সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লিতে দীর্ঘ ৩৬ দিন আন্দোলনের পর অবশেষে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে জেন-জির এই আন্দোলন চলছিল। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে চালানো হয় এই আন্দোলন। তবে এবার আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে দেশে? পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি ই-২০ পেট্রোল (E20 Petrol) চালু করার পর বেশিরভাগ মানুষের অভিযোগ, এতে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে, এমনকি গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবার ই-২০ বন্ধের দাবিতে ট্যাক্সি চালক এবং অন্যান্যরা প্রতিবাদ মিছিলে নামতে পারে বলেই অনুমান।
ই-২০ বিরুদ্ধে এবার প্রতিবাদ
সম্প্রতি দিল্লি ট্যাক্সি এন্ড টুরিস্ট ট্রান্সপোর্টার্স অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন ই-২০ পেট্রোল নীতি এবং গাড়ির মাইলেজ হ্রাসের প্রতিবাদে আগামী ৪ আগস্ট সংসদ অভিমুখে একটি পদযাত্রার ঘোষণা করেছে। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি সঞ্জয় সম্রাট এবং অন্যান্য সদস্যরা এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এমনকি প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তাদের হাতে আখও দেখা যায়। কারণ, যেহেতু এই আখের রস থেকেই পেট্রোলে মেশানো ইথানল তৈরি হচ্ছে। তাহলে কি এবার গদি হারাবেন দেশের পরিবহন মন্ত্রী?
এদিন সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সঞ্জয় সম্রাট বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশজুড়ে চালকরা অভিযোগ করছেন যে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহার করলে যানবাহনের মাইলেজ আগের থেকে অনেক কমে যাচ্ছে এবং ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ছে। কারণ, ২০১৫ সালের আগে তৈরি হওয়া বেশিরভাগ গাড়ি ই-২০ পেট্রোলের জন্য উপযুক্ত নয়। এই জ্বালানি শুধুমাত্র নতুন মডেলের জন্যই উপযুক্ত। সেই কারণে পুরনো যানবাহনগুলির ইঞ্জিন দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে। এমনকি তাদের আরও দাবি, জ্বালানির দাম বাড়লেও কেন ভেজাল পেট্রোল মেশানো হচ্ছে?
আরও পড়ুন: সোমবার ১২ ঘণ্টা বন্ধ অ্যাপ-ক্যাব পরিষেবা, ১১ দফার দাবি তুলে ধর্মঘট সংগঠনের
এদিকে সম্প্রতি ওই সমিতির সদস্য জিতেন্দ্র ববিও পর্যটক যানবাহনের জন্য ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি সীমা নির্ধারণের বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ে এবং হাইওয়েতে ব্যক্তিগত যানবাহনগুলিকে উচ্চগতিতে চলার অনুমতি দেওয়া থাকলেও অল ইন্ডিয়া টুরিস্ট পারমিট থাকা বাণিজ্যিক ট্যাক্সি এবং বাসগুলির গতিবেগ ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। এই সমস্ত দাবি তুলেই এবার সংসদ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে সংগঠনের তরফ থেকে। এমনকি তাদের আরও দাবি, পুরনো যানবাহনগুলি জোরপূর্বক বাতিল করার নীতি পর্যালোচনা করা উচিত।










