কাঞ্চন থার কপূর লৌ ছায়ী। আরতি করত অঞ্জনা মায়ী।। লঙ্কবিধ্বংস কীহ্ন রঘুরায়ী। তুলসীদাস প্রভু কীরতি গায়ী।। |
সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏
শ্রী হনুমান আরতির প্রতিটি পংক্তির সহজ ও প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ নিচে ছক আকারে বর্ণনা করা হলো:
| ১ | আরতি কীজৈ হনুমান ললা কী।দুষ্ট দলন রঘুনাথ কলা কী।। | ভগবান শ্রীরামের কলা-স্বরূপ এবং দুষ্টদের সংহারকারী শিশু হনুমান জীর আরতি করুন। |
| ২ | জাকে বল সে গিরিবর কাঁপৈ।রোগ দোষ জাকে নিকট ন ঝাঁকৈ।। | যাঁর অপার বল ও পরাক্রমে বিশাল পর্বতও কেঁপে ওঠে এবং যাঁর নিকটে এলে সমস্ত রোগ, দোষ ও নেতিবাচক শক্তি দূরে পালিয়ে যায়। |
| ৩ | অঞ্জনি পুত্র মহাবলদায়ী।সন্তান কে প্রভু সদা সহাই।। | মা অঞ্জনীর পুত্র হনুমান জী অত্যন্ত বলশালী। তিনি তাঁর ভক্ত ও সন্তানদের কষ্টে সর্বদা সাহায্য করেন। |
| ৪ | দে বীরা রঘুনাথ পাঠায়ে।লঙ্কা জারী সিয়া সুধ লায়ে।। | যখন ভগবান শ্রীরাম তাঁকে দায়িত্ব (বীড়া) দিয়ে পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি সমুদ্র পার হয়ে লঙ্কা দহন করেন এবং মা সীতার খোঁজ নিয়ে আসেন। |
| ৫ | লঙ্কা সো কোট সমুদ্র সী খাই।জাত পবনসুত বার ন লাই।। | লঙ্কার মতো শক্তিশালী দুর্গ এবং সমুদ্রের মতো গভীর পরিখা থাকা সত্ত্বেও পবনপুত্র হনুমান জীর সেখানে পৌঁছাতে সামান্যতম বিলম্ব হয়নি। |
| ৬ | লঙ্কা জারী অসুর সংহারে।সিয়ারামজী কে কাজ সংবারে।। | তিনি সমগ্র লঙ্কা ভস্ম করে দেন, দুষ্ট অসুরদের সংহার করেন এবং ভগবান শ্রী সীতারাম জীর সমস্ত কাজ সুসম্পন্ন করেন। |
| ৭ | লক্ষণ মূর্ছিত পড়ে সকারে।আনি সংজীবন প্রাণ উবারে।। | যুদ্ধে লক্ষ্মণ জী মূর্ছিত হয়ে পড়লে হনুমান জী দ্রোণাচল পর্বত থেকে সঞ্জীবনী বুটি নিয়ে এসে তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। |
| ৮ | পৈঠী পাতাল তোরি জমকারে।অহিরাবণ কী ভুজা উখাড়ে।। | যখন অহিরাবণ রাম-লক্ষ্মণকে পাতাল পুরীতে নিয়ে যায়, তখন হনুমান জী পাতালে প্রবেশ করে যমদূতদের পরাজিত করেন এবং অহিরাবণকে বধ করেন। |
| ৯ | বাঁয়ে ভুজা অসুর দল মারে।ডাহিনে ভুজা সন্তজন তারে।। | হনুমান জী তাঁর বাম বাহু দিয়ে দুষ্ট অসুর দলকে বিনাশ করেন এবং দক্ষিণ বাহু দিয়ে সাধু ও ভক্তদের উদ্ধার করেন। |
| ১০ | সুর-নর-মুনি জন আরতি উতারে।জয় জয় জয় হনুমান উচারে।। | দেবতা, মানব এবং মুনিগণ সকলে মিলে হনুমান জীর আরতি করেন এবং 'জয় জয় জয় হনুমান' ধ্বনি দেন। |
| ১১ | কাঞ্চন থার কপূর লৌ ছায়ী।আরতি করত অঞ্জনা মায়ী।। | সোনার থালে কর্পূরের উজ্জ্বল প্রদীপ জ্বালিয়ে স্বয়ং মা অঞ্জনা তাঁর মহান পুত্র হনুমান জীর আরতি করছেন। |
| ১২ | লঙ্কবিধ্বংস কীহ্ন রঘুরায়ী।তুলসীদাস প্রভু কীরতি গায়ী।। | ভগবান শ্রীরামের কৃপায় হনুমান জী লঙ্কা ধ্বংস করেছিলেন। গোস্বামী তুলসীদাস জী প্রভু হনুমান জীর এই মহিমা গান করেন। |
| ১৩ | জো হনুমানজী কী আরতি গাবৈ।বসী বৈকুণ্ঠ পরমপদ পাবৈ।। | যিনি ভক্তিভরে হনুমান জীর এই আরতি গান করেন, তিনি বৈকুণ্ঠ ধামে বাস করেন এবং পরমপদ (মুক্তি) লাভ করেন। |
সনাতন হিন্দু ধর্মে হনুমান আরতি (Hanuman Aarti) একটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও ভক্তিমূলক স্তব। এই আরতির মধ্য দিয়ে শ্রী হনুমানের অমূল্য অবদান—যেমন মাতা সীতার সন্ধান লাভ, লঙ্কা দহন, লক্ষ্মণজীর প্রাণরক্ষায় দ্রোণগিরি পর্বয়ানয়ন, ও অহিরাবণ বধের মাধ্যমে রাম-লক্ষ্মণকে উদ্ধার করার অলৌকিক কীর্তি স্মরণ করা হয়। ভক্তকূল যখন ভক্তিভরে আরতি নিবেদন করেন, তখন হনুমানজির কৃপায় সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও রক্ষা বজায় থাকে।
শ্রী হনুমানজির আরতি নিবেদনের শুভ নিয়মসমূহ:
দেবাধিদেব মহাদেব শিবের মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, স্তোত্র, ব্রত ও আরাধনার নিয়ম।
দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার মন্ত্র, মহিষাসুরমর্দিনী স্তোত্র ও চণ্ডী পাঠের মাহাত্ম্য।
ধন, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবী মা লক্ষ্মীর ব্রতকথা, মন্ত্র ও আরতি।
সিদ্ধিদাতা ও বিঘ্নহর্তা গণপতির আরাধনা, গণেশ স্তোত্র ও সিদ্ধিমন্ত্র।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বাণী, কৃষ্ণাষ্টকম ও মধুর স্মারকাবলী।
মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রী রামের রামরক্ষা স্তোত্র, রামচন্দ্র আরতি ও জীবনকথা।
কালীপুজো, আদ্যাস্তোত্র, শ্যামাসঙ্গীত ও মা কালীর সিদ্ধ বীজমন্ত্রাবলী।
বিষ্ণু সহস্রনাম, সত্যনারায়ণ ব্রতকথা ও শ্রী হরির সহস্র অবতার কথা।
বিদ্যা, জ্ঞান ও চারুকলার দেবী মা সরস্বতীর পুষ্পাঞ্জলি ও স্তোত্র।
শনিদেবের সাড়ে সাতি প্রতিকার, শনি চালিশা ও শনি স্তোত্রাবলী।
আদিত্য হৃদয় স্তোত্র, সূর্য অর্ঘ্য দান বিধি ও গায়ত্রী মন্ত্র পাঠ।
শিরডির সাই বাবার কাকড় আরতি, মন্ত্র ও শ্রদ্ধা-সবুরি বাণী।
রথযাত্রা, পুরীর জগন্নাথ ধাম, জগন্নাথাষ্টকম ও মহাপ্রসাদ মাহাত্ম্য।
রবি থেকে কেতু-৯টি গ্রহের বীজমন্ত্র, নবগ্রহ পীড়াহর স্তোত্র ও প্রতিকার।