সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চারিদিকে যেন আগুনের ঝলকানি বেরোচ্ছে। কাটাফাটা রোদে জনজীবন্ত বিপর্যস্ত। আর ঠিক তখনই স্কুল পড়ুয়া শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিরাট সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। দিল্লির রেখা গুপ্তা সরকার (Government of Delhi) ঘোষণা করেছে যে, এখন থেকে স্কুল ছুটির আগে প্রতিটি শিশুকে ওআরএস খেয়ে তবেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। বিশেষ করে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে যে তীব্র লু প্রবাহ বজায় থাকছে, পড়ুয়াদের উপর যাতে তার কোনও রকম প্রভাব না পড়ে, সেই কারণেই এই উদ্যোগ।
২১ লক্ষ শিশু পাবে সুবিধা
দিল্লির এই নতুন প্রকল্পের আওতায় সরকারি স্কুলের আনুমানিক ১৫ লক্ষ এবং এমসিবি স্কুলের ৬ লক্ষ শিশু ওআরএস পাবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন প্রায় ২১ লক্ষ শিশুর শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বড় পদক্ষেপ দিল্লি সরকারের। পাশাপাশি দিল্লির পার্শ্ববর্তী নয়ডাতে স্কুলের সময়সীমা বদলে এবার সকাল ৭:৩০ করা হচ্ছে। অর্থাৎ সেখানে হবে মর্নিং স্কুল।
উল্লেখ্য, দিল্লি সরকার ২০২৬ সালের হিটওয়েভ অ্যাকশন প্ল্যানকে কঠোর করেছে। যার মধ্যে প্রধান দিকগুলি হল—ছুটির আগেই শিশুদেরকে রিহাইড্রেশন অর্থাৎ ওআরএস বিতরণ, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত কড়া রোদে নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, পার্ক এবং জনবহুল এলাকায় পশু পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জলের ব্যবস্থা, কাশ্মীর গেট বাস স্ট্যান্ডের মতো বড় বড় বাড়ির ছাদে তাপমাত্রা কমানোর জন্য প্রতিফলক আস্তরণ লাগানো হচ্ছে। এমনকি বাসস্ট্যান্ড বা জনবহুল মোড়ে হাই প্রেসার মিক্সড সিস্টেম বা অ্যান্টি–স্মগ গানের সাহায্যে বাতাসে জলীয় কণা ছিটিয়ে দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘সিংহম’ অফিসারের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা, যা বললেন বিচারপতি
দক্ষিণ দিল্লির আয়ানগর, থেকে শুরু করে সফদরজং এবং পশ্চিম দিল্লির নজফগড়সহ সহ বেশ কিছু এলাকায় রেকর্ড তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৪৫ ডিগ্রির ঘর ছাড়িয়ে যাচ্ছে তাপমাত্রা। আর ওয়াজিরপুর, জাহাঙ্গীরপুরী, দিল্লি গেটের মতো সেনসিটিভ এলাকাগুলিতে স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং কুইক রেসপন্স টিমকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ওআরএস প্যাকেট এবং জলের ট্যাঙ্কার মজুদ করা হয়েছে।










