অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: গাড়ির মাইলেজ কমে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক, তারই মাঝে এবার সরকার কর্পোরেট অ্যাভারেজ ফিউল ইকোনমি নর্মস বা ক্যাফে (CAFE)-এর পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে চালু হবে CAFE-3। বর্তমানে CAFE-2 চালু রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। সরকারি এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল বাজারে বেশি মাইলেজ সম্পন্ন গাড়ির সংখ্যা বাড়ানো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোকে এবার থেকে এমন গাড়ি তৈরি করতে হবে, যা ৩.৯৯ লিটার জ্বালানিতে অন্তত ১০০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ২৫ কিলোমিটার মাইলেজ দিতে হবে।
গাড়ির মাইলেজ বাড়ানো নিয়ে নতুন নিয়ম সরকারের
CAFE-এর এই নিয়মটি কোনো একটি গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, গাড়ি প্রস্তুতকারকদের তাদের সমস্ত গাড়িতেই এই গড় মাইলেজ দেখাতে হবে। যেখানে একটি গাড়ির মাইলেজ ১৫ কিলোমিটার হতেই পারে, তবে কোম্পানির সমস্ত গাড়ির মাইলেজ অবশ্যই ৩০ কিলোমিটার বা তার বেশি হতে হবে। CAFE-3 এর পরে, ২০৩১-৩২ সালে নিয়মগুলো আরও কঠোর করা হবে বলে শোনা যাচ্ছে। তখন, এক একটি গাড়ি প্রস্তুতকারকের গড় মাইলেজ ৩.৩২ লিটার জ্বালানিতে ১০০ কিলোমিটার হতে হবে। এই মাইলেজ দিতে ব্যর্থ হলে, গাড়ি নির্মাতাদের মোটা অঙ্কের জরিমানাও দিতে হবে বলে জানা গেছে।
কর্পোরেট অ্যাভারেজ ফুয়েল ইকোনমির নিয়ম অনুসারে, কোম্পানিগুলি প্রতিটি গাড়ির মাইলেজ আলাদাভাবে দেখে না। ওই গাড়ি কোম্পানিগুলোকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, এক বছরে তাদের বিক্রি করা সমস্ত গাড়ির মাইলেজ একটি নির্দিষ্ট সীমার উপরে রয়েছে কিনা। যদি কোনো কোম্পানি অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহৃত হয় এমন গাড়ি বিক্রি করে, তবে তাকে মোটা টাকা জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়। তাই, কার কোম্পানিগুলি বর্তমানে বেশি মাইলেজের বা ইলেকট্রিক চালিত গাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকার নতুন নিয়মাবলীর খসড়াটি নিয়ে জনসাধারণ ও গাড়ি কোম্পানি সহ স্টেকহোল্ডারদের কী মতামত, তা জানতে চেয়েছে। সকল স্টেকহোল্ডাররা আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত তাদের মত জমা দিতে পারবেন। তবে কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে ছাড় বা ক্রেডিট দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সরকার একদিকে এই নিয়মগুলি আনছে, আর অন্যদিকে ইভি কোম্পানিগুলোকে বেশি সুবিধা দিচ্ছে। ইভি (EV), ফ্লেক্স-ফুয়েল (Flex Fuel) বা হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে একটি সুপার ক্রেডিট স্কোর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে, যা তাদের গড় স্কোর উন্নত করতে পারে। এছাড়াও প্রথমবারের মতো, ইথানল, বায়োগ্যাস (CBJ) এবং জৈবজ্বালানি দ্বারা চালিত যানবাহনগুলো দূষণ কমানোর জন্য অতিরিক্ত পয়েন্ট দেওয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছে।
নয়া নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো কোম্পানি তার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তারা অন্য কোনো কোম্পানির কাছ থেকে সেই লক্ষ্যমাত্রা কিনে নিতে পারবে। শুধু অন্য কোম্পানিই নয়, সরকারও ক্রেডিট বিক্রি করবে। প্রথম বছরে একটি ক্রেডিটের দাম হবে ২৫০০ টাকা, যা প্রতি বছর ৫০০ টাকা করে বাড়বে। যে কোম্পানিগুলো নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হবে এবং অতিরিক্ত ক্রেডিট কিনবে, তাদের বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে। তবে, ভারতে যে ছোট গাড়ি কোম্পানিগুলো বছরে ১,০০০টির কম গাড়ি বিক্রি করে, তাদের এই কড়া নিয়মকানুনের বাইরে রাখা হয়েছে।










