শ্রী হনুমান বড়বানল স্তোত্র (Hanuman Vadvanal Stotra in Bengali - ওঁ হ্রাং হ্রীং ওঁ নমো ভগবতে) হল রাক্ষসরাজ রাবণের ভক্ত ভাই বিভীষণ দ্বারা রচিত সমুদ্রাগ্নি (বড়বানল)-র ন্যায় অতীব প্রচণ্ড ও অমোঘ প্রতিরক্ষামূলক স্তোত্র। বৈদিক ও তান্ত্রিক মতে, সমুদ্রের অতলে সুপ্ত অগ্নিকুণ্ডের চেয়েও প্রখর শ্রী হনুমানের এই শক্তি জপ করলে সমস্ত জটিল ও সংক্রামক জ্বর (একাহিক, দ্ব্যাহিক, ত্র্যাহিক বা চাতুর্থিক জ্বর), সর্প ও বিষাক্ত কীটদংশন, শত্রুর ষড়যন্ত্র, তান্ত্রিক কৃত্য ও মারাত্মক ব্যাধি সমুদ্রাগ্নির মতো জ্বলে ভস্ম হয়ে যায়।
শ্রী হনুমান বড়বানল স্তোত্রম- বিনিযোগ, ধ্যান ও মূল বড়বানল স্তোত্রের সম্পূর্ণ পাঠ নিচে দেওয়া হলো:
|
॥ বিনিযোগ ॥ ওঁ অস্য শ্রী হনুমান্ বড়বানল-স্তোত্র-মন্ত্রস্য শ্রীরামচন্দ্র ঋষিঃ, শ্রীহনুমান্ বড়বানল দেবতা, হ্ৰাং বীজম্, হ্ৰীং শক্তিং, সৌং কীলকং, মম সমস্ত বিঘ্ন-দোষ-নিবারণার্থে, সর্ব-শত্রুক্ষয়ার্থে সকল-রাজ-কুল-সংমোহনার্থে, মম সমস্ত-রোগ-প্রশমনার্থম্ আয়ুরারোগ্যৈশ্বর্যাঽভিবৃদ্ধ্যর্থং সমস্ত-পাপ-ক্ষয়ার্থং শ্রীসীতারামচন্দ্র-প্রীত্যর্থং চ হনুমদ্ বড়বানল-স্তোত্র জপমহং করিষ্যে।॥ ধ্যান ॥ মনোজবং মারুত-তুল্য-বেগং জিতেন্দ্রিয়ং বুদ্ধিমতাং বরিষ্ঠং। বাতাত্মজং বানর-যূথ-মুখ্যং শ্রীরামদূতम् শরণং প্রপদ্যে।। |
|
ওঁ হ্ৰাং হ্ৰীং ওঁ নমো ভগবতে শ্রীমহা-হনুমতে প্রকাট-পরাক্রম সকল-দিঙ্মণ্ডল-যশোবিতান-ধবলীকৃত-জগৎ-ত্রিতয় বজ্র-দেহ রুদ্রাবতার লঙ্কাপুরীদহয় উমা-অর্গল-মন্ত্র উদধি-বন্ধন দশশিরঃ কৃতান্তক সীতাবিশ্বাসন বায়ুপুত্র অঞ্জনী-গর্ভ-সম্ভূত শ্রীরাম-লক্ষ্মণানন্দকর কপি-সৈন্য-প্রাকার সুগ্রীব-সাহ্যাকরণ পর্বতোৎপাটন কুমার-ব্রহ্মচারিন গম্ভীরনাদ সর্ব-পাপ-গ্রহ-বারণ-সর্ব-জ্বরোচ্চাটন ডাকিনী-শাকিনী-বিধ্বংসনওঁ হ্ৰাং হ্ৰীং ওঁ নমো ভগবতে মহাবীর-বীরায় সর্ব-দুঃখ নিবারণায় গ্রহ-মণ্ডল সর্ব-ভূত-মণ্ডল সর্ব-পিশাচ-মণ্ডলোচ্চাটন ভূত-জ্বর-একাহিক-জ্বর, দ্ব্যাহিক-জ্বর, ত্র্যাহিক-জ্বর চাতুর্থিক-জ্বর, সন্তাপ-জ্বর, বিষম-জ্বর, তাপ-জ্বর, মাহেশ্বর-বৈষ্ণব-জ্বরান ছিন্ধি-ছিন্ধি যক্ষ ব্রহ্ম-রাক্ষস ভূত-প্রেত-পিশাচান উচ্চাটয়-উচ্চাটয় স্বাহা।ওঁ হ্ৰাং হ্ৰীং ওঁ নমো ভগবতে শ্রীমহা-হনুমতে ওঁ হ্ৰাং হ্ৰীং হ্ৰূং হ্ৰৈং হ্ৰৌং হ্ৰঃ আং হাং হাং হাং হাং ওঁ সৌং এহি এহি ওঁ হং ওঁ হং ওঁ হং ওঁ হং ওঁ নমো ভগবতে শ্রীমহা-হনুমতে শ্রবণ-চক্ষুর্ভূতানাং শাকিনী ডাকিনীনাং বিষম-দুষ্টানাং সর্ব-বিষং হর হর আকাশ-ভুবনং ভেদিয় ভেদিয় ছেদিয় ছেদিয় মারয় মারয় শোষয় শোষয় মোহয় মোহয় জ্বালয় জ্বালয় প্রহারয় প্রহারয় সকল-মায়াং ভেদিয় ভেদিয় স্বাহা।ওঁ হ্ৰাং হ্ৰীং ওঁ নমো ভগবতে মহা-হনুমতে সর্ব-গ্রহোচ্চাটন পরবলং ক্ষোভয় ক্ষোভয় সকল-বন্ধন মোক্ষনং কুরু-কুরু শিরঃ-শূল গুল্ম-শূল সর্ব-শূলান্নির্মূলয় নির্মূলয় নাগপাশানন্ত-বাসুকি-তক্ষক-কর্কোটকালিয়ান যক্ষ-কুল-জগৎ-রাত্রিঞ্চর-দিবাচর-সর্ পান্নির্বিষং কুরু-কুরু স্বাহা।ওঁ হ্ৰাং হ্ৰীং ওঁ নমো ভগবতে মহা-হনুমতে রাজভয় চোরভয় পর-মন্ত্র-পর-যন্ত্র-পর-তন্ত্র পর-বিদ্যাশ্ছেদয় ছেদয় সর্ব-শত্রুন্নাসয় নাশয় অসাধ্যং সাধয় সাধয় হুং ফট স্বাহা। ॥ ইতি বিভীষণকৃতং হনুমদ্ বড়বানল স্তোত্রং সম্পূর্ণম ॥ |
সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏
শ্রী হনুমান বড়বানল স্তোত্রের প্রতিটি অংশ ও মন্ত্রের সহজ বাংলা অনুবাদ নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| ১ | বিনিযোগ সংকল্প ওঁ অস্য শ্রী হনুমান্ বড়বানল-স্তোত্র-মন্ত্রস্য শ্রীরামচন্দ্র ঋষিঃ... | এই হনুমান বড়বানল স্তোত্র মন্ত্রের ঋষি শ্রীরামচন্দ্র, দেবতা শ্রী হনুমান বড়বানল। হ্ৰাং বীজ, হ্ৰীং শক্তি এবং সৌং কীলক। আমার সমস্ত বিঘ্ন, দোষ, শত্রু ও রোগের বিনাশ এবং পরম শান্তির জন্য আমি এর জপ করছি। |
| ২ | ধ্যান শ্লোক মনোজবং মারুত-তুল্য-বেগং জিতেন্দ্রিয়ং বুদ্ধিমতাং বরিষ্ঠং... | যাঁরা মনের মতো দ্রুত এবং বায়ুর মতো প্রবল বেগসম্পন্ন, যিনি ইন্দ্রিয়জয়ী, জ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, পবনপুত্র, বানর সেনাপতি ও শ্রী রামের দূত, আমি তাঁর শরণ গ্রহণ করছি। |
| ৩ | ওঁ নমো ভগবতে শ্রীমহা-হনুমতে প্রকাট-পরাক্রম... কপি-সৈন্য-প্রাকার... | হে মহাপরাক্রমী, ত্রিভুবনে যশ বিস্তারকারী, বজ্ৰতুল্য সুদৃঢ় দেহা অধিকারী, রুদ্রাবতার, লঙ্কাদাহনকারী, সমুদ্র বাঁধনকারী, রাবণের অন্তক, মাতা সীতার আশ্বাসনকারী এবং রাম-লক্ষ্মণের আনন্দবর্ধনকারী হনুমান জী! আপনাকে প্রণাম। |
| ৪ | সর্ব-পাপ-গ্রহ-বারণ-সর্ব-জ্বরোচ্চাটন ডাকিনী-শাকিনী-বিধ্বংসন... | আপনি সমস্ত পাপ, কুগ্রহের প্রভাব, সব রকমের জ্বর এবং ডাকিনী-শাকিনী ও অপশক্তি ধ্বংসকারী। |
| ৫ | সর্ব-দুঃখ নিবারণায় গ্রহ-মণ্ডল সর্ব-ভূত-মণ্ডল সর্ব-পিশাচ-মণ্ডলোচ্চাটন... | হে মহাবীর হনুমান! আপনি সমস্ত দুঃখ দূর করেন। গ্রহ, ভূত, পিশাচ বাধা এবং সকল প্রকার বিষম ও সংতাপ জ্বর নাশ করুন। |
| ৬ | শাকিনী ডাকিনীনাং বিষম-দুষ্টানাং সর্ব-বিষং হর হর... জ্বালয় জ্বালয়... | হে হনুমান! দুষ্ট অপশক্তি ও কু-দৃষ্টির সমস্ত বিষ হরণ করুন। আকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত তান্ত্রিক কু-প্রভাব ভস্ম করে ভক্তকে রক্ষা করুন। |
| ৭ | শিরঃ-শূল গুল্ম-শূল সর্ব-শূলান্নির্মূলয় নির্মূলয়... নাগপাশানন্ত-বাসুকি... | মাথা ব্যথা, পেটের ব্যথা ও সমস্ত শারীরিক যাতনা নির্মূল করুন। বাসুকি, তক্ষক ও বিষাক্ত সর্পের বিষ নিষ্ক্রিয় করুন। |
| ৮ | রাজভয় চোরভয় পর-মন্ত্র-পর-যন্ত্র-পর-তন্ত্র... অসাধ্যং সাধয় সাধয় হুং ফট স্বাহা। | রাজভয়, চোর ভয়, শত্রুর কু-মন্ত্র ও তান্ত্রিক কৃত্য বিনাশ করে আমার সমস্ত অসাধ্য কাজ সাধন করুন। |
সনাতন হিন্দু পৌরাণিক ইতিহাস অনুযায়ী, লঙ্কার রাক্ষসরাজ রাবণের ধার্মিক অনুজ এবং পরম রামভক্ত সাধক বিভীষণ (Vibhishana) এই অতি তেজস্বী শ্রী হনুমান বড়বানল স্তোত্র (Hanuman Vadvanal Stotra) রচনা করেছিলেন। 'বড়বানল' শব্দটির বৈদিক অর্থ হলো মহাসমুদ্রের তলদেশে অবস্থানকারী প্রচণ্ড প্রলয়াগ্নি। যে প্রলয়াগ্নি সমুদ্রের সুবিশাল জলরাশিকেও শুষ্ক করার ক্ষমতা রাখে, শ্রী হনুমানজির রুদ্র তেজ ও শক্তিকে সেই অগ্নির চেয়েও প্রচণ্ড ও প্রখর হিসেবে এই স্তোত্রে আবাহন করা হয়েছে।
লঙ্কাপুরীতে রাবণের কাল্পনিক মায়াজাল, রাক্ষসী উৎপাত ও বৈরী তান্ত্রিক কৃত্য থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এবং পবনপুত্র হনুমানজির অজেয় অভয় সুরক্ষা পাওয়ার জন্য বিভীষণ এই স্তোত্র রচনা করেন। তান্ত্রিক ও বৈদিক শাস্ত্রে বর্ণিত আছে, কোনো সাধক যদি গুরুতর ও অসাধ্য কোনো রোগবাধা বা শত্রুজনিত জটিলতায় পড়েন, তবে বড়বানল স্তোত্রের প্রচণ্ড অগ্নিস্পন্দন সেই বাধাগুলিকে প্রলয়াগ্নির মতো ভস্ম করে ফেলে।
হনুমান বড়বানল স্তোত্র অত্যন্ত প্রখর ও শক্তিশালী স্তোত্র হওয়ায় এটি পাঠের জন্য বিশেষ বৈদিক নিয়মাবলি পালন করা অবশ্য কর্তব্য:
শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সাথে নিয়মিত শ্রী হনুমান বড়বানল স্তোত্র পাঠ বা শ্রবণ করার প্রধান অসামান্য সুফলগুলি নিম্নরূপ: