ইরানের যোগসূত্র থাকা ৩ তেলবাহী জাহাজ আটক করল ভারত

Published:

Indian Coast Guard
Follow

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সমুদ্রপথে অবৈধ তেল বাণিজ্য রুখার জন্য এবার বিরাট পদক্ষেপ ভারতের। চলতি মাসে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত এবং ইরানের যোগ থাকা তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটক করেছে ভারতীয় উপকূল রক্ষীবাহিনী (Indian Coast Guard)। একই সঙ্গে দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্র মারফৎ খবর।

কোথায় আটক করা হয়েছে জাহাজগুলি?

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, মুম্বাই উপকূলের পশ্চিমে প্রায় ১০০০ নটিক্যাল মাইল দূরে সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়ার পরেই এই অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী সময়ে জাহাজ তিনটিকে তদন্তের জন্য মুম্বাই বন্দরে নিয়ে আসা হয়। জানা যাচ্ছে, এই আটক হওয়া জাহাজগুলির নাম যথাক্রমে Stellar Ruby, Asphalt Star এবং Al Jafzia। বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, এই জাহাজগুলি প্রায়ই নিজেদের পরিচয় এবং নথি বদলাতো, যাতে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে ফাঁকি দেওয়া যায়। এমনকি মালিকানাও বিদেশ ভিত্তিক জটিল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হত।

ভারতের প্রধান উদ্বেগ ছিল মাঝ সমুদ্রে জাহাজে জাহাজে তেল স্থানান্তর আর তেলের উৎস গোপন করার নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অবৈধ বাণিজ্য। এই ধরনের লেনদেন আন্তর্জাতিক বাজারে নিষিদ্ধ তেল বিক্রি করার সবথেকে বড় মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারতীয় উপকূল এবং এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে মোট ৫৫টি টহলদারী জাহাজ ঘোরাফেরা করে এবং ১০ থেকে ১২টি নজরদারি বিমানে রয়েছে, যেগুলি ২৪ ঘন্টা মোতায়েন করা থাকে।

ইরান কী বলছে?

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, আটক জাহাজ বা তেলের সঙ্গে তাদের কোনওরকম সম্পর্ক নেই। আর জাহাজ বা কার্গোগুলি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথ্যভান্ডার বলছে, অন্তত দুটি জাহাজে ইরানের যোগসূত্র মিলেছে। অন্যদিকে মার্কিন ট্রেজারি দফতরের সংস্থা অফিস অফ ফরেন এসেস্ট কন্ট্রোল আগেই একাধিক জাহাজের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। আর সেগুলির আইএমও নম্বর আটক জাহাজগুলো সঙ্গে একেবারে হুবহু মিলে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বাংলার ৩ জেলায় এলিভেটেড করিডর, এক্সপ্রেসওয়েতে সাঁই সাঁই করে ছুটবে গাড়ি

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়েছে। কারণ, বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে জ্বালানি আমদানির উপর এসেছে বড়সড় পরিবর্তন। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেল বিক্রিতে সাধারণত যে সমস্ত পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জাহাজের নাম ও পতাকা বদল, ভুয়ো নথিপত্র, মাঝ সমুদ্রে কার্গো স্থানান্তর এবং জটিল মালিকানা কাঠামো। আর ঝুঁকি বেশি হওয়ার কারণে এই তেল অনেক সময় কম দামে বিক্রি করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now