৩২,০০০ টন সোনার উপর বসে ভারত! ‘লকার-বন্দি’ সম্পদকেই বাজারে ফেরাতে চান মোদী

Published:

Narendra Modi on Gold

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাঙালি থেকে শুরু করে ভারতীয়দের সোনার (Gold) প্রতি আকর্ষণ নতুন কিছু নয়। বিয়ে, উৎসব কিংবা সঞ্চয়, সবকিছুতেই হলুদ ধাতুর স্থান সবার উপরে। তবে এই ভালোবাসার আড়ালে দেশের কোটি কোটি পরিবার এবং মন্দির ট্রাস্টগুলির ভল্টে নাকি ৩০ হাজার থেকে ৩২ হাজার টন সোনা জমে রয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদী এই লকার বন্দী অলস সোনাকেই পুনরায় ব্যবহার বা রিসাইকেল করার আহ্বান জানালেন (Narendra Modi on Gold)। লক্ষ্য একটাই, বিদেশ থেকে নতুন করে সোনা আমদানি কমিয়ে দেশের ভেতরের সম্পদকেই পুনর্ব্যবহার করা।

কেন এই রিসাইকেলিং-এর উপর জোর

আসলে এর নেপথ্য রয়েছে বিশাল আমদানি বিল। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে শুধুমাত্র সোনা আমদানি করতেই ভারতের রেকর্ড ৭২৪০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। এক কথায় প্রতি আউন্স সোনা আমদানির জন্য ভারতকে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়, যা দেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা বাণিজ্যিক ঘাটতির উপরে চাপ সৃষ্টি করে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, টাকার উপর প্রচুর চাপ পড়ে। যে কারণে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার দাম দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকছে। সেই সূত্রে বাড়িতে পড়ে থাকা সোনা রিসাইকেল করা গেলে এই আমদানি নির্ভরতা এবং ডলারের উপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, যদি ভারতের মোট সঞ্চিত সোনার মাত্র ১%-ও প্রতিবছর রিসাইকেল করে দেশের অর্থনীতিতে আবারও ফিরিয়ে আনা যায়, তাহলে বার্ষিক সোনা আমদানি একধাক্কায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। আর এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় রিফাইনারি এবং গয়না প্রস্তুতকারক শিল্পীদের নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের সাথে কোন কোন ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে? জানুন

না বললেই নয়, ভারতীয় সংস্কৃতিতে সোনাকে সবসময় রক্ষাকবচ হিসেবেই দেখা যায়। তাই ভাঙা কিংবা পুরনো ডিজাইনের গয়নাও বছরের পর বছর ধরে গচ্ছিত করে রাখা হয়। কিন্তু বর্তমানে রেকর্ড সোনার দাম এবং জুয়েলার্সদেরদের এক্সচেঞ্জ পলিসি গ্রাহকদেরকে আকৃষ্ট করছে। এমনকি সবথেকে বড় ব্যাপার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী এক বছর দেশবাসীকে সোনা কিনতে নিষেধ করেছেন। কারণ, ভারতের অর্থনীতির উপর দিনের পর দিন চাপ বাড়ছে। আর খনি থেকে সোনা তোলার থেকে পুরনো সোনা গলিয়ে ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনা তৈরি করা পরিবেশের পক্ষেও অনেক বেশি অনুকূল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই আহবানে দেশবাসী সাড়া দেয় কিনা।