India Hood Decode: ধর্মতলার ধর্না ফ্লপ! এবার আরও বড়সড় চাপে পড়ল তৃনমূল

Published:

TMC Dharna Become Flop

এবার এক প্রকার ফাঁদে পড়ে রণে ভঙ্গ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম নির্দেশে জয় নয়, বরং ধর্না মঞ্চে নিজের হার দেখে ধর্না তোলার  সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো। আর এই কথাগুলো আমরা বলছি না, এগুলো প্রকাশ পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাজে!

একদিকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে কখনও তিনি অপমান করে বসছেন দেশের রাষ্ট্রপতিকে, আবার কখনো তিনি ওপেন থ্রেট দিচ্ছেন একটি কমিউনিটিকে! আবার অন্যদিকে, সুপ্রিম নির্দেশ হোক কিংবা শিক্ষকদের বিক্ষোভ – SIR-এর ধর্না মঞ্চে প্রকাশ্যে এসেছে এমন কিছু ঘটনা, যা বলে দিচ্ছে এক প্রকার ব্যর্থ হয়েছে এই ধর্না।

এমনকি যে মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরের ঘটনার জন্য করেছিলেন ২৬ দিনের অনশন, যে মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রাম ঘটনার প্রতিবাদে দিয়েছিলেন ১৪ দিনের ধর্না, এমনকি নিজের পুলিশকে বাঁচাতে গিয়ে দিয়েছিলেন ৩ দিনের ধর্না – আজ সেই মুখ্যমন্ত্রী SIR-এর মতো ইস্যুতে মাত্র ৫ দিনেই কেন শেষ করে দিলেন ধর্না! আবার তাঁকে সেই ধর্না তোলার অনুরোধ করলেন তাঁরই ভাইপো অভিষেক! কেন?

আজ India Hood ডিকোডে, আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য, যা প্রমাণ করে দেবে – ধর্মতলার এই ধর্না একটি ফ্লপ শো! প্রমাণ করে দেবে এই যে ধর্না মঞ্চেই এক প্রকার প্যাঁচে পড়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

দিনটা ছিল শুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬। দুপুর থেকেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ধর্নার মূল ইস্যু ছিল SIR প্রক্রিয়ায়, অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় যে ৬৩ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে, এরা কি আর ভোট দিতে পারবে?

কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল অন্য ছবি। ধর্না মঞ্চ থেকেই তৈরি হচ্ছে একের পর এক বিতর্ক, মানুষের অধিকার নিয়ে শুরু হওয়া ধর্না পাল্টে যাচ্ছে  রাজনীতিতে! এমনকি ধর্না মঞ্চের পাশেই প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন বাংলার শিক্ষকরা।

যার ফলে শেষ পর্যন্ত – আদালতের নির্দেশে বড় জয়, নতুন দরজা অনেকটা খুলে গেল – এই সব বলে এক প্রকার বাধ্য হয়ে নিজেই ধর্না শেষ করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী!

কিন্তু, আসলে এই ধর্না শেষ করার নেপথ্যে আসলে রয়েছে কী কারণ?

প্রথম কারণ – প্রথম দিনেই হন অপদস্থ!

দিনটা ৬ই মার্চ, অর্থাৎ ধর্নার প্রথম দিন। ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কিন্তু, হঠাৎ সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কয়েক জন পার্শ্বশিক্ষক। গত কয়েক দিন ধরেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছিলেন তাঁরা। এ বার সেই প্রতিবাদের জন্য তাঁরা বেছে নিলেন মমতার ধর্না মঞ্চকে। সেখানে প্ল্যাকার্ড হাতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পাশাপাশি পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে সরিয়ে নিয়ে যায়।

মঞ্চে বসে মমতা বলেন, ‘‘শান্ত হয়ে থাকতে পারলে থাকবেন। রাজনীতি করবেন না। বিজেপির কথায় এ সব করবেন না। এই জায়গা খোলামেলা বলে ভাববেন না, যা কিছু করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ-কে দেখান। ভ্যানিশ কুমারকে দেখান।’’

আর এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনাটি তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

এই নিয়ে বিরোধীরা বলতে শুরু করে—যে মঞ্চ থেকে সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দাবি করছে, সেই মঞ্চের সামনেই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে।

এবার আসবো দ্বিতীয় কারণে, আর সেটা হল – রাষ্ট্রপতিকে অপমান!

এরপর দিনটা ছিল ৭ই মার্চ। অর্থাৎ ধর্নার দ্বিতীয় দিন। পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দৌপ্রদী মুরমু। তাঁর শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তার স্থান বদল হয়। আর সেখান থেকেই হয় বিতর্কের সূত্রপাত।

কারণ এই স্থান পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রপতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি নিজেই চলে যান সেখানে, যেখানে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুর্মু বলেন, ‘‘সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীরও আসা উচিত। মন্ত্রীর থাকা উচিত। মমতা আমার ছোট বোনের মতো। জানি না, হয়তো কোনও কারণে আমার উপর রাগ করেছেন।‘ জায়গা প্রসঙ্গে এর পর তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে চলে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এখানে এত বড় জায়গা আছে। তা-ও কেন হল না, জানি না। এখানে হলে আরও অনেক মানুষ আসতে পারতেন।‘

এরপর ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই এর জবাব দেন মমতা। বলেন, রাষ্ট্রপতি ‘বিজেপির নীতির ফাঁদে’ পড়েছেন। রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির পরামর্শে বিধানসভা ভোটের সময় রাজনীতি করবেন না। এসআইআর নিয়ে একটাও কথা বললেন না তো? কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই খবর রেখেছেন? খোঁজ নিয়ে নিন, আমরা আদিবাসীদের জন্য কী কী করেছি। অন্য রাজ্য কী করেছে।’

আর মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে যে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদকে অসম্মান করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় জাতীয় স্তরেও।

প্রশ্ন ওঠে — যে আন্দোলনকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন বলা হচ্ছে, সেই আন্দোলনের মঞ্চ থেকেই দেশের সাংবিধানিক পদ নিয়ে মন্তব্য কেন? এই ঘটনাটা ধর্না মঞ্চের প্রথম বড় বিতর্ক হয়ে ওঠে। অনেকেই এই ঘটনাকে ভালোভাবে নেন না। আদিবাসীরা এই ঘটনায় রেগে যান। আর এখানেই ফাঁস হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর এক দুমুখো রাজনীতির পরিচয় – একদিকে তিনি বলেন ভিনরাজ্যে বাঙালীদের হেনস্থার কথা, আর অন্যদিকে তিনি নিজের রাজ্যেই একজন বাঙালি রাষ্ট্রপতিকে হেনস্থা এবং অপমান করলেন। শুধু তাই নয়, তৃনমূলের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে কারা থাকবেন, কোন কনভয়ে যাবেন, সেই সংক্রান্ত গোপন নথিও প্রকাশ করা হয় তৃনমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। যা নিয়েও শুরু হয় বিতর্ক!

তৃতীয় কারণ – হিন্দুদের ওপেন থ্রেট!

এরপর দিনটা ছিল ৯ই মার্চ। অর্থাৎ, ধর্নার চতুর্থ দিন। ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন,’আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি, যদি তেমন দিন আসে তাহলে এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না,ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম ১২টা বাজিয়ে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে কেউ দিন ভুল বুঝবেন না।’

মমতার এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এবার মুসলিমরা আর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পাশে নেই। তারা রয়েছে হুমায়ুন কবীরের পাশে। তিনি আরও বলেন, হিন্দুরাও এবার জোট বাঁধতে শুরু করেছে।

ফলে ধর্নার মূল ইস্যু থেকে আলোচনা সরে গিয়ে সেই যে ধর্মীয় বিষয়ে গিয়ে আটকে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ কখনো দুধেল গাই আবার কখনো হিংস্র কমিউনিটির মন্তব্য – লোকের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল পর্দা ফাঁস করে দিয়েছে।

এবার আমরা বলবো চতুর্থ কারণ, আর সেটা হল সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের অপদস্থ হওয়া

১০ই মার্চ, সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলার শুনানিতে একদিকে তৃনমূলের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে চূড়ান্ত তিরস্কার করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। আর অন্যদিকে পরিষ্কার করে দেন, SIR প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য, যা প্রথম থেকেই বারংবার বলে আসছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান বিচারপতি বলেন, যারা বৈধ ভোটার, তারা অবশ্যই তালিকায় থাকবেন, যারা অবৈধ, তাদের নাম বাদ যাবে। আর ভোটের একদিন আগেও যদি কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় না থাকে, তাহলে সেটিকে স্পেশাল কেস হিসেবে দেখা হবে।

কিন্তু, এখানেই উঠতে থাকে একাধিক প্রশ্ন – এখানে তৃনমূলের জয় কোথা থেকে হল? এছাড়া, কোর্টের নির্দেশ সবসময়ই মেনে এসেছে নির্বাচন কমিশন, সেটা আধার কার্ডকে মান্যতা দেওয়া হোক কিংবা SIR প্রক্রিয়ায় বিচার আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্তি হোক – কিন্তু তৃনমূল কি কোর্টের কথা আদৌ শুনছে? তারা কোর্টের নির্দেশকেই বারংবার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন!

এমনকি বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে —  যদি বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তির পথে থাকে তাহলে ধর্নার রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এইভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করিয়ে কী লাভ?

পঞ্চম কারণ – ধর্না শেষে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ!

১০ই মার্চ, ধর্না শেষ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন— কিছু মানুষকে টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বড় দাবি হলেও বিরোধীরা পাল্টা প্রশ্ন তোলে— কারা টাকা দিচ্ছে? কোন প্রমাণ আছে?

আবার অনেকের দাবী – আসলে সবাই তৃণমূলের অরাজকতা ছেড়ে দল ছাড়ছে, আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতে মুখ্যমন্ত্রী টাকা দিয়ে কেনার অভিযোগ তুলছেন – এমনটা নয় তো?

আবার অনেকেই দাবী করেছেন, এবারের ধর্নায় মানুষের উপস্থিতির হার ছিল অনেক কম। এছাড়া, ধর্নার ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত হচ্ছিল।

ফলত বেগতিক বুঝে তাড়াতাড়ি করে এই ধর্না তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী।

অর্থাৎ একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন— দরজা কিছুটা খুলেছে, তাই আপাতত কর্মসূচি শেষ করা হচ্ছে।

আর অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে — আসলে রাজনৈতিকভাবে লাভ হচ্ছিল না। ধর্না মঞ্চে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হচ্ছিল, প্রতিবাদ হচ্ছিল, এবং জনসমর্থনের প্রশ্ন উঠছিল। ফলে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই ধর্না শেষ করা হয়েছে।

কিন্তু, আপনাদের কী মনে হয়? এই ধর্না হঠাৎ করেই কেন শেষ করা হল? এবারের ভোটে এই ধর্না কী কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।

🔮
মাত্র ২১ টাকায় নিজেরবাংলা কুষ্ঠি তৈরি করুন
দেখুন →
google button