India Hood Decode: ১০০,০০০ কোটি টাকার স্ক্যাম! বাংলার সেরা ১২টি দুর্নীতি

Published:

Trinamool Congress

সালটা ২০১১। পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উন্নয়নের, কথা দিয়েছিল উন্নতির, স্বপ্ন দেখিয়েছিল সোনার বাংলা গড়ার!

কিন্তু, যদি বলি গত ১৫ বছরে যা উন্নয়ন হয়েছে, তার থেকে বেশি হয়েছে দুর্নীতি – কি বিশ্বাস করবেন? হয়তো করবেন না! কিন্তু এটাই সত্যি।

SSC স্ক্যাম, রেশন দুর্নীতি, কয়লা কেলেঙ্কারি – এই সমস্ত কথাগুলো হয়তো আপনি আগেও শুনেছেন, কিন্তু আজ India Hood ডিকোডে আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো এমন আরও ৯টি দুর্নীতির কথা যা বাংলাকে শেষ করে দিয়েছে পুরোপুরিভাবে। যে দুর্নীতিগুলি সত্যি চিন্তার বিষয় প্রতিটি বাঙালীর জন্য।

তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন, আর অবশ্যই শেয়ার করুন। 

প্রথম – কয়লা কেলেঙ্কারী

কয়লা কেলেঙ্কারীর কথা হয়তো আপনি শুনেছেন – কিন্তু আপনি কি জানেন কতটা গভীর এই কেলেঙ্কারী? পরিমাণটা প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা!

২০১৪ সাল থেকে শুরু হয় এই কয়লা কেলেঙ্কারি।

পশ্চিমবঙ্গের এই কয়লা স্ক্যামের কেন্দ্রে রয়েছে ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেড অর্থাৎ ECL, যেটি কোল ইন্ডিয়ার একটি সাবসিডারি কোম্পানি। আর এখানেই অবৈধভাবে চলছে কয়লার উত্তোলন, এবং কালোবাজারি। আর পাচার হয় বিদেশি হাওয়ালা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা!

২০২০ সালে এই কেলেঙ্কারী নিয়ে তদন্ত শুরু করে ED এবং CBI, আর তদন্ত শুরু হতেই উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায় এই কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে ছিলেন রাজ্য সরকারের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় পুলিশের বড় বড় মাথা, CISF কর্মীরা। শুধু তাই নয়, বেসরকারি সংস্থা সহ রাজনৈতিক প্রভাবশালীরাও ছিল এই কালোবাজারির পেছনে।

এমনকি এবার বিধানসভা নির্বাচনে, আসানসোল উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল যে মলয় ঘটককে প্রার্থী করেছে, তার বিরুদ্ধেও রয়েছে এই কয়লা দুর্নীতির অভিযোগ। এই দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনকি অনুব্রত মণ্ডলেরও। আর ঠিক সেই কারণেই তাদের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে ED-র তরফ থেকে।

এমনকি জানলে অবাক হবেন, পাণ্ডবেশ্বরে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান – “সমস্ত অবৈধ কয়লা খনিকে বৈধ করে দেওয়া হোক!” ভাবতে পারছেন! দিনে দুপুরে, একটি সভা থেকে কতটা বুকের পাটা থাকলে এমন কথা বলা যায়!

যদি বলেন কেন – তবে আপনাদের জানতে হবে – একটি কয়াল খনি অবৈধ হয় কেন? এর সাধারণ উত্তর হতেই পারে – সেখানের লাইসেন্স নেই, বা তোলার অনুমতি নেই। কিন্তু কেন নেই লাইসেন্স বা অনুমতি?

কারণ একটি কয়লা খনিকে যে সমস্ত কারণে লাইসেন্স দেওয়া হয় না, তার মধ্যে একটি কারণ হল – পরিবেশগত সুরক্ষা। মানে এই খনির ফলে বনাঞ্চল, বন্যপ্রাণী বা দূষণের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়াও, আর একটি কারণ হল নিরাপত্তা মানদণ্ড, অর্থাৎ সেই খনির নকশা, প্রযুক্তি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। এছাড়াও জমি ও আইনি জটের কারণেও একটি খনিকে বৈধতা দেওয়া হয় না।

এটা পরিষ্কার যে চতুর্থবার ক্ষমতায় এলে, এই কেলেঙ্কারি বন্ধ হবে না, উল্টে এবার অবৈধ খনিকে বৈধ করে চলবে কয়লা উত্তোলন।

দ্বিতীয় – রেশন কেলেঙ্কারী

রেশন দুর্নীতিতেও এক বিশাল রেকর্ড গড়েছে বাংলা। আর এর পরিমাণটা প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি।

দেশের আম জনতার জন্য, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে খুবই কম দামে আসে খাদ্যদ্রব্য। যেমন ধরুন – চাল, ডাল, গম, চিনি, আটা।

কিন্তু, রাজ্যের বিভিন্ন রেশন ডিলার আর ডিস্ট্রিবিউটর ও কিছু নেতারা নিজেদের মধ্যে ‘যোগ সাজশ’ করে, এই রেশনেও ভাগ বসিয়েছে দুর্নীতির। মানুষের অধিকারের রেশন চুরি করে কখনও বিক্রি করে দেওয়া হয় খোলা বাজারে, আবার কখনও পাচার করা হয় আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে।

এমনকি আপনি আপনার ভাগের রেশনের চাল-আটা না নিলেও, আপনার ভাগের রেশন কিন্তু তোলা হয়ে যায়।

আর এসবের মধ্যমনি যিনি, যার বিরুদ্ধে রয়েছে এই রেশন কেলেঙ্কারির অভিযোগ – তিনি হলেন তৃণমূল নেতা – জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যিনি এই অভিযোগে জেলও খেটেছেন। কিন্তু, তাকেই আবার ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া থেকে টিকিট দিয়েছে দল।

তৃতীয় –  শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি

যে শিক্ষকরা বাংলার ভবিষ্যৎ তৈরি করে, সেই শিক্ষকদের নিয়েও বাংলায় হয়েছে দুর্নীতি। আর এই দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

২০১৬ সাল থেকে এই দুর্নীতির সূত্রপাত হয়। কোথাও ৮ লাখ, কোথাও ১০ লাখ, আবার কোথাও বা জমির বদলে বিক্রি হতে থাকে চাকরি।

দেখা যায়, পরীক্ষা হয়েছে নিয়ম মেনে – কিন্তু পরীক্ষায় কারোর OMR শিট ফাঁকা, আবার কেউ ইন্টারভিউতে কিছু না বলেও পেয়েছে অতিরিক্ত নম্বর!

আর এই ভাবেই বিক্রি করা হয়েছে কয়েক হাজার চাকরি। ভাবুন যে বাংলায় চাকরি নেই, সেখানেই হচ্ছে চাকরি বিক্রি। যদিও এই দুর্নীতি সামনে আসতেই – ধরা পড়ে একের পর এক তৃণমূল নেতারা। কারোর খাটের তলায় পাওয়া যায় কোটি কোটি টাকা, কারোর আবার বান্ধবীর ফ্ল্যাট খুলতেই দেখা যায় টাকার ছড়াছড়ি।

আর এই চাকরি বিক্রির ফল ভোগ করতে হয়েছে প্রায় কয়েক হাজার যোগ্য প্রার্থীকেও! কারণ, অযোগ্য থাকার কারণে বাতিল করে দেওয়া হয়ে্ছে ২৬,০০০ পরীক্ষার্থীর প্যানেল।

এমনকি শুধু SSC নয়, ৩২,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়েও রয়েছে হাজার হাজার বিতর্ক এবং আইনি জট। তাদের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে আদালতে।

আবার এই SSC দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পরেশচন্দ্র অধিকারী যিনি অন্যদের পাশাপাশি নিজের মেয়েকেও চাকরি করে দিয়েছিলেন তাকে আবার মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে তৃনমূলের তরফ থেকে। অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত চন্দ্রনাথ সিনহাকে বোলপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে।

যদিও এই দুর্নীতির মাথায় ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন শীক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

চতুর্থ –  ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি

পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতির ভ্যারাইটির শেষ নেই। একটা শেষ হতে না হতেই, অন্যটা শুরু।

আমাদের রাজ্যে ২৫ লক্ষের বেশি ভুয়ো জব কার্ড আর ভুয়ো কাজের হিসেব দেখিয়ে বিপুল টাকা লুঠ করা হয়েছে। গরীব মানুষদের যে অধিকারের টাকা তা আত্মসাৎ করেছে সরকারের কিছু উঁচুতলার ব্যাক্তিরা।

ভাবতে পারছেন, গরীব মানুষের নামে জব কার্ড বানিয়ে সেই টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। যার ফলে কেন্দ্রের তরফ থেকে এই খাতের টাকা আঁটকে দেওয়া হয়।

যদিও একদিকে রাজ্যের অভিযোগ কেন্দ্রের তরফ থেকে জোর করে, রাজ্য সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য এই টাকা আঁটকে দেওয়া হয়েছে। আর অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরান সিং চৌহানের বক্তব্য – এই প্রকল্পের অধীনে ২০১৪-১৫ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৫৪,৪৬৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফ থেকে, কিন্তু সেই টাকা ব্যবহারের সঠিক কোনও হিসাব পাওয়া যায়নি রাজ্যের তরফ থেকে।

পঞ্চম – পিএম আবাস যোজনা দুর্নীতি

ভাবুন একদিকে রাজ্যে চলছে দুর্নীতির জোয়ার, আবার অন্যদিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকাতেও বসানো হচ্ছে দুর্নীতির ভাগ।

আর সেই তালিকায় একটি হল প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। এই যোজনার অধীনে গরীব, গৃহহীন, এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকারের তরফ থেকে দেড় থেকে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরান সিং চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী – এই প্রকল্পে প্রায় ২৫,৭৯৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে।

কিন্তু, দেখা গিয়েছে – পশ্চিমবঙ্গে সেই প্রকল্পের টাকা ঢুকেছে একজনের অ্যাকাউন্টে আর বাড়ি করেছে অন্যজন। আবার দেখা গিয়েছে যার পাকা বাড়ি রয়েছে, সে পেয়েছে পাকা বাড়ি, আর যার মাটির বাড়ি ছিল, তার বাড়ি এখনও মাটিরই রয়েছে। আর এমন ধরনের বহু ঘটনা দেখা গিয়েছে সারা বাংলা জুড়ে, আর প্রতি ক্ষেত্রেই অভিযোগ করা হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের ওপর।

ষষ্ঠ – ডিয়ার লটারি কেলেঙ্কারী

লটারি দিয়েও স্ক্যাম। ভাবা যায়? শিল্প কীভাবে আসবে সেই নিয়ে চিন্তা নেই, কিন্তু দুর্নীতি, কেলেঙ্কারীর কত পথ খোঁজা যায় সেটা নিয়ে বাংলা সব সময় এগিয়ে।

বিরোধীদের অভিযোগ – ডিয়ার লটারির ফলাফল ঘোষণায় বহুবার কারচুপি করা হয়েছে, এবং ভুয়ো বিজয়ী দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয় টিকিট বিক্রির বিপুল অঙ্কের টাকা গোপন করা হয়েছে।

কারণ বহুবার এমন ঘটনা দেখা গিয়েছে, যে ডিয়ার লটারিতে জয়ী হয়েছেন তৃনমূলের তাবড় তাবড় নেতা, যেমন – অনুব্রত মণ্ডল, বিবেক গুপ্তারা। এই লটারির মাধ্যমে ব্ল্যাক মানি হোয়াইট করার অভিযোগও উঠেছে।

অর্থাৎ, যে লটারি অন্য রাজ্যে নিষিদ্ধ সেই লটারি প্রথমত আমাদের রাজ্যে আইনসিদ্ধ। সেটা যদি মেনে নেওয়া যায়, এটা কি মানা যায়, যে রাজ্যের গরীব মানুষেরা প্রতিদিন নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে টিকিট কাটবেন আর প্রাইজ মানি জিতবেন তৃণমূল নেতারা?

আর অভিযোগ অনুযায়ী, এই স্ক্যামের পরিমাণ কিন্তু কম নয়, প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

সপ্তম – মিড ডে মিলে দুর্নীতি

ভাবুন – আমাদের দেশের গরীব দুঃখী বাচ্চারা যারা বাড়িতে সঠিক পুষ্টি পাচ্ছে কিংবা পাচ্ছে না, তাদের জন্য প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে ক্লাস এইট পর্যন্ত এই মিড ডে মিল প্রকল্প চালু করা হয়। উদ্দেশ্য – একদিকে গ্রামের শিশুরা যেমন স্কুলমুখী হবে, অন্যদিকে তারা কিন্তু প্রয়োজনীয় পুষ্টিটুকুও পাবেন।

কিন্তু ভাবুন আমাদের রাজ্যের নেতারা সেই ভাগেও ভাগ বসাচ্ছে। দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার আর স্থানীয় পঞ্চায়েত নেতারা ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির খাতা জালিয়াতি করে এবং স্কুলের চাল-ডাল কালোবাজারে বিক্রি করে সেই টাকার বেশিরভাগ আত্মসাৎ করছে এবং বাকী টাকায় নিম্নমানের খাবার পড়ুয়াদের খাওয়ানো হচ্ছে। আবার অনেক সময় যত পড়ুয়া আছে, তার চেয়ে বেশি পড়ুয়া দেখানো হচ্ছে।

জানলে অবাক হবেন – রাজ্যের একটি দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে রাজ্য সরকার যে টাকা দিয়েছিল তা মিড ডে মিলের অ্যাকাউন্ট থেকে।

এমনকি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের জয়েন্ট রিভিউ কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়—১৬ কোটি মিড ডে মিল বেশি দেখানো হয়েছে। এতে ১০০ কোটির বেশি খরচ দেখানো হয়েছে।

অষ্টম – চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারী

বাংলার দুর্নীতির ইতিহাসে অন্যতম বড় দুর্নীতি হল চিটফান্ড কেলেঙ্কারী। কেউ বলে এই দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা, আবার কেউ বলে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি।

এই দুর্নীতির অধীনে – সারদা ও রোজভ্যালি গ্রুপ-এর মাধ্যমে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয় উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে।

২০১৩ সালে যখন সারদা স্ক্যাম প্রকাশ্যে আসে, শুধু সেই কেলেঙ্কারির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৩০,০০০ কোটি টাকা। তদন্তে নামে CBI ও ED। সামনে আসে বহু গ্রেপ্তার, আত্মহত্যা ও আর্থিক ক্ষতির ঘটনা। সেই নিয়ে দিদিমনি ভুলে গেলেও, সেই মৃত্যু দিদিমনির মনে না থাকলেও – সাধারণ মানুষ মনে রাখবে।

এই কেলেঙ্কারীতে জড়িত কুণাল ঘোষ, যিনি একসময়ে জেল খেটেছিলেন, বলেছিলেন – এই রোজভ্যালি, সারদার বেনিফিসিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তিনি তৃনমূলের বড় নেতা, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী।

এমনকি কামারহাটির প্রার্থী মদন মিত্র এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে জেল খেটেছিলেন।

নবম – প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা!

সবকিছু থেকেই যখন দুর্নীতি হচ্ছে, তাহলে এই খাতেও কেন বাদ থাকবে বাংলা?

Pradhan Mantri Gram Sadak Yojana (PMGSY)-র তহবিল নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার, কাজ সম্পূর্ণ না করেও বিল পাশ করার, এবং ভুয়ো প্রকল্প দেখিয়ে টাকা তোলার। এমনকি টাকা থাকলেও কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে।

আর এই খাতে দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকা। ভাবতে পারছেন? সরকার জানিয়েছে এই খাতে কেন্দ্রীয় সরকার ১৬,৫০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, কিন্তু সেই রাস্তার হিসাব এখনও সরকার দেখাতে পারেনি।

অর্থাৎ মানুষের প্রাথমিক চাহিদা যে ভালো রাস্তা, যেটা না থাকলে দুর্ঘটনার শেষ থাকে না, সেখানেও দুর্নীতি।

দশম – বন্যা ত্রাণ দুর্নীতি

এবার আপনাদের জানাবো – কীভাবে ত্রাণের টাকা দিয়েও করা যায় দুর্নীতি!

মালদহের বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারের জন্য যে জরুরী সরকারি তহবিল বরাদ্দ করা থাকে, সেই টাকা থেকেও ভুয়ো তথ্য দিয়ে ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তৃনমূলের বিরুদ্ধে।

CAG রিপোর্ট অর্থাৎ Comptroller and Auditor General-এর রিপোর্টে উঠে এসেছে যে একটা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৪২ বার টাকা পাঠানো হয়েছে। দেখা গিয়েছে ক্ষতি হয়নি তাও টাকা পেয়েছে। আবেদন করেনি তাও টাকা পেয়েছে।

যদিও এই টাকা রাজ্য সরকারের হওয়ায়, এতে কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা এখনও অবধি হস্তক্ষেপ করেনি।

একাদশ – আমফান ঘূর্ণিঝড়ের ত্রাণের টাকা লুট

আমরা প্রত্যেকেই জানি ২০২০ সালে যে আমফান ঝড় এসেছিল তার ভয়াবহতার কথা, কিন্তু তার থেকেও ভয়াবহ কী ছিল জানেন? সেই আমফান ঘূর্ণিঝড়ের জন্য আসা ত্রানের টাকা নিয়ে দুর্নীতি।

হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্তদের সাহায্যের জন্য কেন্দ্রীয় NDRF থেকে বাংলার কাছে যে ১০০০ কোটি টাকা আসে, তা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে সিন্ডিকেট রাজ এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের ওপর।

অভিযোগ – যার বাড়ির ছাদ উড়ে গিয়েছে, তার বাড়িতে হয়তো এবারের বর্ষাতেও টপছে জল। আর যাদের পাকা বাড়ি, তারা পেয়েছে ডবল ছাদের টাকা। যাদের ঘর ভাঙেনি তারা পেয়েছে ক্ষতিপূরণ, আর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা পাননি কোনও টাকা।

যদিও এই মামলা হাইকোর্টেও গড়ায়। তবে, সেই মামলার শুনানি এখনও চলছে।

দ্বাদশ – গরু পাচার দুর্নীতি

এবার আমরা বলবো পশ্চিমবঙ্গের বহু পুরানো এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গরু পাচার দুর্নীতির কথা।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বিশাল গরু পাচার চক্র চালানোর অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে তিনি ২ বছর জেলও খেটেছেন। এখানেও প্রায় হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এটিও বাংলার বুকে সবথেকে বড় দুর্নীতিগুলোর মধ্যে একটি।

যখনই কোনও দল, কোনও রাজ্যে ক্ষমতায় আসে – সেই দল উন্নয়ন করবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই উন্নয়নের পাশাপাশি এত বিপুল দুর্নীতি হয়, এটা সেই রাজ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং মারাত্মক।

এই দুর্নীতি শুধু বাংলার বর্তমান নয়, ভবিষ্যতকেও নষ্ট করতে চলেছে। আর এই দুর্নীতির দায়ভার কিন্তু পশ্চিমবঙ্গবাসীর ওপরেও বর্তায়। কারণ অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, এবং সহ্য করে আবার তাকেই ভোট দেয় – দুজনেই কিন্তু একই পাপের ভাগীদার হয়!

আপনাদের কী মতামত বাংলায় এত দুর্নীতির পরেও কি তৃনমূলকে ভোট দেওয়া উচিত? বাংলায় কি ফের ফেরানো উচিত তৃনমূলকে? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না নিজের মতামত।

google button