প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সরকারি ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত রাখার অভিযোগে ফের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, নদিয়ার নবদ্বীপ পুরসভার (Nabadwip Municipality) চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার বাসভবনের পাশেই একটি ক্লাবে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী (Nabadwip Relief Scam Case) উদ্ধার হয়েছে। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল থেকে শুরু করে পূর্ব মেদিনীপুর, রাজ্যের একাধিক জায়গায় তৃণমূল নেতাদের বাড়ি বা গুদাম থেকে সরকারি ত্রাণ উদ্ধারের ঘটনা সামনে উঠে আসছে। আর এবার সেই তালিকায় নাম উঠল নবদ্বীপের।
উদ্ধার ত্রিপল, কম্বল এবং তন্তুজের শাড়ি
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নবদ্বীপের বরালহাট স্পোর্টিং ক্লাবে হানা দিয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ উঠেছিল যে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত রাখা আছে ক্লাবের একাধিক ঘরে। আর সেই নিয়ে তদন্ত করতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। ক্লাবের ঘর থেকেই উদ্ধার হল ত্রিপল, কম্বল এবং তন্তুজের শাড়ি। স্থানীয়দের দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে এই সমস্ত ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবঘরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আর এই ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে সেখানকার পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে।
‘চোর-চোর’ স্লোগান স্থানীয়দের
জানা গিয়েছে, নবদ্বীপের বরালহাট স্পোর্টিং ক্লাবটি চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার বাড়ির একেবারে পাশেই অবস্থিত। স্বাভাবিকভাবেই তাই এলাকার বাসিন্দারা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছিল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আজ, শনিবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিট নাগাদ বিশাল পুলিশবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বিমানকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে বের করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময় উপস্থিত জনতার একাংশ ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে এবং তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে মৃদু লাঠিচার্জও করেছিল।
আরও পড়ুন: ‘সিঙ্গুরে ফিরবে টাটা’ বাংলার শিল্প নিয়ে বড় ঘোষণা শমীকের
সরকারি ত্রাণসামগ্রী চুরি করার প্রসঙ্গ উঠতেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে, তিনি জানিয়েছিলেন, শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোনও ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর যোগ নেই। কিন্তু এই সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।










