শ্রী হনুমান গায়ত্রী মন্ত্র (Hanuman Gayatri Mantra in Bengali - ॐ আঞ্জনীয়ায় বিদ্মহে বায়ুপুত্রায় ধীমহি। তন্নো হনুমৎ প্রচোদয়াৎ॥) হল বৈদিক ঋষিদের দ্বারা প্রকাশিত শ্রী হনুমানের প্রখর মেধা, পরম জ্ঞান, বাকসিদ্ধি, যুক্তিবিদ্যা ও ব্রহ্মচর্য তেজ লাভ করার অমোঘ বৈদিক মন্ত্র। গায়ত্রী ছন্দে রচিত এই মহামন্ত্র প্রতিদিন প্রাতঃকালে প্রদীপ জ্বালিয়ে ১০৮ বার জপ করলে শিক্ষার্থীদের প্রখর মেধা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, কর্মক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জিত হয় এবং মনের যাবতীয় দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে প্রখর আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তি লাভ হয়।
শ্রী হনুমান ধ্যানম্, গায়ত্রী মন্ত্র ও বিভিন্ন গায়ত্রী রূপ নিচে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলো:
|
অতুলিতবলধামং হেমশৈলাভদেহম্। দনুজবনকৃশানুং জ্ঞানি নামগ্রগণ্যম্॥ সকলগুণনিধানং বানরাণামধীশম্। রঘুপতিপ্রিয়ভক্তং বাতজাতং নমামি॥ |
|
॥ ॐ আঞ্জনীয়ায় বিদ্মহে বায়ুপুত্রায় ধীমহি। তন্নো হনুমৎ প্রচোদয়াৎ॥
(Om Anjaneyaya Vidmahe Vayuputraya Dhimahi, Tanno Hanumat Prachodayat) |
|
অন্যান্য গায়ত্রী রূপ: ॥ ॐ রামদূতায় বিদ্মহে কপিরাজায় ধীমহি। তন্নো মারুতিঃ প্রচোদয়াৎ॥ ॥ ॐ অঞ্জনীসুতায় বিদ্মহে মহাবলায় ধীমহি। তন্নো মারুতিঃ প্রচোদয়াৎ॥ |
সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় । পবনসুত হনুমানকী জয় । বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয় । 🙏
শ্রী হনুমান গায়ত্রী মন্ত্র ও ধ্যানম শ্লোকের প্রাঞ্জল বাংলা অর্থ নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:
| ১ | ॐ আঞ্জনীয়ায় বিদ্মহে বায়ুপুত্রায় ধীমহি। তন্নো হনুমৎ প্রচোদয়াৎ॥ | গায়ত্রী মন্ত্র অর্থ: আমরা মাতা অঞ্জনার পুত্র আঞ্জনীয়ের ধ্যান করি, পবনদেবের পুত্র বায়ুপুত্রের মনন করি। সেই মহাবীর হনুমান আমাদের বুদ্ধিকে সৎপথ, জ্ঞান ও সাহসের দিকে চালিত করুন। |
| ২ | ॐ রামদূতায় বিদ্মহে কপিরাজায় ধীমহি। তন্নো মারুতিঃ প্রচোদয়াৎ॥ | দ্বিতীয় গায়ত্রী রূপ: আমরা ভগবান শ্রী রামের পরম দূত এবং বানরদের রাজা কপিরাজের ধ্যান করি। মারুতিনন্দন হনুমান আমাদের বুদ্ধিকে পরম সত্যের দিকে চালিত করুন। |
| ৩ | প্রাতঃ স্মরামি হনুমন্ অনন্ত-বীর্যং শ্রী রাম-চন্দ্র চরণাম্বুজ চঞ্চরীকম্... | প্রাতঃ বন্দনা অর্থ: যিনি অসীম শক্তির অধিকারী, শ্রী রামচন্দ্রের চরণকমলে আনত ভক্ত, লঙ্কা দহন করে দেবগণকে আনন্দিত করেছেন এবং সর্বসিদ্ধির ধাম, সেই হনুমান জীকে আমি প্রাতঃকালে স্মরণ করি। |
| ৪ | মধ্যাহ্নে ভজামি ভবতারকমঞ্জনীয়ং সিদ্ধাশ্রমস্থিতমভীষ্টবরপ্রদং তম্... | মধ্যাহ্ন বন্দনা অর্থ: যিনি ভবতারক, মাতা অঞ্জনার পুত্র, ভক্তদের সকল মনস্কামনা পূর্ণকারী কલ્પবৃক্ষ এবং মাতা সীতার শোক দূরকারী, সেই মহাবীর হনুমান জীকে আমি মধ্যাহ্নকালে বন্দনা করি। |
| ৫ | সায়ং ভজামি শরণোপস্মৃতাখিলার্তি পুঞ্জপ্রণাশনবিধৌ প্রথিতপ্রতাপম্... | সায়ং বন্দনা অর্থ: যিনি শরণাগত ভক্তের সমস্ত দুঃখ বিনাশের জন্য বিখ্যাত, অক্ষকুমারকে বিনাশ করেছেন এবং রাক্ষস বংশের জন্য ধূমকেতু স্বরূপ, সেই দয়ালু হনুমান জীকে আমি সায়ংকালে জপ করি। |
সনাতন হিন্দু বৈদিক ঐতিহ্যে গায়ত্রী ছন্দ (Gayatri Chhanda) হলো সমস্ত চন্দের জননী ও পরম আধ্যাত্মিক দ্যুতির উৎস। বেদ ও উপনিষদে বিভিন্ন পরম ঈশ্বরীয় শক্তির জন্য স্বতন্ত্র গায়ত্রী মন্ত্র নির্দিষ্ট রয়েছে। তার মধ্যে শ্রী হনুমান গায়ত্রী মন্ত্র (ॐ আঞ্জনীয়ায় বিদ্মহে বায়ুপুত্রায় ধীমহি। তন্নো হনুমৎ প্রচোদয়াৎ॥) হলো পরম তেজ, ব্রহ্মচর্য বল, প্রখর মেধা, যুক্তিবিদ্যা ও অসীম আত্মশক্তি লাভ করার জন্য ঋষিগণ কর্তৃক আবিষ্কৃত এক অমোঘ বৈদিক মন্ত্র।
রামায়ণ ও বৈদিক পৌরাণিক ইতিহাস অনুযায়ী, শ্রী হনুমান হলেন সূর্যদেবের শিষ্য, যিনি পরম জ্ঞানী, সর্বশাস্ত্র বিশারদ, চতুর বেদবিদ এবং অষ্টসিদ্ধি ও নবনিধির প্রদাতা। তিনি কেবল শারীরিক বলের আধার নন, তিনি হলেন জ্ঞান ও বুদ্ধির পরম সাগরাভিরাম স্বরূপ। প্রাচীন ঋষি-মুনীগণ মহাবীর হনুমানের সেই অলৌকিক জ্ঞানপ্রভা ও শ্রীরামভক্তির পরাকাষ্ঠাকে হৃদয়ে ধারণ করে এই গায়ত্রী মন্ত্র প্রকাশ করেছিলেন। বিশ্বাস করা হয়, নিত্য প্রাতঃকালে প্রদীপ জ্বালিয়ে উদীয়মান সূর্যের দিকে মুখ করে এই গায়ত্রী জপ করলে সাধকের অন্তরে পবনপুত্র হনুমানজির প্রখর দিব্য আলোকের উন্মেষ ঘটে।
শ্রী হনুমান গায়ত্রী মন্ত্র জপ করার সঠিক নিয়ম ও শুভ সময়সূচি নিচে সবিস্তারে উল্লেখ করা হলো:
ভক্তিভরে ও একগ্র মনে নিয়মিত শ্রী হনুমান গায়ত্রী মন্ত্র জপ ও ধ্যান করলে সাধক জীবনে প্রাপ্ত প্রধান সুফলগুলি নিম্নরূপ: