India Hood Decode: রাষ্ট্রপতি শাসনে ভোট গণনা! ECI-এর ৫ মাস্টারস্ট্রোকেই ফিনিশ হবে তৃণমূল?

Published:

Updated:

ECI In Action Mood
Follow

SIR শেষ হওয়ার আগেই, এবার পুরো অ্যাকশন মুডে মাঠে নেমে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI In Action Mood)। এবার আর কোনও বোমা-বারুদ নয়, গুণ্ডাদের দাদাগিরি নয়, চলবে কেবল সেন্ট্রাল ফোর্সের দাপাদাপি। জোর করে ভোট দেওয়া, ভোটে ছাপ্পাবাজি করা – এসব আর চলবে না।

শুধু তাই নয়, ভোটের গণনাতেও কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না শাসকদল। কারণ ভোটের আগেই নির্বাচন কমিশন নিয়ে নিল বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত। তার ওপর বড় রায় শুনিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি পরস্থিতি এমনই যে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে হতে পারে ভোট গণণাও!

যে কারণে এক প্রকার চিন্তায় ঘাম ছুটছে শাসক দলের! এমনকি এবার গেম ওভারও হয়ে যেতে পারে তৃনমূলের!

আর এটা আমরা বলছি না, বলছে বেশ কিছু তথ্য!

ঠিক কী এমন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন? কী রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট? কেন ভেস্তে যেতে পারে তৃণমূলের সমস্ত গেমপ্ল্যান?

আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, যা বদলে দিতে পারে বাংলার ভবিষ্যৎ। তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রথম মাস্টারস্ট্রোক!

২০২৫ সালের 4ঠা নভেম্বর, জাতীয় নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালু করে SIR, অর্থাৎ Special Intensive Revision। উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকাকে ঝাড়াই-বাছাই করে আরও সঠিক করে তোলা।

এরপর ১৬ই ডিসেম্বর, প্রকাশিত হয় প্রথম খসড়া তালিকা। আর সেই খসড়া তালিকায় বাদ পড়ে রাজ্যের প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম। যেখানে ২০ লাখের বেশি মৃত ব্যক্তি, ১২ লক্ষেরও বেশি অনুপস্থিত বা ‘মিসিং’, প্রায় ২০ লক্ষ যারা অন্য জায়গায় চলে গিয়েছে, এবং প্রায় ১.৩ লক্ষ ডুপ্লিকেট বা ভুল এন্ট্রি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও সাড়ে ৩২ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে, ‘no-mapping’ বা লিঙ্কড না-হওয়ার জন্য শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এর মধ্যে যারা উপস্থিত হবেন না, কিংবা যোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারবেন না তাদের নাম বাদ যেতে পারে। যার ফলে ভোটার তালিকাতে আরও কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে, আর সেই পরিবর্তনের ফলে ভোটের খেলায় বদলে যেতে পারে অনেক কিছু।

কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ২১৫টি সিট পেয়ে জয়লাভ করে তৃণমূল। আর বিজেপি পায় ৭৭টি আসন।

কিন্তু, সংখ্যার দিক থেকে, তৃণমূল পেয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ভোট,

আর বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ২ কোটি ২৯ লক্ষ ভোট। অর্থাৎ ফারাক ছিল মাত্র সাড়ে ৬০ লক্ষ ভোটের

অন্যদিকে ECI জানাচ্ছে, ২০২১ সালের নির্বাচনে মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রায় ৭০টি আসনে তৃণমূল জিতেছে ৫% ভোট ব্যবধানের কমে

এবার পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত ৫৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে, এবং শুনানির সাড়ে ৩২ লক্ষের মধ্যে যদি ৩ লক্ষেরও নাম বাদ যায়, তাহলে বাদ পড়ার সংখ্যাটা হয়ে যাবে প্রায় ৬১ লক্ষ। অর্থাৎ, ভোটার তালিকা থেকে মুছে যাবে প্রায় ৮ শতাংশ ভোট। আর তৃণমূল আর বিজেপির ভোটারের সংখ্যা হয়ে যাবে এক্কেবারে কাছাকাছি।

কিন্তু, SIR করেই থামছে না ECI। কারণ, এবার তারা নিতে চলেছে আরও পাঁচটি মাস্টারস্ট্রোক (5 Masterstroke Of Election Commission), যা বিপাকে ফেলবে রাজ্যের শাসক দলকে। একটি সিদ্ধান্ত তারা ইতিমধ্যেই নিয়ে ফেলেছে, আর একটি তারা শীঘ্রই নিতে চলেছে।

প্রথম মাস্টারস্ট্রোক – এক দফা নির্বাচন!

৬ই ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই একটি বিরাট খবর সামনে আসে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের দফতর থেকে। জানা যায় – যদি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কত দফা ভোট করা হবে সেই নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। তাহলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানাবে – তারা এক দফায় ভোট করানোর পক্ষপাতী। আর শুধু তাই নয়, এক দফায় ভোট হলে, সেই ভোট করানোর জন্য প্রস্তুতও রয়েছে রাজ্যের নির্বাচন কমিশন।

কিন্তু, এক দফায় নির্বাচন হলে কী সত্যিই  তৃনমূলের বিপদ হতে পারে?

প্রথমেই আপনাদের জানিয়ে দিই, পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক বছরে ঠিক কত দফায় ভোট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালে ৮ দফায়, ২০১৬ সালে ৬ দফায়, ২০১১ সালে ৬ দফায়, ২০০৬ সালে  ৫ দফায়, এবং ২০০১ সালে এক দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে যেমন দেখা গিয়েছে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দফায় বিধানসভা ভোট অনুষ্ঠিত হতে, তেমনই দেখা গিয়েছে সর্বনিম্ন দফায় বিধানসভা ভোট হতে।

কিন্তু, ভোটের দফা বদলালেও, একটা বিষয় কিন্তু রয়ে গিয়েছে একই ভাবে। আর সেটা হল – পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রবল হিংসা আর রিগিং। এখন আবার এর সাথে জুড়েছে গণণার সময়েও হিংসা এবং নানা রকমের কারচুপি।

এবার যদি সাত দফা কিংবা আট দফায় ভোট হয়, তাহলে তা করাতে কম-বেশি দুমাস সময় লেগে যায়। আর এর ফলে শুধু সময় নয়, দেখা যায় অন্যান্য সমস্যাও –

যেমন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ – শাসক দলের গুণ্ডা বাহিনী হোক, কিংবা ছাপ্পা ভোট দানকারী হোক, তারা মাঝে অনেক সময় পেয়ে যায় এক জেলার ভোটে অশান্তি সৃষ্টি করে অন্য জেলায় গিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করার। কিন্তু এক কিংবা দুই দফায় ভোট হলে, রাজনৈতিক দলের গুণ্ডা বাহিনী একসাথে এত জায়গার বুথে আতঙ্ক কিংবা হিংসা কোনটাই ছড়াতে পারবে না।

এছাড়া, দেখা যেত প্রথম কিংবা দ্বিতীয় দফার ভোটে যদি অশান্তির খবর মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার হয়ে যেত, তখন বাকি দফাগুলোতে লোকের মধ্যে এক রকম ভয় সৃষ্টি হয়ে যেত, ভয়ে পেয়ে যেতেন প্রিসাইডিং অফিসাররাও, যা ভোটে প্রভাব ফেলতো।

এছাড়াও, একটি নির্বাচন করাতে হয় বিপুল পরিমাণ খরচ। রিপোর্ট বলছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেই আনুমানিক ১ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যদি দফা বাড়ে, তাহলে এই খরচ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়।

অর্থাৎ, যদি কম দফায় ভোট হয়, তাহলে একদিকে খরচ যেমন কমবে, তেমনই অন্যদিকে কমবে অশান্তি, ছাপ্পা ভোট আর বোমা-বারুদের ব্যবহার!

আপনাদের একটি তথ্য দিয়ে রাখি।

উত্তরপ্রদেশের মত রাজ্যে যেখানে সবথেকে বেশি অর্থাৎ ৪০৪টি বিধানসভা আসন আছে, সেখানে ৭ দফায় ভোট হয়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে ২৯৪টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন করতে লেগে যায় ৮ দফা। কিন্তু, কেন তার উত্তর কিংবা কারণ কোনটাই স্পষ্ট নয়।

যদিও ২০২১ সালে ৮ দফায় বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতা করেছিলেন, এবং এত দফায় ভোট করানোর প্রশ্ন তুলেছিলেন।

আবার সুজন চক্রবর্তীর মতে, বামফ্রন্ট জমানায় এক দিনেই ভোট হত, তৃণমূল জোর করে ৫ দফা ৭ দফার নির্বাচন চালু করেছে।

তবে সুজন চক্রবর্তীর এই দাবী সত্য নয়, কারণ কোন রাজ্যে কত দফায় নির্বাচন হবে তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব থাকে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওপরে। সেই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিতে পারে না।

দ্বিতীয় মাস্টারস্ট্রোক – গণনা কেন্দ্রের পরিবর্তন!

এবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগে নির্বাচনের গণনা হত সাধারণত রাজ্যের বিভিন্ন বড় সরকারি স্কুল, এবং প্রশাসনিক ভবনগুলিতে।

কিন্তু, সম্প্রতি জানা গিয়েছে, এবার শুধুমাত্র রাজ্যের জেলাশাসকের দপ্তরেই ভোট গণনা করা হবে। যদি কোনও জেলায় জায়গার অভাব দেখা দেয়, তবে বিকল্প হিসেবে মহকুমা শাসকের দপ্তর ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রাথমিকভাবে ১৫০টি গণনা কেন্দ্রের একটি তালিকা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই তালিকা খতিয়ে দেখে কমিশন একটি বড় অংশ বাতিল করে দেয়। পর্যালোচনার পর আপাতত রাজ্যে ১১৪টি গণনা কেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আর এই সিদ্ধান্ত একটি বড় ধাক্কা হতে পারে রাজ্যের শাসকদলের জন্য।

তৃতীয় মাস্টারস্ট্রোক – নতুন পর্যবেক্ষক সংস্থা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আবেদন জানান, বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য।

এতদিন ‘ম্যাকিনটোশ বার্ন’ নামক একটি সংস্থা এই নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল, তারা প্রায় ছয় মাস আগে সেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে রাজ্যের বুথ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সেই মামলার শুনানিতেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বুথগুলির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের কাজ করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা NBCC। আদালতে জানানো হয়েছে, বুথ নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিংয়ের দায়িত্বও থাকবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার উপর।

চতুর্থ মাস্টারস্ট্রোক – আধিকারিকদের বদলির নির্দেশ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোনও রকমের গাফিলতি যাতে না হয়, সে জন্য পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় বদলির নির্দেশ জারি কড়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গত চার বছরে কোনও আধিকারিক যদি তিন বছর নিজের জেলায় কর্মরত থাকেন, তাঁকে বদলি করতে হবে। তাঁর পদোন্নতি হলে, সেটাও সময়ের মধ্যে ধরা হবে। ডিএম, ডিইও, আরও, বিডিও থেকে শুরু করে এসপি, ডিআইজি পর্যন্ত একাধিক প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা রয়েছেন এই তালিকায়। আগের নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদেরও একই জেলায় রাখা যাবে না। শাস্তিপ্রাপ্ত বা গাফিলতির অভিযোগ থাকা অফিসারদের ভোটের কাজে লাগানো নিষিদ্ধ। আগামী ২৮শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই বদলির রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

আর শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, দেশের অন্যান্য যে সমস্ত রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে সেখানেও এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

পঞ্চম মাস্টারস্ট্রোক – দিতে হবে সরকারি কর্মীদের মুচলেকা:

তিন বছরের বেশি কর্মরত আধিকারিকদের শুধুমাত্র বদলির নির্দেশ দিয়েই থেমে নেই নির্বাচন কমিশন। ভোট ঘোষণার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের লিখিত মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু, কি জানাতে হবে ওই মুচলেকার মাধ্যমে? জানা গিয়েছে, ওই মুচলেকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জানাতে হবে যে, তাঁদের কোনও নিকটাত্মীয় ভোটে প্রার্থী নন। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। তার অন্যথা হলে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরানো হবে তাঁদের।

এছাড়াও, ২০২৬ সালের ৫ই জানুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে য়াদিল্লিতে কমিশনের একটি বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে গত বিধানসভা ভোটের তুলনায় আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানোর আবেদন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে দফা হ্রাস করা হলে সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাহিনী প্রয়োজন বলে মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন।

অর্থাৎ, রিপোর্ট বলছে গতবারের নির্বাচনে অর্থাৎ ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১০০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এবার যদি সেই সংখ্যা বাড়ানো হয়, তাহলে যে এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপাদাপি বাড়বে সে কথা বলাই বাহুল্য। আপনাদের জানিয়ে দিই, প্রতি কোম্পানিতে ১০০ জন সদস্য থাকে।

সুপ্রিম কোর্টের বড় রায়!

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি এক বড় রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অভিযুক্তকে শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য হঠাৎ করে গ্রেফতার করা যাবে না। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেসব অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর পর্যন্ত, সেখানে গ্রেফতারের আগে পুলিশকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা ৩৫(৩) ধারায় নোটিশ দিতেই হবে। ৩৫(৬) ধারা অনুযায়ী গ্রেফতার হবে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। অর্থাৎ, অভিযুক্ত নোটিশ পেয়ে তদন্ত সহযোগিতা না করলে বা পরিচয় গোপন করলে অথবা নোটিশের শর্ত ভঙ্গ করলে তখনই গ্রেফতারের পথে হাঁটতে পারবে পুলিশ।

অর্থাৎ এক রকমভাবে অনেকটাই খর্ব করা হল রাজ্য পুলিশের ক্ষমতা।

রাষ্ট্রপতির শাসনের অধীনে হতে পারে ভোট গণনা!

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নীলাদ্রি ব্যাণার্জি বলছেন, “যদি ৬ই মে-র পর ভোট গণনা হয় তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে হবে ভোট গণনা। কারণ তাঁর পর নাকি আর এই সরকারে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।“

অর্থাৎ, একদিকে গণনা কেন্দ্র নিয়ে থাকছে বাড়তি সতর্কতা, আবার প্রশাসন পরিবর্তন হয়ে গেলে সেখানে কারচুপি না হলে, ভোটের ফলাফল হতে পারে অন্যরকম!

এছাড়াও, বিভিন্ন SIR-এর মামলা এবং বিঘ্ন প্রদানের ফলে SIR-এর শুনানি যেভাবে পেছোচ্ছে, যেভাবে দেরী হচ্ছে ভোটার তালিকা সংশোধনে, তার ফলে ভোট দেরীতে হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর দেরীতে ভোট হলে, সেই ভোট তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য যে কম দফায় ভোট হবে, সেটাও যেমন অনস্বীকার্য, তেমনই ৬ই মে-র পর ভোট গণনা হলে সেটা যে রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে হবে সেটাও অনস্বীকার্য।

অর্থাৎ সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরগরম পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি। এই নিয়ে আপনার কি মতামত? জানাতে ভুলবেন না কমেন্ট করে।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now