নতুন খবর
বাংলা ক্যালেন্ডার আপনার রাশিফল সোনার দাম রুপোর দাম পেট্রোলের দাম ডিজেলের দাম রান্নার গ্যাস আবহাওয়া খবর মন্ত্র ও ভক্তি
হনুমান

শ্রী মারুতি স্তোত্র - Maruti Stotra in Bengali Lyrics, Meaning, PDF

শ্রী মারুতি স্তোত্র (Maruti Stotra in Bengali - ভীমরূপী মহারুদ্রা) হল ১৭ শতকের মহান সাধক ও বীর ছত্রপতি শিবাজীর আধ্যাত্মিক গুরু সমর্থ রামদাস স্বামী রচিত শ্রী হনুমানের এক মহা পরাক্রান্ত ও শৌর্যপূর্ণ স্তোত্র। এই ১৭টি শ্লোকে শ্রী মারুতির ভীমকায় মহারুদ্র রূপের স্তব করা হয়েছে, যা পাঠ করলে মানুষের ভেতরের অলসতা, ভয় ও মানসিক দুর্বলতা কেটে প্রখর সাহস, বীরত্ব, তেজ ও বজ্রের ন্যায় সুদৃঢ় স্বাস্থ্য লাভ হয়। নিয়মিত মারুতি স্তোত্র পাঠে গৃহের সকল ভূত-প্রেত ভয়, তান্ত্রিক শত্রুবাধা ও রাজভয় নিমিষে ধ্বংস হয়ে পরিবারের সর্বপ্রকার মাঙ্গলিক সমৃদ্ধি ও কল্যাণ অর্জিত হয়।

মারুতি স্তোত্র পাঠ (Maruti Stotra Lyrics in Bengali)

শ্রী মারুতি স্তোত্রম- "ভীমরূপী মহারুদ্রা" এর সম্পূর্ণ পাঠ নিচে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলো:

॥ শ্রী মারুতি স্তোত্রম (ভীমরূপী মহারুদ্রা) ॥
ভীমরূপী মহারুদ্রা, বজ্র হনুমান মারুতী।
ৱনাৰী অঞ্জনীসূতা, ৰামদূতা প্ৰভঞ্জনা ।। ১ ।।
মহাবলী প্ৰাণদাতা, সকল সং উঠৱী বলৈ ।
সৌখ্যকাৰী শোকহৰ্তা, ধূৰ্ত ৱৈষ্ণৱ গায়কৈ ।। ২ ।।
দীনানাথা হৰীৰূপা, সুন্দৰা জগদ অন্তৰা।
পাতাল দেৱতা হন্তা, ভৱ্য সিন্দূৰ লেপনা ।। ৩ ।।
লোকনাথা জগন্নাথা, প্ৰাণনাথা পুৰাতনা ।
পুণ্যৱন্তা পুণ্যশীলা, পাৱনা পৰতোষকা ।। ৪ ।।
ধ্বজাঙ্গে উচলী বাহূ, আৱেশৈ লোটিলা পুঢৈ ।
কালাগ্নী কালৰুদ ৰাগ্নী, দেখতা কাঁপতী ভয়ৈ ।। ৫ ।।
ব্ৰহ্মাণ্ড মাইল নেণো, আৱলৈ দন্ত পংগতী।
নেত্ৰাগ্নী চালিল্যা জ্ৱালা, ভ্ৰূকুটী ত্ৰাহিটিিল্যা বলৈ ।। ৬ ।।
পুচ্ছ তৈ মুৰডিলৈ মাথাং, কিৰীটী কুন্ডলৈ বৰীং।
সুৱৰ্ণ কটী কাসোটী, ঘন্টা কিঙ্কিণী নাগৰা ।। ৭ ।।
ঠকাৰৈ পৰ্ৱত ঐসা, নেটকা সডপাতলূ।
চপলাঙ্গ পাহতা মোঢৈ, মহাৱিদ্যুল লতে পৰী ।। ৮ ।।
কোটিচ্যা কোটি উড্ডাণৈ, ঝেপাৱৈ উত্তৰৈ কডৈ ।
মন্দ্ৰাদ প্ৰিসাৰিখা দ্ৰোণূ, ক্ৰোধৈ उत्पाটিলা বলৈ ।। ৯ ।।
আণি তা মাগুতা নেলা, গেল আলা মনোগতী ।
মনা সী টাকিলৈ মাগৈ, গতী স তূলণা নসৈ ।। ১০ ।।
অণূপাসোনি ব্ৰহ্মাণ্ডা, এৱঢা হোত জাতসৈ।
তয়া সী তুলণা কোঠৈ, মেৰু মন্দাৰ ঢাকুটৈ ।। ১১ ।।
ব্ৰহ্মাণ্ডা ভোংৱতৈ ৱেঢৈ, বজ্রপুচ্ছ ঘালূ শকৈ।
তয়া সি তূলণা কৈচীং, ব্ৰহ্মাণ্ডী পাহতা নসৈ ।। ১২ ।।
আৰক্ত দেখিলৈ ডোলাং, গিলিলৈ সূৰ্যমন্ডলা ।
ৱাঢতা ৱাঢতা ৱাঢৈ, ভেদিলৈ শূন্যমন্ডলা ।। ১৩ ।।
ধন ধান্য পশু ৱৃদ্ধী, পুত্ৰ পৌত্ৰ সমগ্ৰ হী ।
পাৱতী ৰূপ ৱিদ্যাদী, স্তোত্ৰ পাঠৈ কৰূনিয়াং ।। ১৪ ।।
ভূত প্ৰেত সমন্ধাদী, ৰোগ ৱ্যাধী সমস্ত হী ।
নাসতী তূততী চিন্তা, আনন্দৈ ভীম দর্শনৈ ।। ১৫ ।।
হে ধৰা পংধৰা শ্লোকী, লাভলী শোভলী বৰী।
দৃঢদেহো নিসন্দেহো, সংখ্যা চংদ্ৰ কলা গুণৈ ।। ১৬ ।।
ৰামদাসী অগ্ৰগণ্যূ, কপি কুলাসী মংডণ।
ৰামৰূপী অন্তৰাত্মা, দর্শনৈ দোষ নাসতী ।। ১৭ ।।
॥ ইতি শ্রীৰামদাস কৃতং সংকটনিসনং মাৰুতি স্তোত্ৰং সম্পূর্ণম ॥
॥ শ্রী বিচিত্র বীর মারুতি স্তোত্রম (মন্ত্রাত্মক) ॥
ওঁ নমো ভগবতে বিচিত্রবীর হনুমতে প্রলয়কালানল প্রভাব প্রজ্জ্বলনায়।
প্রতাপ বজ্রদে হায়। অঞ্জনী গর্ভ সম্ভূতায়।
প্রকট বিক্রম বীর দৈত্য দানব যক্ষ রক্ষোগণ গ্রহ বন্ধনায়।
ভূত গ্রহ বন্ধনায়। প্রেত গ্রহ বন্ধনায়। পিশাচ গ্রহ বন্ধনায়।
শাকিনী ডাকিনী গ্রহ বন্ধনায়। কাকিনী কামিনী গ্রহ বন্ধনায়।
ব্রহ্ম গ্রহ বন্ধনায়। ব্রহ্মরাক্ষস গ্রহ বন্ধনায়। চোর গ্রহ বন্ধনায়।
মারী গ্রহ বন্ধনায়। এহি এহি। আগচ্ছ আগচ্ছ। আবোশয় আবোশয়।
মম হৃদয়ে প্রবেশয় প্রবেশয়। স্ফুর স্ফুর। প্রস্ফুর প্রস্ফুর। সত্যং কথয়।
ব্যাঘ্র মুখ বন্ধন সর্প মুখ বন্ধন রাজ মুখ বন্ধন নারী মুখ বন্ধন সভা মুখ বন্ধন
শত্রু মুখ বন্ধন সর্ব মুখ বন্ধন লঙ্কা প্রাসাদ ভঞ্জন। অমুকং মে বশমানয়।
ক্লীং ক্লীং ক্লীং হ্রীং শ্রীং শ্রীং রাজানং বশমানয়।
শ্রীং হ্রীং ক্লীং স্ত্রিয় আকর্ষয় আকর্ষয় শত্রুন্মর্দয় মর্দয় মারয় মারয়
চূর্ণয় চূর্ণয় খে খে
শ্রীরামচন্দ্রাজ্ঞয়া মম কার্যসিদ্ধিং কুরু কুরু
ওঁ হ্রাং হ্রীং হ্রূং হ্রৈং হ্রৌং হ্রঃ ফট স্বাহা
বিচিত্রবীর হনুমত মম সর্বশত্রূন্ ভস্মীকুরু কুরু।
হন হন হুং ফট স্বাহা॥
একাদশশতবারং জপিত্বা সর্বশত্রূন্ বশমানয়তি নান্যথা ইতি॥
॥ ইতি শ্রীমারুতিস্তোত্রং সম্পূর্ণম ॥

সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏

অক্ষর সাইজ:

হনুমান স্তোত্র, চালিশা ও পাঠসমূহ

মারুতি স্তোত্র বাংলা অনুবাদ (Maruti Stotra Bengali Meaning)

শ্রী মারুতি স্তোত্রের শ্লোক ও ফলশ্রুতির প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:

শ্লোক ও বাংলা অনুবাদ

ভীমরূপী মহারুদ্রা, বজ্র হনুমান মারুতী।
ৱনাৰী অঞ্জনীসূতা, ৰামদূতা প্ৰভঞ্জনা ।।
বিশাল ও ভয়ংকর রূপের অধিকারী মহারুদ্র স্বরূপ, বজ্রের মতো সুদৃঢ় দেহের অধিকারী মারুতি হনুমান জী! আপনি বনের অধিপতি, মাতা অঞ্জনীর পুত্র, শ্রী রামের দূত এবং ঝড়ের মতো প্রচণ্ড বেগবান।
মহাবলী প্ৰাণদাতা, সকল সং উঠৱী বলৈ ।
সৌখ্যকাৰী শোকহৰ্তা, ধূৰ্ত ৱৈষ্ণৱ গায়কৈ ।।
আপনি মহাবলী এবং প্রাণদাতা, যিনি মূর্চ্ছিত সৈন্য ও সঞ্জীবনী দ্বারা সকলকেই নিজ বলে পুনরুজ্জীবিত করেন। আপনি সকলকে সুখ প্রদানকারী, শোক হরণকারী এবং শ্রী বিষ্ণু/রামের শ্রেষ্ঠ গায়ক ভক্ত।
দীনানাথা হৰীৰূপা, সুন্দৰা জগদ অন্তৰা।
পাতাল দেৱতা হন্তা, ভৱ্য সিন্দূৰ লেপনা ।।
আপনি দীন-দুঃখীদের নাথ, ভগবান হরির স্বরূপ, সুন্দর এবং সমস্ত জগতের অন্তরাত্মায় বিরাজমান। আপনি পাতাল লোকের দুষ্ট দেবতাদের (অহি রাবণ ইত্যাদি) সংহারকারী এবং ভব্য সিন্দূরের লেপ ধারণকারী।
লোকনাথা জগন্নাথা, প্ৰাণনাথা পুৰাতনা ।
পুণ্যৱন্তা পুণ্যশীলা, পাৱনা পৰতোষকা ।।
আপনি সমস্ত লোকের নাথ, জগতের স্বামী, প্রাণনাথ এবং সনাতন (পুরাতন) দেব। আপনি অত্যন্ত পুণ্যবান, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, পরম পাবন এবং ভক্তদের পরম সন্তোষ প্রদানকারী।
ধ্বজাঙ্গে উচলী বাহূ, আৱেশৈ লোটিলা পুঢৈ ।
কালাগ্নী কালৰুদ ৰাগ্নী, দেখতা কাঁপতী ভয়ৈ ।।
যখন আপনি আপনার বিশাল ধ্বজা ও বাহু উত্তোলন করে প্রচণ্ড আবেশে সম্মুখে ধাবিত হন, তখন কালের অগ্নি এবং কাল রুদ্রের ভয়ংকর অগ্নিও আপনাকে দেখে ভয়ে কাঁপতে থাকে।
ব্ৰহ্মাণ্ড মাইল নেণো, আৱলৈ দন্ত পংগতী।
নেত্ৰাগ্নী চালিল্যা জ্ৱালা, ভ্ৰূকুটী ত্ৰাহিটিিল্যা বলৈ ।।
আপনার বিশাল মুখমণ্ডলের সম্মুখে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডও ক্ষুদ্র মনে হয়। আপনি যখন দন্ত চাপেন এবং ক্রোধে ভ্রূকুটি কুঞ্চিত করেন, তখন আপনার নয়ন থেকে প্রলয়াগ্নির বিকট শিখা নির্গত হয়।
পুচ্ছ তৈ মুৰডিলৈ মাথাং, কিৰীটী কুন্ডলৈ বৰীং।
সুৱৰ্ণ কটী কাসোটী, ঘন্টা কিঙ্কিণী নাগৰা ।।
আপনার বিশাল লেজ মস্তকের উপর বাঁকানো অবস্থায় শোভা পায়, মাথায় সুন্দর মুকুট এবং কানে কুণ্ডল বিরাজ করে। আপনার কোমরবন্ধে স্বর্ণ কটিবস্ত্র, ঘণ্টা ও ছোট ছোট কিঙ্কিণী মধুর ধ্বনি তোলে।
ঠকাৰৈ পৰ্ৱত ঐসা, নেটকা সডপাতলূ।
চপলাঙ্গ পাহতা মোঢৈ, মহাৱিদ্যুল লতে পৰী ।।
আপনি পর্বতের মতো বিশালকায় হয়েও অত্যন্ত সুগঠিত, ক্ষিপ্র ও ছিপছিপে। আপনার চপল বিদ্যুৎসদৃশ দেহ দেখে মনে হয় যেন এক প্রকাণ্ড মহাবিদ্যুৎ ঝলক দিচ্ছে।
কোটিচ্যা কোটি উড্ডাণৈ, ঝেপাৱৈ উত্তৰৈ কডৈ ।
মন্দ্ৰাদ প্ৰিসাৰিখা দ্ৰোণূ, ক্ৰোধৈ उत्पाটিলা বলৈ ।।
আপনি কোটি কোটি যোজন লাফিয়ে উত্তর দিকে (হিমালয়ে) ধাবিত হয়েছিলেন এবং দ্রোণাচল (স সঞ্জীবনী পর্বত) নিজের অপার বল ও ক্রোধের দ্বারা উপড়ে এনেছিলেন।
১০আণি তা মাগুতা নেলা, গেল আলা মনোগতী ।
মনা সী টাকিলৈ মাগৈ, গতী স তূলণা নসৈ ।।
আপনি পর্বত নিয়ে এসেছিলেন এবং কাজ শেষে পুনরায় যথাস্থানে রেখে এসেছিলেন। আপনার আসা-যাওয়ার গতি মনের গতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আপনার গতির কোনো তুলনা হয় না।
১১অণূপাসোনি ব্ৰহ্মাণ্ডা, এৱঢা হোত জাতসৈ।
তয়া সী তুলণা কোঠৈ, মেৰু মন্দাৰ ঢাকুটৈ ।।
আপনি ক্ষুদ্র অণু থেকে শুরু করে বিশাল ব্রহ্মাণ্ডের সমান রূপ ধারণ করতে পারেন। আপনার এই অপার রূপের সামনে মেরু ও মন্দরাচল পর্বতও অত্যন্ত ক্ষুদ্র মনে হয়।
১২ব্ৰহ্মাণ্ডা ভোংৱতৈ ৱেঢৈ, বজ্রপুচ্ছ ঘালূ শকৈ।
তয়া সি তূলণা কৈচীং, ব্ৰহ্মাণ্ডী পাহতা নসৈ ।।
আপনার বজ্রের মতো শক্তিশালী লেজ সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের চারিপাশে জড়িয়ে রাখা সম্ভব। সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড খুঁজেও আপনার অসীম শক্তির কোনো সমতুল্য পাওয়া যায় না।
১৩আৰক্ত দেখিলৈ ডোলাং, গিলিলৈ সূৰ্যমন্ডলা ।
ৱাঢতা ৱাঢতা ৱাঢৈ, ভেদিলৈ শূন্যমন্ডলা ।।
শৈশবে আপনি লাল রঙের সূর্যকে সুস্বাদু ফল মনে করে গিলে ফেলেছিলেন। আপনার শরীর বাড়তে বাড়তে আকাশমণ্ডল ভেদ করেছিল।
১৪ধন ধান্য পশু ৱৃদ্ধী, পুত্ৰ পৌত্ৰ সমগ্ৰ হী ।
পাৱতী ৰূপ ৱিদ্যাদী, স্তোত্ৰ পাঠৈ কৰূনিয়াং ।।
এই মারুতি স্তোত্র ভক্তিভরে পাঠ করলে ধন-ধান্য, গবাদি পশু, সন্তান-সন্ততি, সুন্দর রূপ, বিদ্যা এবং সমস্ত প্রকার সমৃদ্ধি অর্জিত হয়।
১৫ভূত প্ৰেত সমন্ধাদী, ৰোগ ৱ্যাধী সমস্ত হী ।
নাসতী তূততী চিন্তা, আনন্দৈ ভীম দর্শনৈ ।।
ভগবান হনুমানের এই বিশাল (ভীম) রূপের দর্শন ও স্তোত্র পাঠে ভূত, প্রেত, পিশাচের ভয়, সমস্ত ব্যাধি ও রোগ বিনষ্ট হয় এবং চিন্তা দূর হয়ে পরম আনন্দ লাভ হয়।
১৬হে ধৰা পংধৰা শ্লোকী, লাভলী শোভলী বৰী।
দৃঢদেহো নিসন্দেহো, সংখ্যা চংদ্ৰ কলা গুণৈ ।।
এই সিদ্ধ মারুতি স্তোত্র অত্যন্ত ফলদায়ী ও কল্যাণকর। এর নিরন্তর পাঠে শরীর বজ্রের মতো সুদৃঢ় হয় এবং চন্দ্রকলার মতো তেজ বৃদ্ধি পায়।
১৭ৰামদাসী অগ্ৰগণ্যূ, কপি কুলাসী মংডণ।
ৰামৰূপী অন্তৰাত্মা, দর্শনৈ দোষ নাসতী ।।
সমর্থ রামদাস জী বলেন যে শ্রী রামের দাসদের মধ্যে অগ্রগণ্য এবং বানর কুলের ভূষণ শ্রী হনুমানের স্মরণে অন্তরাত্মা রামময় হয় এবং সমস্ত পাপ ও দোষ বিনষ্ট হয়।
মন্ত্রশ্রী বিচিত্র বীর মারুতি স্তোত্রম (মন্ত্রাত্মক)এই তান্ত্রিক ও বীজাত্মক স্তোত্র শত্রুর উচ্চাটন, রাজভয়, চোরভয়, ডাকিনী-শাকিনী বাধা এবং অসাধ্য সংকট থেকে রক্ষা করার জন্য পরম শক্তিশালী হনুমান রক্ষা কবচ।

মারুতি স্তোত্রের ইতিহাস ও সমর্থ রামদাস স্বামীর আদর্শ | Maruti Stotra History

১৭ শতকের অন্যতম মহান বৈদিক সাধক, কবি এবং স্বরাজ্য প্রতিষ্ঠাতা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের আধ্যাত্মিক গুরু সমর্থ রামদাস স্বামী (Samarth Ramdas Swami) এই পরম পরাক্রান্ত শ্রী মারুতি স্তোত্র (Maruti Stotra - ভীমরূপী মহারুদ্রা) রচনা করেছিলেন। সেই সময়ে ভারতবাসীদের আত্মপ্রবঞ্চনা, অলসতা ও পর অধীনতা দূর করে হৃদয়ে অসীম সাহস, পরাক্রম ও বীরত্ব জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে গুরু রামদাস স্বামী সমগ্র ভারতে ১১০০টিরও বেশি হনুমান মন্দির (আখড়া) স্থাপন করেন এবং যুবসমাজকে এই শৌর্যপূর্ণ স্তোত্র জপের বাণী দেন।

এই ১৭টি শ্লোকে হনুমানজির মহাভয়ঙ্কর, সুদৃঢ় ও তেজস্বী 'মহারুদ্র' রূপ হিসেবে স্তব করা হয়েছে। মারুতির লেজের দৈর্ঘ্য যে অসীম এবং তাঁর বজ্রকায় শরীরের সামনে সুমেরু-মন্দরাচল পর্বতও যে অতি ক্ষুদ্র, সেই অলৌকিক ক্ষমতার কথা এই স্তোত্রে শৌর্যপূর্ণ ছন্দে গীত হয়েছে। ইতিহাস ও লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সাধক সমর্থ রামদাস স্বামী পরম প্রভু হনুমানজির প্রত্যক্ষ অলৌকিক দর্শন লাভ করে এই প্রখর ১৭টি শ্লোক আশীর্বাদস্বরূপ প্রাপ্ত হন।

মারুতি স্তোত্র পাঠের সঠিক নিয়ম ও জপ বিধি | Maruti Stotra Rules and Time

শ্রী মারুতি স্তোত্র পাঠ করার শুভ নিয়মাবলী ও সঠিক পদ্ধতি নিচে বিস্তারিত সবিস্তারে উল্লেখ করা হলো:

মারুতি স্তোত্র পাঠের অসামান্য অলৌকিক সুফল | Maruti Stotra Benefits

ভক্তিভরে ও নিয়মিত সমর্থ রামদাস স্বামী রচিত শ্রী মারুতি স্তোত্র পাঠ বা শ্রবণ করার প্রধান সুফলগুলি নিম্নরূপ:

  1. বজ্রের ন্যায় সুদৃঢ় স্বাস্থ্য ও শারীরিক শক্তি: নিয়মিত পাঠকারীর শরীরের অলসতা কাটিয়ে দেহ বজ্রের মতো সুদৃঢ়, বলশালী ও রোগমুক্ত হয়।
  2. ভূত-প্রেত ও আঁধার ভয় নিমিষে ধ্বংস: ভীমরূপী মহারুদ্র হনুমানজির নাম উচ্চারণে সমস্ত ভূত, প্রেত, পিশাচ, অমঙ্গল ও অশুভ আত্মা পলায়ন করে।
  3. মানসিক বিষাদ, ভয় ও কুচিন্তা মুক্তি: চন্দ্রকলার মতো সাধকের মনে নতুন আশা, অপার শান্তি, আত্মবিশ্বাস ও প্রখর বীরত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
  4. রাজভয়, চোরভয় ও শত্রু পরাভব: কর্মক্ষেত্রে চক্রান্ত, আইনি জটিলতা বা শত্রুর ভীতি দূর হয়ে সাধকের বিজয় নিশ্চিত হয়।
  5. অগাধ সমৃদ্ধি ও কুল বৃদ্ধি: শ্রী রামদাস স্বামীর ভাষায়, যে ভক্ত এই স্তোত্র পাঠ করে, সে পুত্র-পৌত্র, ধন-ধান্য, রূপরস ও পরম বিদ্যা লাভ করে কুলের ভূষণ হয়।

মারুতি স্তোত্র সংক্রান্ত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্র. মারুতি স্তোত্র (ভীমরূপী মহারুদ্রা) কে রচনা করেছিলেন?
উ. ১৭ শতকের মহান বৈদিক সাধক ও ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের আধ্যাত্মিক গুরু সমর্থ রামদাস স্বামী মহারাষ্ট্রে এই স্তোত্র রচনা করেন।
প্র. মারুতি স্তোত্র পাঠের মূল উপকারিতা কী?
উ. এটি প্রধানত শারীরিক অসীম বল, বজ্রের মতো সুদৃঢ় দেহ, রোগমুক্তি ও শত্রু সংহারের জন্য পাঠ করা হয়।

অন্যান্য দেব-দেবী দর্শন

শিব

শিব

9 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা দুর্গা

মা দুর্গা

28 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা লক্ষ্মী

মা লক্ষ্মী

20 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
গণেশ

গণেশ

25 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী কৃষ্ণ

শ্রী কৃষ্ণ

30 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী রাম

শ্রী রাম

18 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা কালী

মা কালী

22 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শ্রী বিষ্ণু

শ্রী বিষ্ণু

19 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
মা সরস্বতী

মা সরস্বতী

15 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
শনি দেব

শনি দেব

21 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সূর্য দেব

সূর্য দেব

14 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
সাই বাবা

সাই বাবা

16 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
জগন্নাথ

জগন্নাথ

17 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন
নবগ্রহ

নবগ্রহ

26 টি ভক্তি নিবন্ধ
পড়ুন