আশাকর্মীদের ঘাড়ে বড় দায়িত্ব, শিশুদের মোবাইলের আসক্তি কমানোর কাজ দিল সরকার

Published:

ASHA workers on Mobile Addiction

অনন্যা সরকার, কলকাতা: সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী মহিলা, শিশু সহ পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেওয়া ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কাজ করেন আশাকর্মীরা (ASHA Worker)। এবার তারা স্মার্টফোনে আসক্ত শিশুদেরও চিহ্নিত করবেন। শহরে তো ছিলই, এখন গ্রামের ঘরে ঘরেও স্মার্টফোন ছেয়ে গেছে। শিশুদের ব্যস্ত রাখতে বাবা-মায়েরা হাতে তুলে দেন মোবাইল ফোন, যা তাদের মানসিক বিকাশে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষার সময় শিশুরা কতক্ষণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে তারও খোঁজ নেবেন আশাকর্মীরা। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে শিশুদের আচরণে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কিনা, তার ওপরও নজর রাখবেন। 

শিশুদের মোবাইল আসক্তি কমাতে আশা কর্মীদের নজরদারি

বৃহস্পতিবার কলকাতায় শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় বাল স্বাস্থ্য কর্মসূচির দ্বিতীয় সংস্করণের (আরবিএসকে ২.০) দু’দিনের জাতীয় কর্মসূচিতে কেন্দ্রের স্বাস্থ‌্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব আরাধনা পট্টনায়ক জানান, গ্রামে এমন প্রচুর পরিবার আছে যাদের বাড়িতে হয়তো এসি ফ্রিজ টিভি নেই, কিন্তু অন্তত একটি করেও স্মার্টফোন রয়েছে। তাঁর কথায়, কি প্রভাব পড়বে তা না ভেবেই অনেক বাবা-মায়েরা শিশুদের ব্যস্ত রাখার জন্য তাদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন।

ন‌্যাশনাল হেলথ মিশনের মিশন ডিরেক্টর জানিয়েছেন, অল্প বয়সের বাচ্চাদের মোবাইল ফোনে আসক্তির ফলে তাদের মস্তিষ্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে, যা বাবা মায়েরা অনুধাবন করতে পারেন না। অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করার ফলে শিশুদের মনোযোগের ঘাটতি, দেরিতে কথা বলার সমস্যার পাশাপাশি চোখের সমস্যা ও আচরণগত সমস্যাও দেখা যায়। 

আরাধনা পট্টনায়ক এদিন ঘোষণা করেন, শিশুদের স্মার্টফোনে আসক্তি কমানোর উদ্যেগে আশাকর্মীদের নিযুক্ত করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি সমীক্ষায় ব্যবহৃত কমিউনিটি-ভিত্তিক মূল্যায়ন (CBAT) ফর্মে ছোট বাচ্চা বা কিশোর-কিশোরীর দৈনিক মোবাইল ব্যবহারের সময় (Screen Time) কত এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে তাদের মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তনের হচ্ছে কি না – এই প্রশ্নগুলিও যুক্ত করা হয়েছে। আশাকর্মীরা এবার থেকে বাচ্চাদের এই সমস্ত আচরণগুলির ওপর নজর রাখবেন। 

আরও পড়ুনঃ দ্রুত বুকিং, বারবার ভরতে হবে না তথ্য! IRCTC-র ওয়েবসাইটে ৪ বড় বদল

এছাড়া, স্কুল হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস প্রোগ্রাম (SHWP) এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের (ICDS) প্রশিক্ষণ মডিউলেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। আরাধনা বলেন, বর্তমান যুগে বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্যে মোবাইলের প্রয়োজন থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিয়ো স্ক্রল করা বা গেম খেলার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে।