সত্যিই কি বিল গেটসের কারণে কৃত্রিম বৃষ্টি হচ্ছে ভারতে? জানুন আসল তথ্য

Published:

Bill Gates

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিগত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ছে যে বিল গেটসের (Bill Gates) উদ্যোগেই নাকি দেশে অকাল বৃষ্টি আর আবহাওয়া সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে! আর ভাইরাল ভিডিওগুলোতে দাবি করা হচ্ছে যে, আকাশ থেকে কেমিক্যাল স্প্রে বা কিমট্রেইলসের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে এই বৃষ্টি (Artificial Rain) নাকি নামানো হয়েছে! কিন্তু আদৌ কি তাই? বিজ্ঞান আর বাস্তব কী বলছে? জানুন আসল সত্যি।

বিল গেটসের কারণে কৃত্রিম বৃষ্টি ভারতে?

প্রথমেই বলে দিই, বিল গেটসকে নিয়ে ছড়ানো এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো। এর কোন সত্যতা নেই। গেটস ফাউন্ডেশন বা বিল গেটস ব্যক্তিগতভাবে ভারতের কোনও আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ বা কৃত্রিম বৃষ্টির প্রজেক্ট চালাচ্ছেন না এমনটাই খবর। কিন্তু এই গুজবের সূত্রপাত হয়েছে মূলত বিল গেটসের একটি পুরনো বৈজ্ঞানিক বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে।

আসলে ২০০৭ সাল থেকে বিল গেটস সোলার জিওইঞ্জিনিয়ারিং নামক গবেষণার পেছনে অর্থ ঢালছেন। আর এর মূল লক্ষ্য হল স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে হালকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট কণা ছড়িয়ে দিয়ে সূর্যের প্রখর তাপ কিছুটা কমিয়ে পৃথিবীকে শীতল রাখা। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রযুক্তি ২০২৪ সালে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর এই গবেষণার সঙ্গে ভারতের বর্ষা বা আবহাওয়ার কোনও রকম সম্পর্ক ছিল না আর নেই। ভারতে বিল গেটসের বিনিয়োগ মূলত কৃষি প্রযুক্তি আর স্বাস্থ্য খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, আবহাওয়ার ক্ষেত্রে নয়।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, বৃষ্টির পর মেঘ থেকে পড়া শিলা দীর্ঘক্ষণ ধরে জমাট বেঁধে থাকছে, সেগুলি গলছে না। নেট নাগরিকদের একাংশ একে রাসায়নিক বৃষ্টির প্রমাণ হিসেবেই দাবি করছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন সম্পূর্ণ অন্য কথা। তাঁদের বক্তব্য, এটি সাধারণ প্রাকৃতিক ঘটনা। যখন আকাশ মেঘলা থাকে এবং মাটির তাপমাত্রা কম থাকে তখন বরফ বলতে অনেকটাই দেরি হয়। আর অনেক সময় ছোট ছোট শিলা কণাগুলি জমাট বেঁধে বরফের চাই তৈরি করে ফেলে যা গলতে অনেকটাই সময় নেয়। এর পেছনে কোনও রকম কৃত্রিম প্রযুক্তি নেই।

আরও পড়ুন: দক্ষিণবঙ্গে ফিরল শীত? কলকাতার পারদ কমল ৬ ডিগ্রি, কদিন চলবে দুর্যোগ?

ভারতে কি আর্টিফিসিয়াল রেইন হয়?

এবার অনেকের মনে এই প্রশ্ন জাগতে পারে। তবে আমরা যদি বলি হ্যাঁ, ভারতেও কৃত্রিম বৃষ্টি হয় তাহলে কি আপনি অবাক হবেন? আসলে ভারতে কৃত্রিম বৃষ্টির প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তা বিল গেটসের প্রজেক্ট নয়। একে ‘ক্লাউড সিডিং’ বলা হয়। কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুর খরা মোকাবিলার জন্য বহু বছর ধরেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি ২০২৫ সালে দিল্লিতে বায়ুদূষণ কমানোর জন্য কৃত্রিম বৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়েছিল। যদিও তা হিতে বিপরীত হয়। এক্ষেত্রে বিমানে করে মূলত মেঘের মধ্যে সিলভার লবনের কণা ছড়িয়ে দেওয়া হয় যা মেঘকে ঘনীভূত করে বৃষ্টি নামাতে সাহায্য করে। এটি স্থানীয় একটি প্রক্রিয়া। আর এর সাথেও বিল গেটসের কোনও সম্পর্ক নেই। তাই অযথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো খবরে বিশ্বাস করবেন না।

google button